বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ ।। ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার ৬৬.৩%, সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে ৫৪.৫% কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে খেলাফত মজলিসের শোক ‘মাদরাসা ছাত্রদের ওপর পুলিশি হামলা বিগত ফ্যাসিবাদী আচরণ স্মরণ করিয়ে দেয়’ দারুল আরকামের ছাত্রদের লাঠিচার্জের ঘটনায় ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি মরুর বুকে সত্যবাদী কিশোর ‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’—রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমামের অভিনন্দন ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৭১ গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ৬ টানা বৃষ্টিতে দারুল উলুম দেওবন্দের ‘বাবুজ জাহির’ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত ১২ রবিউল আউয়াল উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ

‘হাফ প্যান্ট পরার সংস্কৃতি ইসলাম ও সভ্যতা বিরোধী’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| হাসান আল মাহমুদ ||

ইদানীং প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেদের হাফ প্যান্ট পরার প্রবণতা লক্ষা করা যাচ্ছে। বাসা-বাড়ির বাইরেও কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে হাফ প্যান্ট পরে হাঁটাচলা করতে। হুন্ডা-প্রাইভেটকার ড্রাইভ করতেও দেখা যাচ্ছে। মুসলিম তরুণদের হাফ প্যান্ট পরার এমন প্রবণতা কেন ও কী তার ক্ষতিকর দিক ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন দেশের তিনজন সমাজগবেষক শিক্ষাবিদ, লেখক ও বিজ্ঞ আলেম।

প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম তরুণরা হাফ প্যান্ট পরার দিকে কেন ঝুঁকছে এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, ‘প্রথমত ধর্মীয় অনুভূতির অভাব। ধর্মীয় অনুভূতি, ধর্ম চর্চার প্রাক্টিস তাদের মাঝে নেই। দ্বিতীয়ত ওয়েস্টান কালচার তদের কাছে ভালো লাগছে, অন্যদেরকে হাফ প্যান্ট পরা দেখে নিজেদের মাঝে এই কালচার ধারন করছে।’

ঢাবি এই অধ্যাপক বলেন, ‘এভাবে হাফ প্যান্ট পরে চলাফেলা করার দ্বারা আমাদের নিজেদের তথা বাংলাদেশের নিজস্ব কালচার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা যদি নিজেদের কালচার হারায়ে ফেলি, তাহলে আমরা আমাদের নিজস্বতা হারিয়ে ফেলব’।  

উপযুক্ত বয়সী তরুণদের হাফ প্যান্ট পরা কোনো সভ্যতা হতে পারে কি না? প্রশ্নে বিশিষ্ট লেখক ও সমাজগবেষক শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘এটি পশ্চিমা খারাপ সংস্কৃতিগুলোর একটি। আমাদের সমাজের এক শ্রেণির হীনমন্যতাগ্রস্ত মুসলমানরা অনুসরণ করার চেষ্টা করছ ‘।

‘এটা একই সঙ্গে ইসলামের নির্দেশিত সতরের বিধানকে লঙ্ঘন করে। আর মানুষের মঝে নির্লজ্জতা উস্কে দেয়। এটা কোনোভাবেই বরদাশত করার মত নয়। বাসার ভেতরে মা-বাবার সামনে পরাও ঠিক না। আর বাইরেতো এটা কোনোভাবেই উচত না’।– উল্লেখ করেন এই গবেষক।  

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের মুসলিম সংস্কৃতিতে ইসলামের পোষাক নীতিতে পুরুষ ও নারীর পোষাক সতর ঢেকে রাখার বিধান রয়েছে। এ ঢেকে রাখাটা যে কোনো পোষাকে হতে পারে। কারো লুঙ্গি হতে পারে, কারো সেলোয়ারে হতে পারে, কেউ ঢিলাঢালা প্যান্টও পরতে পারে। তবে, পুরুষের জন্য হাঁটুর নিচে না হইলেই হয়’।

এদিকে দেশের অন্যতম শীর্ষ মুফতি ও বিজ্ঞ আলেম মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ বলেন, ‘ইসলামে একজন পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। এতটুকু স্থান অন্য ব্যক্তিদের সামনে ঢেকে রাখা ফরজ। হাদিস শরিফে এসেছে, আমর ইবনে শুআইব (রহ.) তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলে কারিম (সা.) বলেন, ‘কোনো পুরুষ অপর পুরুষের সতরের দিকে তাকাবে না। পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত।’ (সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদিস: ৩২৩৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৭; সুনানে দারা কুতনী ১/৩২০)

তিনি বলেন, পোশাকের প্রধান উদ্দেশ্যই হল সতর ঢাকা। যে পোশাক এই উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ তা শরীয়তের দৃষ্টিতে পোশাকই হতে পারে না। হাঁটুর উপরে থাকে এমন হাফ প্যান্ট পরা ফরজের খেলাপ। এটা ইসলাম ও সভ্যতা বিরোধী কাজ। এসব কাজকে পরিত্যাগ করে পূর্ণরূপে সতর আবৃত হয় এমন পোশাক গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে ফরজ ত্যাগ করার গুনাহ হবে। যা জাহান্নামে যাওয়ার কারণও হতে পারে।

হাআমা/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ