আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের একটি বেসরকারি স্কুলে নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে করা এক মুসলিম ছাত্রীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।
ওই ছাত্রী তার মায়ের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করে স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে হেডস্কার্ফ বা হিজাব পরার অনুমতি চান। আবেদনে বলা হয়, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি একইভাবে হিজাব পরে স্কুলে যাতায়াত করেছেন।
তবে আদালত আবেদনটি খারিজ করে বলেন, হিজাব পরা ইসলামি বিশ্বাসের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন—এমন দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদনকারী পর্যাপ্ত আইনি বা ধর্মীয় উপকরণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ওই স্কুলে একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্যান্য ছাত্রীও প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ইউনিফর্ম অনুসরণ করেই স্কুলে আসছেন।
রায়ে আদালত বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি যদি সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে এবং বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এর উদ্দেশ্য হয় শৃঙ্খলা ও প্রতিষ্ঠানের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা, তাহলে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে অতিরিক্ত পোশাক যুক্ত করার আইনগত অধিকার কোনো শিক্ষার্থী দাবি করতে পারেন না।
হিজাব সংক্রান্ত এই মামলায় কর্ণাটক হাইকোর্টের ২০২২ সালের রায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। তবে আদালত একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, হিজাবকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত আসেনি।
ফলে নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে করা ওই ছাত্রীর আবেদন শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়। সূত্র: ইউএনএ নিউজ
আরএইচ/