শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ২৩ মাঘ ১৪৩২ ।। ১৮ শাবান ১৪৪৭


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২২ দফা ইশতেহারে যা রয়েছে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক ইশতেহার ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলটি জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ টানা প্রায় ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন বাংলাদেশকে একটি গভীর রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নিমজ্জিত করেছে। উন্নয়নের বাহ্যিক বয়ানের আড়ালে এই সময় রাষ্ট্রব্যবস্থা ক্রমে দমনমূলক, বৈষম্যমূলক ও জবাবদিহিহীন রূপ লাভ করে।

আরও জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে শত শত জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গায়েবি মামলা ও কারাগারে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ‘আয়নাঘর’-সহ গোপন আটক কেন্দ্রের অস্তিত্ব রাষ্ট্রীয় গুম তদন্ত কমিশনের নথিতেও উঠে আসে। শাপলা চত্বর, হেফাজতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড থেকে বহু দূরে সরিয়ে দেয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা দমনমূলক আইনের অপব্যবহার করা হয়। সাংবাদিক, আলেম, শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের করে ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

দলটি জানায়, এই সময় নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যত ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। একতরফা নির্বাচন, রাতের ভোট, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জলীয় ব্যবহার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয় এবং গণতন্ত্রকে একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্প লুটপাট, ব্যাংক কেলেঙ্কারি, খেলাপি ঋণের পাহাড়, ডলার সংকট ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ চরমভাবে দলীয়করণে আক্রান্ত হয়। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অবস্থান স্পষ্ট-শুধু সরকার পরিবর্তন নয়; প্রয়োজন, গুম-খুন-দুর্নীতির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান। সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক বিচার এবং ইসলামী নীতি ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে মৌলিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার। প্রতিশোধ নয়-সত্য, ইনসাফ ও জবাবদিহিতাই হবে আগামীর বাংলাদেশ।
২২ দফা ইশতেহার

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২২ দফার মধ্যে রয়েছে সুষম উন্নয়ন ও নাগরিক জীবনের মৌলিক অধিকার, সুশাসন ও দুর্নীতীমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি, সার্বজনীন, ঐক্যবদ্ধ ও নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও তরুণদের জন্য আমাদের অঙ্গীকার, ধর্মীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় নীতি, অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, কওমী শিক্ষা ব্যবস্থা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ওয়াকফ ও সামাজিক ন্যায়, কৃষক, শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ, নারী অধিকার ও শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ু, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ, রেমিটেন্স ও প্রবাসী বাংলাদেশি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি ও অপচয়, পেশিশক্তি ও টেন্ডারবাজি, গুম, খুন ও অপহরণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন ও ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচার।

দলটির জানিয়েছে, আমরা শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকারভিত্তিক সমাজের পক্ষে। প্রতিটি নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও সম্মান সুরক্ষিত থাকবে এবং ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-সমতল-পাহাড় নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে। রাজনীতিকে ব্যবসা নয়, আমানত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। দলীয় লুটপাট ও স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটিয়ে নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দলটির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, নারীর প্রতি কোনো বৈষম্য থাকবে না। শিক্ষা, ব্যবসা, চাকরি ও সামাজিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং দায়িত্ব ও মর্যাদার সুস্পষ্ট কাঠামো বজায় রাখা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমীর মাওলানা কোরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা হাসান জুনায়েদ প্রমুখ।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ