194141

হিফজ মাদরাসা খোলার ব্যাপারে যাদের অব্যাহত চেষ্টা রয়েছে

সুফিয়ান ফারাবী
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট>

নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ দেশের সব মাদরাসা। বন্ধ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু আলেমের আবেদনে বিশেষ বিবেচনায় মাদরাসাগুলোতে শুধুমাত্র হিফজুল কুরআন বিভাগ খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের আন্তরিকতার পাশাপাশি আলেমের বিশেষ ভূমিকা চিরস্মরণীয়। মাদরাসা খোলার বিষয়ে অব্যাহত চেষ্টা করেছেন বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়াহর সহ-সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা ড. মুশতাক আহমেদ, একই সংগঠনের মহাসচিব ও আফতাবনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মোহাম্মদ আলী, শাইখুল হাদিস মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমূদ ও রেলওয়ে জামেয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুজিবুর রহমান।

এ বিষয়ে আওয়ার ইসলামকে মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমূদ জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আমাদের নিকট মাদরাসার পরিচালকরা যোগাযোগ করছিলেন। শিক্ষার্থীদের সংগঠন কথা তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে হেফজুল কোরআন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা জানাচ্ছিলেন।

‘এজন্য আমরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি আমরা বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করব। আমাদের মধ্যে মুফতি মোহাম্মদ আলী সাহেবের উৎসাহ বেশি দেখেছি। পরবর্তীতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এ বিষয়ে লিখিত আবেদন জমা দেই। আলহামদুলিল্লাহ তিনি আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি অনুধাবন করে হিফজুল কুরআন বিভাগ চালু করার অনুমতি দিয়েছেন। এজন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি’

শুধুই মৌখিক অনুমোদন নাকি প্রজ্ঞাপন জারি হবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন কোনো ঘোষণা দেন তখন স্বাভাবিকভাবে এটা কার্যকর হয়ে যায়। তিনি গতকাল রাতে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই লিখিত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে।

মাদরাসায় কতটুকু স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব?

বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়ার মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী আওয়ার ইসলামকে বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে অনেকে প্রচেষ্টা করেছেন। আমরাও কাজ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ সরকারের আন্তরিকতা ও বিশেষ করে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতায় আপাতত মাদরাসাগুলোতে হিফজুল কোরআন বিভাগ খোলার অনুমতি পাওয়া গেছে। আশা করছি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলে আবারো সকল বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা যাবে।

‘আমরা লিখিত আবেদনে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করব বলে সরকারকে জানিয়েছি। আশা করছি দেশের সকল মাদ্রাসাগুলো আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।’

এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের মাদরাসায় দিতে আগ্রহী হবে?

মুফতি মোহাম্মদ আলী জানান, যারা পবিত্র কুরআন মুখস্থরত, তাদের পরিবার অবশ্যই তাদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল থাকবেন। নিয়মতান্ত্রিকতার বিষয়টি তাদের অজানা নয়। তাই আমাদের ধারণা অভিভাবকরা বৃহৎ কল্যাণের কথা চিন্তা করে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে রাখবেন না।

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনাদের কোন নির্দেশনা আছে কি?

মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ বলেন, শিক্ষকদের নিকট আমাদের আকুল আবেদন যেভাবে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে অনুমোদন এনেছি আপনারাও সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মান্য করার মাধ্যমে দেশের মাদরাসাগুলোর ভাবমূর্তি বজায় রাখবেন। শিক্ষার্থীদের নিকট নির্দেশ রইল, স্বাস্থ্য সচেতনতা সকল সমস্যার সমাধান। তোমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। কখনোই অসচেতনতা কাম্য নয়। ব্যক্তিগতভাবে কেউ অসুস্থ বোধ করলে তাৎক্ষণিক বিষয়টি শিক্ষক-অভিভাবককে জানাবে। তাহলে আশা করি কোন সমস্যা হবে না।

-এএ

ad