শনিবার, ২৫ মে ২০২৪ ।। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ ।। ১৭ জিলকদ ১৪৪৫


শিয়া আকিদায় ভরপুর যে ‘নাশিদ’ আমরা ভাইরাল করছি নিজের অজান্তেই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।ফাহীম সিদ্দিকী।।

ইদানিং "أنا ثائر "Ana thayer" টাইটেলের একটি পাঁচ বছরের পুরনো "আহওয়ারুন" নামের নাশিদটি বেশ ভাইরাল হয়ে উঠেছে!

গায়ক ছেলেটি সিরিয়ার দামেস্কের একজন রাফেজী শিয়া মতালম্বী। ভিডিওতেও শিয়া মতবাদ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। যেখানে কারবালার চিত্রকে ধারন করা হয়েছে। শুরুতে বাম কোনায় কারবালা" লেখাটি দেখতে পাবেন। ভিডিওটির কিছু অংশের শুটিং করা হয়েছে ইরাকের কারবালায় ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুর মাজারে। যেখানে কারবালা দিবস আশুরায় "হায় হোসাইন, হায় হোসাইন" আহাজারীসহ শরীর চিরে রক্তের স্রোত বইয়ে দেওয়াসহ এমন নানান উদ্ভট অহেতুক কর্মকাণ্ড করে থাকে তারা।

মুনশিদ ছেলেটির নাম আল রাদূদ- হাদী ফাউর। ‘আল রাদূদ’ একটি উপাধি বিশেষ। যারা সাধারণত হযরত হুসাইন রা. বা শিয়া ইমামদের নিয়ে না'ত বা গজল পরিবেশন করে, তাদের এই উপাধী দেওয়া হয়। বাজনা সম্বলিত গানটি ফিলিস্তিন কিংবা জিহাদী কোনো নাশীদ নয়।

নাশীদটির একটি লাইন এমন, ‘আমরা কাসেমের (জেনারেল কাসেম সুলাইমানী যিনি ইরানের সর্বোচ্চ শিয়া সেনাপ্রধান আর মুরতাদ ছিলেন। তার যুদ্ধ ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল শিয়া মতাদর্শের পরিসর বাড়াতে। প্রায় ২ বছর আগে মার্কিন হামলায় নিহত হন। তার নেতৃত্বে অনেক সাহাবী রাদিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম এর কবর মোবারক ভেঙে গুড়িয়ে শিয়ারা ডাস্টবিন বানিয়েছে, নাউযুবিল্লাহ।) মত যুদ্ধ করে যাবো এবং আমরা হুসাইন এর দেয়া সীমারেখার মাঝে থাকবো(!) অথবা আমরা হুসাইন এর দলে থাকবো। দু’টো অর্থই মারাত্মক কুফরী। এই কাসিদা-কাব্যের লেখক সৈয়দ মুর্তজা সিন্ধি আবুল হোসাইন শিয়া শিশুদের কাছে প্রবাদতুল্য কাসিম বিন হাসান বিন আলি রা. এর কথা উল্লেখ করলেও (যিনি কারবালায় চাচা হুসাইন রা. এর সাথে আশুরায় ১০ বা ১৪ বছর বয়সে শহীদ হয়েছেন।) অতি আবেগি বর্তমান শিয়া প্রজন্ম কাসিম বলতে তাদের আইডল কাসিম সুলাইমানিকে গণ্য করে থাকে।

সব মিলিয়ে এ গানের অর্থ বড়ই ভয়াবহ! এছাড়া ভিডিওর মাঝে তাদের ১১তম ইমামের কবর দেখানো হয়, খেয়াল করে দেখবেন মোম জ্বলছিলো। তাদের ধারণা অন্যান্য নবীদের তুলনায় তাদের ১২ ইমাম অধিক মর্যাদার অধিকারী। শিয়ারা ১২ ইমামে বিশ্বাসী, তাদের ক্ষমতা বলে তারা যে কোন সময় শরী'আতের যে কোন বিধান পরিবর্তন করতে পারেন, হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল বানাতে পারেন, এজন্য তারা তাদের ইমামগণের নামের সাথে 'আলাইহিস সালাম’ বলে থাকে, অথচ এটা শরী‘আত বিরোধী, তাদের দাবি, ১২ ইমামের শেষ ইমাম হবেন ইমাম মাহদী, এজন্য তারা ইমাম মাহদী রাযি.কে আলাইহিস সালাম বলে।

ভিডিওটির শেষে দেখবেন বড় অক্ষরে আরবীতে লেখা- লাব্বাইকা ইয়া হুসাইন অর্থাৎ হে ইমাম হুসাইন আমরা হাজির। মাথায় বাঁধা কাপড়, বিভিন্ন ব্যানার, পতাকা তাতেও লেখা লাব্বাইকা ইয়া হুসাইন, লাব্বাইকি ইয়া যাইনাব!

আল্লাহর অশেষ রহমতে, শিয়া ফিতনা আমাদের দেশে উল্লেখযোগ্য হারে না থাকায় সাধারণ মানুষকে তাদের সম্পর্কে বোঝাতে বেশ বেগ পেতে হয়। যাদের হাতে লক্ষ লক্ষ মুমিন-মুমিনা হাজার হাজার মুসলিম শিশুদের রক্ত লেগে আছে।

আমি তো বলি মুমিনের এক নম্বর শত্রু এই শিয়ারা। শিয়া মতবাদ’ হলো মূলতঃ ইহুদী মতবাদের দ্বিতীয় সংস্করন। শিয়া আকিদা যদি সত্যি হয় তবে ইসলাম হবে মিথ্যা! আর ইসলাম যদি সত্যি হয় তবে শিয়া মতাদর্শের বাতুলতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। আল্লাহ ইসলাম বিরোধী শিয়াদের অসারতা থেকে মুসলমান‌দের হেফাজত করুন।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ