শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬ ।। ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
যে কারণে প্রাণ দিতে হলো ইসলামী যুব আন্দোলন নেতাকে মোবাইল চুরির শাস্তি ২০০ রাকাত নফল নামাজ! দারুল উলুম দেওবন্দের ‘বাবুজ জাহির’ ভাঙার সিদ্ধান্ত স্থগিত যুব আন্দোলন নেতার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি দরুদ পাঠের ৫ ফজিলত ‘বুলবুলের খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে’ ইনসাফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদভিত্তিক নারী অধিকারবিষয়ক সেমিনার নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যায় গভীর উদ্বেগ পীর সাহেব চরমোনাইয়ের জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চারজন

ইনসাফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদভিত্তিক নারী অধিকারবিষয়ক সেমিনার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলাম নারীকে স্ত্রী, কন্যা, মা ও পরিবারের সদস্য হিসেবে যে সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার দিয়েছে, তা সমাজের সর্বস্তরে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমনকি দ্বীনদার শ্রেণির মধ্যেও নারীর প্রাপ্য অধিকার আদায়ে নানা ঘাটতি রয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ইনসাফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মসজিদভিত্তিক ‘শরীয়ার আলোকে নারী নির্যাতন রোধ ও নারীর ন্যায্য হক প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি মোহাম্মদপুরস্থ মোহাম্মাদিয়া হাউজিং লিমিটেডের কুবা মসজিদে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মুসল্লি অংশ নেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার প্রিন্সিপাল ও ইনসাফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইনসাফ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল বাশার।

সেমিনারের শুরুতে ইনসাফ ফাউন্ডেশনের পরিচিতি, উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তাহমীদুল মাওলা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ইসলাম নারীকে মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যা হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে সম্পত্তিতে নারীর অংশ প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজে নানা অনিয়ম রয়েছে।

বক্তারা বলেন, অনেক বাবা জীবদ্দশায় ছেলের নামে সম্পত্তি করে দিলেও মেয়ের নামে তা করতে আগ্রহী হন না। আবার বাবার মৃত্যুর পরও অনেক ভাই বোনের প্রাপ্য অংশ দিতে গড়িমসি করেন। এভাবে কখনো বাবা, কখনো ভাই এবং কখনো স্বামীর মাধ্যমে নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

তারা আরও বলেন, স্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং তার অধিকার নিশ্চিত করা স্বামীর দায়িত্ব। একইভাবে কন্যা ও বোনের সম্পত্তির অংশ শরিয়াহ অনুযায়ী যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজের সবাইকে সব ধরনের জুলুম, অন্যায় ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।

সেমিনারে আগত অতিথি ও মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা মনোযোগ দিয়ে বক্তাদের আলোচনা শোনেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী-পুরুষের পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের মসজিদভিত্তিক আয়োজন আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

উল্লেখ্য, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নারী অধিকার ও পারিবারিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইনসাফ ফাউন্ডেশন অডিটরিয়ামভিত্তিক সেমিনারের পাশাপাশি মসজিদভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করে আসছে।

শেষে জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার প্রিন্সিপাল ও ইনসাফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাহমুদুল হাসানের দোয়ার মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি হয়।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ