শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬ ।। ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
যে কারণে প্রাণ দিতে হলো ইসলামী যুব আন্দোলন নেতাকে মোবাইল চুরির শাস্তি ২০০ রাকাত নফল নামাজ! দারুল উলুম দেওবন্দের ‘বাবুজ জাহির’ ভাঙার সিদ্ধান্ত স্থগিত যুব আন্দোলন নেতার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি দরুদ পাঠের ৫ ফজিলত ‘বুলবুলের খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে’ ইনসাফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদভিত্তিক নারী অধিকারবিষয়ক সেমিনার নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যায় গভীর উদ্বেগ পীর সাহেব চরমোনাইয়ের জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চারজন

নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যায় গভীর উদ্বেগ পীর সাহেব চরমোনাইয়ের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নিয়মিত মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। রাত ৯টার দিকে এলাকার দীর্ঘদিনের কুখ্যাত সন্ত্রাসী শেখ সিফাত তার দলবল নিয়ে বুলবুলের ওপর হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বহু অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণেই মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের শেষ পর্যন্ত শাস্তি হবে কি না, তা নিয়ে আমরা এবং দেশের জনগণ সন্দিহান। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী ও তার সহযোগীদের শাস্তি প্রদানে কোনো ধরনের উদাসীনতা দেখা গেলে কিংবা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধীরা বেরিয়ে গেলে দেশব্যাপী ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার কারণে অপরাধীরা যেন আইনের আওতার বাইরে থাকতে না পারে, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। তাই দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাসিক বৈঠকে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, (খুলনা বিভাগ) প্রভাষক মুফতি আহমদ আব্দুল জলিল, (রাজশাহী বিভাগ) শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী, (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, (সিলেট বিভাগ) হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, (রংপুর বিভাগ) শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন, (মোমেনশাহী বিভাগ) হাফেজ মাওলানা প্রভাষক মো. আলমগীর হোসাইন তালুকদার, (কুমিল্লা বিভাগ) হাফেজ মাওলানা নুরুল করীম আকরাম এবং (ফরিদপুর বিভাগ) ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক শেখ আবু তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলী উল্লাহ (এমপি), সদস্য (শৃঙ্খলা বিভাগ) আলহাজ্ব মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, সদস্য (সমাজকল্যাণ বিভাগ) আব্দুর রহমান, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ লতিফ, সদস্য (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ) আতিকুর রহমান মুজাহিদ, মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, সদস্য (প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ) কে এম শরীয়তুল্লাহ, সদস্য (অডিট বিভাগ) অধ্যাপক নাছির উদ্দিন খাঁন, সদস্য (নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি বিভাগ) মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফীসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ