195985

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ‘জনকই’ তদন্ত কমিটির প্রধান!

আওয়ার ইসলাম: রোজার ঈদের আগে করোনার কারণে দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল এক সঙ্গে দেয়া হয়৷ আর তখন ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ ওঠে৷

বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অজুহাতের পর এখন জানা গেলো ‘সাফল্য দেখাতেই’ অতিরিক্ত বিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল৷ আর সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) আইসিটি বিভাগের পরিচালক এসএম শহিদুল ইসলাম৷

অবাক করা ব্যাপার হলো ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ ওঠার পর ডিপিডিসি তখন যে তদন্ত কমিটি করে তার প্রধান এই শহিদুল ইসলামই৷ তার সুপারিশের ভিত্তিকেই আবার কর্মকর্তাদের সাসপেন্ড এবং শোকজ করা হয়৷

গত মার্চ-এপ্রিল মাসের ভুতুড়ে বিল নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে৷ এরপর নানা ধরনের তদন্ত কমিটি হলেও গ্রাহকরা কেনো সমাধান পাননি৷ জরিমানা মওকুফ করা হলেও বাড়তি বিল ঠিকই দিতে হয়েছে৷ যারা অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন তাদের বিল পরে সমন্বয়ের কথা বলা হয়৷

তখন ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্স তাদের তদন্তে ৬২ হাজার ৯৬ জন গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি পায়৷ এরমধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোডের্র (আরইবি) ৩৪ হাজার ৬১১ জন গ্রাহক, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ১৫ হাজার ২৬৬ জন, ঢাকা ইলেট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ৫ হাজার ৬৫৭ জন, নর্দান ইলেট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) দুই হাজার ৫২৪ জন, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ৫৫৬ জন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দুই হাজার ৫৮২ জন অতিরিক্ত বিলের শিকার হন৷

আর ডিপিডিসি তদন্ত করে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চার জনকে সাময়িক বরখাস্ত, ৩৬ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়৷ এছাড়া আরও ১৩ জন মিটার রিডার এবং ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটরসহ মোট ১৪ জনকে চুক্তিভিত্তিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়৷ এটা করা হয় ডিপিডিসির আইসিটি বিভাগের পরিচালক এসএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে৷

কিন্তু তার করা শোকজের জবাবেই উঠে এসেছে আসল তথ্য৷ যারা শোকজ পেয়েছেন তারা জবাবে বলেছেন, এসএম শহিদুল ইসলামই তাদের অতিরিক্ত বিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ কোন এলকায় কত ভাগ বেশি বিল করতে হবে তাও বলে দেয়া হয়৷ তারা শহীদুল ইসলামের নির্দেশের ই-মেইল এবং তাদের কাছে পাঠানো কোন এলাকায় কত বাড়তি বিল করতে হবে তার নির্দেশনা সংক্রান্ত চার্টও জমা দিয়েছেন৷ তাতে দেখা যায় সর্বোচ্চ ৬৫ ভাগ বিল বেশি করতে বলেছেন তিনি৷ ৮ এপ্রিল এই নির্দেশ দেয়া হয়৷ জানা গেছে বেশি বিদ্যুৎ বিল আদায় করে ‘পারফরমেন্স বোনাস’ নেয়াই ছিলো এর উদ্দেশ্য৷

-এটি

Please follow and like us:
error1
Tweet 20
fb-share-icon20

ad