192006

জিরি মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা তৈয়ব রহ. আমাকে ঋণী করে গেলেন

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।।

বিদগ্ধ আলেমে দ্বীন, প্রখ্যাত ওয়ায়েয, শায়খ হারদূয়ী রহ. এর খলিফা আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়ব রহ. ইন্তেকালের আগে আমাকে জিরি জামিয়া আরাবিয়ার মজলিশে শুরা (পরিচালনা পরিষদ) এর সদস্য মনোনীত করেন। আমার জান্নাতবাসী বাবা মাওলানা হাবিবুল্লাহ রহ. ছিলেন দীর্ঘদিন যাবত জিরি মাদরাসার মজলিশে শুরার সদস্য। গত ১০ মার্চ বাবার ইন্তেকালের পর শুণ্যস্থানে মুহতামিম সাহেব আমাকে মনোনয়ন দান করেন।

আল্লামা তৈয়ব রহ. আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। বিগত ২৫ বছর যাবত তিনি আমাকে মাদরাসার সালানা জলসায় বক্তা হিসেবে দাওয়াত দিয়ে এসেছেন। বাবার ইন্তেকালের খবর শুনে অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি আমাদের গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন। বাবার নামাজে জানাজার ইমামতি করার জন্য আমি হযরতকে তিনবার অনুরোধ করি। বারবার তিনি বলেন, আপনি বেশি হকদার এবং উপযুক্ত সন্তান থাকলে অন্য কেউ জানাজার নামাজে ইমামতি করা উচিত নয়। পরে অবশ্য আমি দায়িত্ব পালন করি। আমরা জানতাম না মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে তিনিও জান্নাতবাসী হয়ে যাবেন।

তার ঐকান্তিকতা ও মুহাব্বতের কথা আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। আল্লাহ তায়ালা হযরতকে জান্নাতুল ফিরদাউসে আ’লা মাকাম নসীব করুন, আমিন।

এখানে একটি কথা বললে অপ্রাসঙ্গিক হবে না চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামিয়া ওবায়দিয়ার সাবেক প্রধান পরিচালক, শায়খে তরিকত, বিজ্ঞ ওয়ায়েয হযরত শাহ সূফী আল্লামা শাহ জমিরউদ্দীন রহ. -এর অকৃত্রিম মুহাব্বত ও স্নেহ পেয়ে আমি কৃতার্থ হয়েছি। হযরত আমাকে নিজ সন্তানের মত আদর করতেন। আমার কোন ধরনের উপযুক্ততা ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও হযরত আমাকে চার তরিকার লিখিত ইজাযত দান করেন এবং জামিয়া ওবায়দিয়ার মজলিশে শুরার সদস্য মনোনীত করেন।

ইন্তেকালের ৮/১০ দিন আগেও মাদরাসার দফতরে একসাথে সকালের নাস্তা সেরেছি। আমার প্লেটে বারবার মুরগীর স্যুপ তুলে দেন। এই বদান্যতা, মুহাব্বত ও সহৃদয়তা কী করে ভুলি? হে আল্লাহ আমার শায়খকে জান্নাতুল ফিরদাউসে উচ্চ মাকাম নসীব করুন।

পিতৃতুল্য এসব মনীষী একেক করে বিদায় নিচ্ছেন। পৃথিবী শুণ্য হয়ে যাচ্ছে। হৃদয়ের হাহাকার ধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। অজানা শঙ্কায় মনে আতঙ্ক ধরেছে। শায়খুল ইসলাম হযরত আল্লামা আহমদ শফী, ঢাকা বারিধারা মাদরাসার প্রধান পরিচালক আল্লামা নূর হোসাইন কাছেমী আমার শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদ, আল্লামা মুফতি আব্দুল হালিম বোখারী, শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও আল্লামা সুলতান যওক নদভী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। আমার প্রতি রয়েছে তাদের নেকনযর ও স্নেহছায়া।

আল্লাহ তায়ালা আমার মুরব্বিদের হায়াতে তাইয়েবা দান করুন এবং আমাদের মাথার ওপর তাদের স্নেহছায়া দীর্ঘায়িত করুন, আমিন।

-এএ

ad