শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ২৩ মাঘ ১৪৩২ ।। ১৮ শাবান ১৪৪৭

শিরোনাম :
বিএনপির ইশতেহারে কওমি সনদের স্বীকৃতি পূর্ণ বাস্তবায়নের ঘোষণা বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে: তারেক রহমান এপস্টেইন শয়তানতুষ্টি ও শয়তানি আরাধনার একটি রূপ: শায়খ আহমাদুল্লাহ পাঁচ অধ্যায়ে বিএনপির ইশতেহার প্রকাশ ইনকিলাব মঞ্চের আব্দুল্লাহ আল জাবের টিয়ারশেলে আহত কওমি সিলেবাস পরিমার্জনের ঘোষণা জামায়াতের, মিশ্র প্রতিক্রিয়া যমুনা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি জামায়াতকে ভোট দেওয়া কোনোভাবেই জায়েজ নয়: হেফাজত আমির মুহতামিমকে হত্যাচেষ্টা, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ পটিয়া মাদরাসা কর্তৃপক্ষের আস্থা রাখুন, হাতপাখা মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে: পীর সাহেব চরমোনাই

মুহতামিমকে হত্যাচেষ্টা, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ পটিয়া মাদরাসা কর্তৃপক্ষের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের নদভীকে একটি সন্ত্রাসী চক্র হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। 

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) জামিয়া মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। মাদরাসার মুহতামিম, শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ জামিয়ার নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তাদের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল জামিয়ার সাধারণ ছুটি চলাকালে সম্মানিত মুহতামিম সাহেবকে হত্যা করে জামিয়া দখল করা। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত এবং জামিয়ার সচেতন ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের তাৎক্ষণিক সাহসী ভূমিকার কারণে একটি ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে জামিয়া রক্ষা পেয়েছে। ঘটনার সময় পাঁচজন সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে অস্ত্রসহ আটক করা হয় এবং তারা বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আটককৃতদের পরিচয়ে বলা হয়-
(১) আজগর হোসেন (কারাতে মাস্টার আজগর)। 
(২) নুর হুসাইন — বাড়ি বাঁশখালী; খরনা ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষক।
(৩) আশরাফ —খরনার স্থানীয় লোক। পূর্বেও জামিয়ার বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। 
(৪) শোয়াইব জিয়া। (জামিয়ার কোয়াটারে অবস্থানকারী শিক্ষকপুত্র)
(৫) সাঈদ বিন আবুল কালাম। খরনার স্থানীয় লোক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দা, ছুরি, হকিস্টিক, লাঠি, মাস্ক, মারবেলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সময় জামিয়ার বাইরে আরও কিছু দুষ্কৃতিকারী অবস্থান করছিল বলে নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানা গেছে, যারা ভেতরে থাকা সন্ত্রাসীদের আটকের খবর পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তাদের স্বীকারিক্ত অনুযায়ী, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযার নেতৃত্বাধীন একটি চক্র পূর্বেও জামিয়া পটিয়ার বিরুদ্ধে একাধিকবার সহিংস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই হামলার ঘটনাও সংঘটিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামিয়ার বহিষ্কৃত শিক্ষক সাবের মাসূমের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার পেছনে পর্দার আড়ালে আরও শক্তিশালী ইন্ধনদাতা ও মদদদাতা থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে—এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুধু একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়; বরং এটি ধর্মীয় শিক্ষা, শান্তি, নিরাপত্তা ও দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র। আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া কখনোই অন্যায়, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করেনি—ভবিষ্যতেও করবে না, ইনশাআল্লাহ।

তারা বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—
(১) এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ষড়যন্ত্রকারী ও ইন্ধনদাতাকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
(২) জামিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
(৩) ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পরিশেষে, আমরা মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে ফরিয়াদ জানাই—তিনি যেন আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়াসহ সকল দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও উলামায়ে কেরামকে তাঁর কুদরতি হেফাজতে রাখেন এবং সকল ষড়যন্ত্রকারীর চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেন।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ