194539

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত

মুফতী মনজুরুল হক নোমান

যে কোনো ইবাদত করার জন্য সময় প্রয়োজন। সঙ্গে থাকতে হয় একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা। করোনার এ সময়ে ভিন্ন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।দফায় দফায় বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে সাধারণ ছুটি। কারো আবার বাসায় বসে অফিস করতে হচ্ছে। জ্যাম ঠেলে যাতায়াতে হচ্ছেনা সময় নষ্ট। হাতে প্রচুর সময়। এসময় ঘরে থেকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বড়ো সুযোগ। ইবাদতে মন-প্রাণ উজাড় করে দেওয়ার সুযোগ।

দুঃখের বিষয়, আমরা অধিকাংশ মানুষ এই সুযোগের অপব্যবহার করছি। অহেতুক, অনর্থক ও প্রয়োজনহীন কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। ‘সময়’ সে মূল্যায়ন করলেও দামি মূল্যায়ন না করলেও দামি। তবে যে সময় আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত হয় তার মূল্য অনেক বেশি।

আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের অন্যায় অপরাধ ক্ষমা করে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কিছু দিন এবং রাত দান করেছেন। শবে কদরের রাত, শবে বরাতের রাত, দুই ঈদের রাত, রমজানের আমল, আশুরার আমল, জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল ইত্যাদি। এইসকল দিনগুলোতে বান্দা তার ইখলাসপূর্ণ ইবাদতের মাধ্যমে নিজের গুনাহসমূহ মা’ফ চেয়ে করে আকুতি-মিনতি, আহাজারী ও রুনাজারী। বান্দার অশ্রুসিক্ত তাওবায় খুলে যায় আল্লাহর রহমতের বারী।

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন সম্পর্কে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন,
عن ابى هريرة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من ايام احب الى الله ان يتعبد له فيها منعشر ذى الحجة يعدل صيام كل يوم منها بصيام السنة و قيام كل ليلة منها بقيام ليلة القدر
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলার নিকট জিলহজ মাসের প্রথম 10 দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় আর কোন ইবাদত নেই। উহার প্রতিদিনের রোজা (৯ তারিখ পর্যন্ত) পূর্ণ এক বছরের রোজার সওয়াব। আর প্রতিটি রাত্রির ইবাদত শবে কদরের রাত্রির ইবাদতের সমতুল্য। (তিরমিজি)

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
قال رسول الله صلي الله عليه وسلم ما من ايام العمل الصالح فيهن احب الى الله من هذه الايام العشرة قالوا يا رسول الله ولا الجهاد فى سبيل الله قال ولا الجهاد فى سبيل الله الا رجل خرج بنفسه وماله فلم يرجع من ذلك بشيء
“জিলহজ্জ মাসের দশ দিনের নেক আমল আল্লাহ তা’ আলার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন জিহাদও কি অধিক প্রিয় নয়? রাসূল (সা.) বললেন, না জিহাদও নয়। তবে যারা জিহাদের ময়দানে নিজের জান- মাল দিয়ে লড়ছে এখনো ফিরে আসেনি তাদের বিষয়টি ভিন্ন। (বুখারী)

জিলহজ্জ মাসের নয় তারিখ তথা আরাফার দিনের কথা রাসূল (সা.) স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করে বলেন,
عن قتادة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صيام يوم عرفة احتسب على الله ان يكفر السنة التى قبله والسنة التى بعده
হযরত কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ, (সা.) বলেন, আমি আল্লাহ পাকের দরবারে আশা রাখি যে, আরাফাতের দিবসের রোজার দ্বারা তিনি এক বৎসরের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল গুনাহ মা’ফ করেয দিবেন। (মুসলিম শরীফ)

অন্য হাদীসে রাসুল সা. এরশাদ করেছেন, ঈদের পূর্বের রাত্রে আল্লাহর ইবাদত কারীর দিল (অন্তর মৃত হবে না, যেদিন সমস্ত দিল মরে যাবে। অর্থাৎ ঈদের রাত্রি জাগরণকারী কেয়ামতের মহা ভয়ঙ্কর অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি লাভ করবে যখন মানুষ ভীষণ হতাশাগ্রস্ত হবে। (মিশকাত শরীফ)

একটি কথা সবার জানা থাকা উচিত কোন গুনাহে আমার লাভ নেই এবং কোন ইবাদতে আমার ক্ষতি নেই। নেকিতে আমার চির সফলতা আর গুনাহে আমার চির লাঞ্ছনা।

লেখক: প্রিন্সিপাল, মাদরাসা দারুত তাক্বওয়া, গাছা, গাজীপুর।

-এটি

ad