fbpx
           
       
           
       
ঈদুল আযহা ও কুরবানী বিষয়ক কিছু হাদীস
জুলাই ২১, ২০২১ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

মাওলানা মুহাম্মাদ ফজলুল বারী ।।

ঈদুল আযহা বা ইয়াওমুন নাহর। আমাদের দেশের ভাষায় কুরবানী ঈদ। ঈদুল আযহার দিনের প্রধান আমল-কুরবানী। কুরবানী শা‘আইরে ইসলাম তথা ইসলামী নিদর্শনাবলীর অন্যতম। এ শরীয়তে কুরবানীর যে পন্থা ও পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে তার মূলসূত্র ‘মিল্লাতে ইবরাহীমী’তে বিদ্যমান ছিল। কুরআন মাজীদ ও সহীহ হাদীস থেকে তা স্পষ্ট জানা যায়। এজন্য কুরবানীকে ‘সুন্নাতে ইবরাহীমী’ নামে অভিহিত করা হয়। সামনে আমরা ঈদুল আযহা ও কুরবানী বিষয়ক কিছু হাদীস পেশ করব ইনশাআল্লাহ।

ইসলামে দুই ঈদ 

ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহা হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

قَدِمَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا، فَقَالَ: مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ؟ قَالُوا: كُنّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيّةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: إِنّ اللّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا: يَوْمَ الْأَضْحَى، وَيَوْمَ الْفِطْرِ

হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করে মদীনায় আসলেন তখন মদীনাবাসীর দুটি উৎসবের দিবস ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এ দুটি দিবস কী? (কী হিসেবে তোমরা এ দু’দিন উৎসব পালন কর?) তারা বলল, জাহেলিয়াত তথা ইসলামপূর্ব যুগে আমরা এ দিনদুটিতে উৎসব পালন করতাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তোমাদেরকে এ দুটি দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন- ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৩৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ১৫৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২০০৬

এই হাদীসের ব্যাখ্যায় মাওলানা মনযূর নোমানী রাহ. তাঁর বিখ্যাত কিতাব ‘মাআরিফুল হাদীস’-এ লেখেন- ‘বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের উৎসবসমূহ প্রকৃতপক্ষে তাদের আকীদা-বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের মুখপাত্র এবং তাদের জাতীয় চরিত্রের দর্পণ হয়ে থাকে। এ কারণে একথা স্পষ্ট যে, ইসলামের আগে জাহিলিয়্যাতযুগে মদীনার লোকেরা যে দুটি উৎসব পালন করত এগুলো জাহিলী চরিত্র ও চিন্তা-চেতনা এবং জাহিলী ঐতিহ্যেরই দর্পণ ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; বরং হাদীসের শব্দমালা অনুযায়ী স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এ প্রাচীন উৎসবগুলোকে বাতিল করে দিয়ে এগুলোর স্থলে ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার দুটি উৎসব এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা এ উম্মতের তাওহীদী চরিত্র ও জীবনধারার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনার আয়না স্বরূপ। মুসলমানেরা যদি নিজেদের এ উৎসবগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা ও হেদায়েত অনুযায়ী উদযাপন করেন তাহলে ইসলামের প্রাণবস্তু ও এর মর্মবাণীকে বুঝা ও বুঝাবার জন্য কেবল এ দুটি উৎসবই যথেষ্ট হতে পারে।’ উপরোক্ত হাদীসের শিক্ষার আলোকে মুসলিমগণ নিজ নিজ এলাকার পট-উৎসবকেও বিবেচনায় আনতে পারবেন এবং নিজেদের করণীয় সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা লাভ করতে পারবেন।

ঈদ আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশিত

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

.أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى، جَعَلَهُ اللهُ عِيدًا لِهَذِهِ الْأُمّةِ

আমাকে ‘ইয়াওমুল আযহা’র আদেশ করা হয়েছে (অর্থাৎ, এ দিবসে কুরবানী করার আদেশ করা হয়েছে); এ দিবসকে আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য ঈদ বানিয়েছেন। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৫৭৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৯১৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৬৫

ঈদুল আযহার দিন নবীজী নামাযের পরে খেতেন

.كَانَ النّبِيُّ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ حَتّى يَطْعَمَ، وَلَا يَطْعَمُ يَوْمَ الأَضْحَى حَتّى يُصَلِّيَ

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কোনো কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না। আর ঈদুল আযহার দিন নামায না পড়ে কিছু খেতেন না। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৪২

ঈদুল আযহার দিন নামাযের পরে খাওয়ার কারণ সম্ভবত এ হবে যে, এ দিন যেন সবার আগে কুরবানীর গোশতই মুখে উঠে, যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক ধরনের দাওয়াত ও আপ্যায়ন। আর ঈদুল ফিতরের দিন সকালে নামাযের পূর্বেই কিছু খেয়ে নেওয়া সম্ভবত এ কারণে যে, আল্লাহর নির্দেশে রমযানের সারাটি মাস দিনের বেলা পানাহার বন্ধ ছিল, আজ যখন তাঁর পক্ষ থেকে দিনের বেলা পানাহারের অনুমতি মিলে গেল এবং এতেই তাঁর সন্তুষ্টি রয়েছে বলে জানা গেল তখন একজন আগ্রহী ও মুখাপেক্ষী বান্দার মত সকাল সকালই এসব নিআমতের স্বাদ গ্রহণ করলেন। আর বান্দার অবস্থা এমনটাই হওয়া চাই। (মাআরিফুল হাদীস)

এনটি

সর্বশেষ সব সংবাদ