fbpx
           
       
           
       
সামুদ্রিক প্রাণী ভক্ষণ: আল্লামা তাকি উসমানিসহ বিশেষজ্ঞ উলামাদের অভিমত
ডিসেম্বর ২৬, ২০২০ ১:৫৪ অপরাহ্ণ

কাউসার লাবীব
সাব-এডিটর

খাবারসামগ্রী হিসেবে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে অক্টোপাস, শামুক, ঝিনুক, স্কুইড ইত্যাদি এখন সহজলভ্য। এসব খাওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান জানা এখন মানুষের প্রায় জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই আওয়ার ইসলাম পাঠকের জন্য এ বিষয়ে ইসলামের  দৃষ্টিকোণ তুলে ধরা হলো-

জাস্টিস আল্লামা তাকি উসমানি তার প্রসিদ্ধ কিতাব ‘তাকমিলাতে ফাতহুল মুলহিমে’ বলেন, এটি প্রমাণসিদ্ধ কথা যে জলজ প্রাণীর মধ্য থেকে মাছ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী খাওয়া জায়েজ নেই। কেননা জলজ প্রাণীর মধ্য থেকে মাছই একমাত্র উত্কৃষ্ট হালাল বস্তু, আর বাকিগুলো নিকৃষ্ট ও হীন বস্তু। আর মাছের বৈধতার মধ্যে কোনো ফকিহের কোনো দ্বিমত নেই। এ ছাড়া অন্যগুলোর বৈধতা-অবৈধতার ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। আর শরিয়তের একটি সর্বসিদ্ধ মূলনীতি হলো, যে বস্তুর হালাল-হারাম নিয়ে দ্বিমত বা সন্দেহ হয়, সেখানে সতর্কতামূলক হারাম ও অবৈধতার দিকটিকেই প্রাধান্য দিতে হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকেও ইমাম আবু হানিফা রহ. ও সুফিয়ান সাওরি রহ.সহ যেসব ফকিহ জলজ প্রাণীর মধ্য থেকে মাছ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী খাওয়া জায়েজ নেই বলে ফতোয়া দিয়েছেন, তাঁদের কথাই সতর্কতামূলক আমলযোগ্য ও অগ্রাধিকারযোগ্য।

মাছ খাওয়া বিশেষজ্ঞ সব ওলাামায়ে কেরামের মতে হালাল। ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘তোমাদের জন্য দুই ধরনের মৃত জীব ও দুই ধরনের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃত জীব দুটি হলো মাছ ও টিড্ডি (পঙ্গপাল), আর দুই প্রকারের রক্ত হলো কলিজা ও প্লীহা।’ ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩১৪; মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং: ৫৬৯০; দারাকুতনি, হাদিস নং : ৪৬৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং : ২৮০৩

প্রথমে জানতে হবে জলজ কোন প্রাণীকে মাছ বলা হয়। মুফতি আমিমুল ইহসান মুজাদ্দিদি রহ.বলেন, ‘মাছ হলো মানুষের মধ্যে যে জলজ প্রাণীকে মাছ বলে গণ্য করা হয়। এটি এমন এক জলজ প্রাণী, যার অসংখ্য প্রকারভেদ ও আকৃতি রয়েছে।’-আত্তারিফাতুল ফিকহিয়্যা, পৃষ্ঠা ৩২৭

এবার আসা যাক মাছ ব্যতিত অন্য জলজপ্রাণী খাওয়ার বিষয়ে-

জলজ প্রাণীর মধ্য থেকে মাছ ছাড়া অন্য সব প্রাণী খাওয়া নাজায়েজ। -[বাদায়েউস সানায়ে : ৫/৩৫] এটি ইমাম আবু হানিফা ও সুফিয়ান সাওরি রহ.সহ অধিকাংশ ফকিহর অভিমত। ইবনে হাজর আসকলানি রহ.-এর মতে, শাফেয়ি মাজহাবেরও নির্ভরযোগ্য অভিমত এটি। -ফাতহুল বারি ৯/৪১৯

ইমাম মারগিনানি রহ. লিখেছেন, জলজ প্রাণীর মধ্য থেকে মাছ ছাড়া কোনো প্রাণী খাওয়া যাবে না। কেননা মহান আল্লাহ নিকৃষ্ট বস্তু হারাম করেছেন, আর মাছ ছাড়া পানির সব প্রাণীই নিকৃষ্ট। -হেদায়া ৪/৩৫৩

এছাড়া, বিভিন্ন ফতোয়া কিতাবে এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘মাছ ছাড়া অন্য কোনো জলজ প্রাণী খাওয়া জায়েয নেই।’ আর যেহেতু অক্টোপাস, স্কুইড (সামুদ্রিক বিশেষ প্রাণী), শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি মাছ নয়, তাই এগুলো খাওয়াও নাজায়েজ। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১১৪; আল-বাহরুর রায়েক: ৮/৪৮৫; হাশিয়ায়ে তাহতাবি: ৪/৩৬০ ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/১১৮

এ বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী বলেন, সামুদ্রিক এবং নদীর শুধু মাছ খাওয়া জায়েজ। অন্য কোন প্রাণী কোন খাওয়া জায়েজ নয়। সমুদ্র বিশেষজ্ঞগণ সমুদ্র ও নদীতে যেসব প্রাণীকে মাছ বলা হয়, শুধু তাই ভক্ষণ করা যাবে। এছাড়া অন্য প্রাণী ভক্ষণ বৈধ নয়। সেই হিসেবে কাঁকড়া, অক্টোপাস, স্কুইড এসব মাছ নয় তাই খাওয়া জায়েজ নয়।

ولا يأكل من حيوان الماء إلا السمك، وقال: مالك وجماعة من اهل العلم بإطلاق جميع ما فى البحر الخ (هداية، كتاب الذبائح-4/442، تبيين الحقائق-6/469)

ولا يحل حيوان مائى الا السمك (رد المحتار-9/441)

আরো পড়ুন: আবারও মাওলানা আযহারীর বিতর্কিত ফতোয়া!

সর্বশেষ সব সংবাদ