সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪ ।। ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ ।। ২৩ শাবান ১৪৪৫


জুমার দিন যে আমল করলে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবেন


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ফাইল ছবি

জুমার দিনটি মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক বিশেষ ইবাদতের সময়। এ দিনের ইবাদতের ফজিলত অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি।

জুমার দিনের ইবাদতের নির্দেশ ও গুরুত্ব তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন- হে মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের জন্য ডাকা হয়, তখন তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ। অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সুরা জুমআ : আয়াত ৯ থেকে ১০)

জুমআর দিনে বিশেষ তিনটি আমল:

এক, কুরআনের ১৮নং সুরা সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা।

দ্বিতীয়: আসর থেকে মাগরিবের মধ্যে নবি (সা:) এর ওপর দরূদ পড়া। আর শেষটি হলো আসর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকা।

সুরা কাহফ তেলাওয়াত: হজরত আবু সাঈদ খুদরি রা: রাসুলুল্লাহ সা: থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমআ থেকে অপর (পরবর্তী) জুমআ পর্যন্ত নূর হবে।

হজরত আলি রা: বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, সে আট দিন পর্যন্ত সর্বপ্রকার ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয় তবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্ত থাকবে।

দরূদ পড়া: হজরত আওস ইবনে আওস রা: বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন, তোমাদের সব দিন অপেক্ষা জুমআর দিনটিই হলো শ্রেষ্ঠ। এতে হজরত আদম আ: কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ দিনেই বিশ্ব ধ্বংসের জন্য শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে এবং এ দিনের পুনর্জীবিত করার জন্য দ্বিতীয়বার ফুঁক দেওয়া হবে। আর তোমাদের দরূদ নিশ্চয় আমার কাছে উপস্থিত করা হবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা:) আমাদের দরূদ আপনার কাছে কেমন করে উপস্থিত করা হবে, অথচ আপনি তখন মাটি হয়ে যাবেন? রাসুলুল্লাহ সা: উত্তরে বললেন, ‌আল্লাহর নবিদের শরীর জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বাইহাকি)

তৃতীয়: যাদুল মাআ`দ গ্রন্থে এসেছে, এ মর্যাদাবান মুহূর্তটি হলো- জুমআ`র দিন আছরের নামাজ আদায়ের পর (থেকে মাগরিব পর্যন্ত)। এ মতের পক্ষে হজরত আবু হুরায়রা রা: বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিস রয়েছে আর তা হলো- জুমআর দিন সূর্য উদয় হওয়ার পর (দুনিয়ায়) মানুষ এবং জিন ব্যতিত প্রত্যেক প্রাণীই কেয়ামতের ভয়ে আতংকিত থাকে। জুমআর দিনে এমন একটি বরকতময় সময় আছে, যাতে মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ্ তাকে তা দান করবেন। কা’ব বিন মালিক এ হাদিসের বর্ণনাকারী হজরত আবু হুরায়রাকে রা: জিজ্ঞেস করলেন, এটি কি প্রত্যেক বছরে হয়ে থাকে? আবু হুরায়রা রা:)বললেন, বরং এটি প্রত্যেক জুমআতেই রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করার, প্রিয় নবি সা: এর ওপর দরূদ এবং আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে ইবাদত-বন্দেগি করে অতিবাহতি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এনএ/


সম্পর্কিত খবর