ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, অনেকে আপনাদেরকে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে, অনেকে সবুজ বাংলার স্বপ্ন এবং ডিজিটাল বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমরা তা না বলতে পারলেও দেশের আঠারো কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা হাতপাখায় আস্থা রাখুন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি'২৬) সকালে আমতলী পৌর মুক্ত মঞ্চে বরগুনা-১ আসনের হাতপাখার নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপর্যুক্ত কথা বলেন পীর সাহেব চরমোনাই।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বলেন, বরগুনা জেলায় ২টা আসন আছে। এর মধ্যে বরগুনা-১ জয়ের ব্যাপারে আমরা দৃঢ় আশাবাদী;বাকি আল্লাহর ইচ্ছা। এখানে অন্যান্য প্রার্থীদের লোকজন গোপনে এসে আমার সাথে দেখা করে বলেছে যে, এখানে হাতপাখা বিজয়ী হবে। সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার লোকেরাও আমার সাথে দেখা করে বলেছে যে, এখানে হাতপাখা বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি মরহুম পীর সাহেব চরমোনাইর কথা উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তিনি বলতেন দক্ষিণাঞ্চলে হাতপাখার বিজয়ধ্বনি বঙ্গোপসাগরের তীর থেকেই শুরু হবে। সে হিসেবে আমরা এখানে আশাবাদী।
হাতপাখার কর্মীদের উদ্দেশ্য করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আপনারা যেভাবে নিজেদের সময় ও শ্রম ব্যয় করে মাঠে নেমেছেন, আল্লাহ আপনাদের বিজয় দান করবেন ইনশাআল্লাহ।
অন্যান্য প্রার্থীদের উদ্দেশ্য করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করবেন না। সন্ত্রাসী পথে হাটবেন না। আমাদের কর্মীদের সভ্য শান্ত দেখে ভুল করবেন না, এরা ফুঁসে উঠলে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষিপ্ত হবেন। আমাদের কাজে ডিস্টার্ব করবেন না।
হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্য করে ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, চরমোনাই খবর নিয়ে দেখেন সেখানের সংখ্যালঘুরা মায়ের কোলে আছেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর অনেকে বাজারঘাট ও অন্যান্য দখলদারির কাজে লিপ্ত ছিলো, আমরা তখন সারাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় পাহারাদারি করেছি। হাতপাখা বিজয়ী হলে আপনারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও অধিকার ভোগ করতে পারবেন। সুতরাং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাতপাখাকে বিজয়ী করুন।
সভাপতির বক্তব্যে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালীউল্লাহ বলেন, আমি শাসক হতে চাইনা, আপনাদের খাদেম হতে চাই। পীর সাহেব চরমোনাই আপনাদের খেদমত করার জন্য আমাকে মনোনীত করেছেন। আপনারা যদি আমাকে সমর্থন করেন, আমাকে সহযোগিতা করেন, আমাকে সাহস যোগান, তাহলে আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই। প্রতিহিংসার বদলে সুস্থ ধারার রাজনীতি কায়েম করতে চাই। মামলাবাজির অবসান ঘটাতে চাই। সন্ত্রাস-চাদাবাস রুখে দিতে চাই। একটি শিক্ষাবান্ধব ও কর্মসংস্থানবান্ধব উন্নত বরগুনা গড়ে তুলতে চাই।
এছাড়াও নদীর ওপর ব্রীজ, বরগুনা সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি সদরসহ তালতলী ও আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার মান উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও বন্যা ও নদী ভাঙন রোধে কার্যকর টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানান উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দেন মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, বরগুনা-০২ আসনের এমপি প্রার্থী এবং বরগুনা জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান কাসেমী, কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনিটরিং টীমের সদস্য (বরগুনা-পটুয়াখালী) ও ইসলামিক স্কলার মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ, বরগুনা জেলা উপদেষ্টা মাওলানা ওমর ফারুক জিহাদী, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস শাকুর সহ বরগুনা জেলা ও আমতলী উপজেলার নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এমএম/