আগামীতে স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিটি সেক্টরে একক প্রার্থী দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করেন এবং দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডে আগের সরকারের ‘ফ্যাসিবাদী’ কর্মকাণ্ড পুনর্বাসনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আগামী মাস থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীরা যে বেতন পান, তা দিয়ে মাসের অর্ধেক সময়ও চলা কঠিন। এরপরও পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার নানা ধরনের টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। তার অভিযোগ, বিদেশগামী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের নামে আবারও একটি ‘২৫ জনের সিন্ডিকেট’ তৈরি হয়েছে এবং এর সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চট্টগ্রামের নাগরিক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আলম বলেন, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত হলেও এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ও সড়কব্যবস্থার অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ফলে সামান্য চিকিৎসার জন্যও অনেক মানুষকে ঢাকায় যেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, বর্ষা শেষ হয়ে গেলে নীতিনির্ধারকরা নগরের সমস্যাগুলো ভুলে যান। আবার বর্ষা শুরু হলে জলাবদ্ধতার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ড শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় যুব শক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক আবু বকর মজুমদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজাউদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিনসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
আরএইচ/