আকিদুল ইসলাম সাদী
সন্ধ্যার আকাশে তখন একে একে তারা ফুটছে। দাদা আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, সবাই কল্পনা করো তো! ওই যে পাহাড়ের ওপরে ছোট্ট একটা গুহা । চারদিকে নিস্তব্ধতা। নেই কোন কোলাহল, নেই কোন শব্দ। জানো, সেখানেই শুরু হয়েছিল মানবজাতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের গল্প।
নাতিরা চুপচাপ শুনতে লাগল।
দাদা বললেন, মক্কার প্রায় কাছেই জাবালে নূর পাহাড়ের চূড়ায় ছিল হেরা গুহা। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায়ই সেখানে চলে যেতেন।
মক্কার মানুষেরা তখন মূর্তির সামনে মাথা নত করত, দুর্বলদের ওপর অত্যাচারে লিপ্ত হত, মিথ্যা বলত, বিভিন্ন অন্যায়ে ডুবে থাকত। এসব দেখে নবিজী খুব কষ্ট পেতেন। তিনি ভাবতেন, মানুষ কি এভাবেই জীবন কাটানোর জন্য সৃষ্টি হয়েছে? সত্য কোথায়? আমাদের প্রকৃত রব কে?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তিনি নির্জনে আল্লাহর ইবাদত ও গভীর চিন্তায় সময় কাটাতেন। খাবার শেষ হয়ে গেলে তিনি ঘরে ফিরে আসতেন। আবার কিছুদিনের খাবার নিয়ে পাহাড়ে চলে যেতেন। আর তাঁর প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) সব সময় তাঁকে সাহায্য করতেন।
সেই গুহার নীরব রাতগুলোতে তিনি জানতেন না, খুব শিগগিরই এখানেই পৃথিবীর প্রথম ওহি নাজিল হবে। এখান থেকেই শুরু হবে নবুওয়াতের মহান দায়িত্ব।
দাদা একটু থেমে নাতিদের দিকে তাকিয়ে বললেন, দেখো, বড় মানুষ হওয়ার আগে নিজের মনকে বড় করতে হয়। নির্জনে বসে নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবা, আল্লাহকে স্মরণ করা আর সত্যের খোঁজ করা— এগুলোই মানুষকে সত্যিকারের মহান বানায়।
নাতিরা নিঃশব্দে দাদার কথাগুলো শুনছিল। তাদের মনে হচ্ছিল, যেন তারাও হেরা গুহার সেই নীরব রাতের সাক্ষী।
দাদা বললেন, এই কাহিনী থেকে আমরা কি শিখলাম জানো? আমাদের শিক্ষা হলো- আত্মশুদ্ধি, সত্যের সন্ধান এবং আল্লাহর প্রতি গভীর মনোযোগ একজন মানুষকে মহান দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করে।
দাদা নাতি-নাতনিদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আজ তাহলে ওঠা যাক। আগামীকাল তোমাদের শোনাব প্রিয়নবীর জীবনের আরেকটি গল্প।
চলবে....
আইও/