সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ।। ২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


মায়ের স্নেহ, তারপর বিচ্ছেদের বেদনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: এআই

|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||

আচ্ছা দাদু ভাইয়েরা বলতে পার, পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন মানুষ কে?

সবাই একসঙ্গে উত্তর দিল, "মা!"

দাদা বললেন, ঠিক তাই। মায়ের মতো আপন কেউ হয় না। তাঁর কোলে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু আমাদের প্রিয়নবী খুব অল্প বয়সেই সেই আশ্রয় হারিয়েছিলেন।

দাদা একটু থামলেন। সবাই চুপচাপ তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।

শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মা ছিলেন আমিনা। তিনি তাঁর একমাত্র সন্তানকে খুব আদর করতেন। বাবাকে তো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের আগেই হারিয়েছিলেন। তাই মায়ের বুকটাই ছিল তাঁর পুরো পৃথিবী। মায়ের কোলে, মায়ের স্নেহে, মায়ের দোয়ায় ছোট্ট মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধীরে ধীরে বড় হচ্ছিলেন।

একদিন আমিনা ভাবলেন, তিনি ছেলেকে নিয়ে মদিনায় যাবেন। সেখানে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করবেন, আর স্বামী আবদুল্লাহর কবর জিয়ারত করবেন। মা-ছেলে আর তাঁদের বিশ্বস্ত খাদেমা উম্মে আইমান (রা.) মদিনার পথে রওনা হলেন। কিছুদিন সেখানে থেকে আবার মক্কার উদ্দেশে ফিরতে শুরু করলেন।

আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্য রকম। ফেরার পথে 'আবওয়া' নামের একটি নির্জন স্থানে আমিনা হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ছোট্ট মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। তিনি মায়ের কাছে বসে ছিলেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর প্রিয় মা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন।

ভাবতে পারো, বাচ্চারা? মাত্র ছয় বছরের একটি শিশু! বাবা নেই, আর এখন মাও নেই। ছোট্ট মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  মায়ের নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চারদিকে যেন নিস্তব্ধতা। পৃথিবীটা তাঁর কাছে কত একা আর নির্জন মনে হয়েছিল, তা ভাষায় বোঝানো যায় না।

দাদা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর আবার বলা শুরু করলেন। সেদিন উম্মে আইমান (রা.) যত্ন করে ছোট্ট মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মক্কায় ফিরিয়ে আনলেন। এরপর তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নিলেন তাঁর দাদা, আবদুল মুত্তালিব।

দাদা এবার নাতি-নাতনিদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা কি জানো, আল্লাহ কেন তাঁর প্রিয়নবীকে ছোটবেলা থেকেই এত কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে নিয়ে গেলেন?

কেউ উত্তর দিতে পারল না।

দাদা নিজেই বললেন, কারণ, আল্লাহ তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছিলেন, যিনি পৃথিবীর প্রতিটি এতিমের কান্না বুঝবেন, প্রতিটি অসহায় মানুষের কষ্ট অনুভব করবেন। যে নিজে দুঃখের স্বাদ পায়, সে অন্যের চোখের জল সহজেই বুঝতে পারে। তাই তো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বড় হয়ে এতিমদের মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়েছেন, গরিবদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, অসহায়দের আপন করে নিয়েছেন।

গল্প শেষ হলো। দাদা মৃদু হেসে বললেন, দেখো বাচ্চারা, জীবনে দুঃখ আসবেই। কখনো প্রিয় মানুষকে হারাতে হতে পারে, কখনো কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু মনে রেখো, আল্লাহ যার সঙ্গে থাকেন, সে কখনো একা নয়। ধৈর্য ধরবে, আল্লাহর ওপর ভরসা করবে, আর সব সময় ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে। তাহলেই একদিন আল্লাহ তোমাদেরও সম্মানিত করবেন।

নাতি-নাতনিরা নীরবে বসে রইল। তাদের ছোট্ট হৃদয়ে যেন আজ একটি বড় শিক্ষা গেঁথে গেল— দুঃখ মানুষকে ভেঙে দেওয়ার জন্য নয়; আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে চলার শক্তি দেওয়ার জন্য।

এই শিক্ষা নিয়ে সবাই ওঠে গেলো। আগামীকালের গল্প শোনার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।

চলবে...

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ