সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ ।। ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২২ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
আল্লামা গহরপুরীকে নিয়ে এমপি এম এ মালেকের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের নিন্দা সড়ক প্রশস্তকরণে ভারতে মসজিদ ভাঙন, ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা ‘যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কাজ করছে ১১০ প্রতিষ্ঠান’  কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২, আহত ৬ হজের সফর শেষে স্বাস্থ্য সচেতনতায় করণীয় এক দিনে হাম ও উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যপ্রাচ্যসহ ইইউভুক্ত দেশগুলোতে খাদ্যপণ্য রফতানি হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী যারা হিন্দু-মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করছে, তারা চরমভাবে ব্যর্থ হবে: ইন্দ্রেশ কুমার ২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ শিক্ষা কারিকুলামের পরিমার্জন চলমান, ২০২৮ সালে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

মানবতা পুনর্জীবিত করতে খ্রিস্টান-মুসলিমকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান পোপের


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সহিংসতা, মানবিক সংকট ও সামাজিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে খ্রিস্টান ও মুসলমানদের একসঙ্গে মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ লিও চতুর্দশ। তিনি বলেছেন, দুই ধর্মের অনুসারীদের উচিত ‘শীতল হয়ে যাওয়া মানবতাকে পুনর্জীবিত করা’ এবং উদাসীনতাকে সংহতিতে রূপান্তর করা।

ভ্যাটিকানে আয়োজিত এক আন্তঃধর্মীয় সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। “Human Compassion and Empathy in Modern Times” শীর্ষক ওই সংলাপে মানবিক সহমর্মিতা, আন্তধর্মীয় বোঝাপড়া ও বিশ্বশান্তির বিষয় গুরুত্ব পায়।

পোপ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত হলেও প্রতিনিয়ত যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের ছবি দেখতে দেখতে অনেকের হৃদয় অনুভূতিহীন হয়ে পড়ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অন্যের কষ্টকে ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রবণতা মানবিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইসলামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মুসলিম ঐতিহ্যে সহমর্মিতা ও দয়া আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে খ্রিস্টধর্মেও দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়। দুই ধর্মের এই অভিন্ন মানবিক শিক্ষা বিশ্বে শান্তি ও সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পোপ লিও জর্ডানের শরণার্থী গ্রহণের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, নিপীড়িত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আজকের বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক দায়িত্ব। তিনি ধর্মীয় নেতাদের প্রতি বিভাজন নয়, বরং সহযোগিতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া, ধর্মীয় মেরুকরণ ও ঘৃণার রাজনীতির মধ্যে পোপের এ বক্তব্য আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এটি মুসলিম-খ্রিস্টান সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভ্যাটিকানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থানেরও ধারাবাহিকতা।

সূত্র: ভ্যাটিকান নিউজ

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ