নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরবি ভাষায় দক্ষ জনশক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে প্রথমবারের মতো ‘অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কারিকুলাম প্রণয়ন করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে আরবি ভাষাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর পথ তৈরি হবে। এসব দেশের মধ্যে ২২টি দেশে আরবি প্রধান ভাষা এবং ২৮টি দেশে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এ লক্ষ্যে ‘অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) প্রণয়ন-পরবর্তী দিনব্যাপী ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসডিএর সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, প্রশিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং এনএসডিএর কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
কর্মশালায় আরবি ভাষা শেখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ বিষয়বস্তু, শিখনফল ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি প্রস্তাবিত কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ নেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকে মানসম্মত, স্বীকৃত ও কর্মসংস্থানমুখী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শিল্পখাত, একাডেমিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত অংশগ্রহণে যুগোপযোগী কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও প্রশিক্ষণ কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের অঙ্গিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন ভাষার মানসম্মত কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভাষা দক্ষতা এখন শুধু যোগাযোগের সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও ভাষা দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের আরবি ভাষায় দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
এ উদ্যোগের ফলে আরবি ভাষা প্রশিক্ষণে একটি অভিন্ন ও মানসম্মত কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের যেকোনো নাগরিক নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী আরবি ভাষা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও দক্ষতার স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা তৈরি হবে।
অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে ‘অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী আরবি ভাষার প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করছে এনএসডিএ। এরই মধ্যে ইংরেজি ও জাপানি ভাষার ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে আরবি ভাষার পাশাপাশি চীনা, কোরিয়ান ও ইতালিয়ান ভাষার ওপরও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে।
কর্মশালায় এনএসডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ড বিভাগ ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ এনামুল হক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন খান, আরবি ভাষা প্রশিক্ষক মো. নুরুদ্দীন, মারকাজুল লুগাতিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মহিউদ্দিন ফারুকী, কাতার দূতাবাসের সিনিয়র অনুবাদক হামেদ জামিল হোসাইন এবং জামিয়াতুল উস্তায শহিদুল্লাহ ফজলুল বারির আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক আলমগীর মুরতাজা।
আইও/