মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ।। ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৭ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসার পরিচালকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন  প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে মাওলানা ইসলামাবাদী-ইকরামের নেতৃত্বাধীন জমিয়ত ‘তাহাফ্ফুজে ফিকরে আকাবির’ মহাসম্মেলন ৬ আগস্ট, প্রধান অতিথি দেওবন্দের মুহতামিম এই বাংলাদেশ দেখার জন্য বুলেটের সামনে দাঁড়াইনি: শায়খে চরমোনাই ‘হিজবুল বাহারের জাকাত’ নামে ধর্মীয় অনুষ্ঠান শরিয়তসম্মত নয়: মারকাযুদ দাওয়াহ কেন প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ বর্জন, কী বলছে জমিয়ত নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম মসজিদ পরিদর্শনে রাবেতা মহাসচিব জাকাত বোর্ডকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নতুন রাজনৈতিক প্রধান বেছে নিলো হামাস ‘চলো সংসদ’ ঘিরে উত্তাল দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট

মাত্র ৮৮ দিনে হাফেজ হলেন ৯ বছরের আদনান


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মাত্র ৮৮ দিনে পবিত্র কুরআনুল কারিম সম্পূর্ণ মুখস্থ (হিফজ) করে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ৯ বছর বয়সী শিশু মো. আদনান। তার এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।

মো. আদনান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মো. তাদির ইসলাম। বর্তমানে সে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার রাণীর বাজারে অবস্থিত জামিয়া রাহমানিয়া হাজী জনাব আলী মাদরাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র।

জানা যায়, গত দুই বছর ধরে আদনান একই মাদরাসায় অধ্যয়ন করে নূরানী ও নাজেরা শিক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে। চলতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সে হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়। এরপর অক্লান্ত পরিশ্রম, নিয়মিত অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে মাত্র ৮৮ দিনেই সম্পূর্ণ ৩০ পারা পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার গৌরব অর্জন করে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু হিফজ সম্পন্ন করাই নয়, অন্যান্য হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতোই আদনানের ৩০ পারা কোরআনের ইয়াদ (মুখস্থ) অত্যন্ত দৃঢ়। ইনশাআল্লাহ, চলতি বছরই সে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের হিফজ বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

মাদরাসাটি লজিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় গত দুই বছর আদনান স্থানীয় মো. শামীম মিয়ার বাসায় থেকে খাবার গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সে মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম-এর বাসায় অবস্থান করে খাবার গ্রহণ করছে।

আদনান মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নুরুল আমিন-এর আপন ভাতিজা। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই আদনান অত্যন্ত অধ্যবসায়ী ও মনোযোগী। বাড়িতে আসা-যাওয়ার সময় নৌকা কিংবা সিএনজিতে বসেও সে নিয়মিত কোরআনের সবক শুনত এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেত।

মাদরাসার শিক্ষকরা জানান, আদনান অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র ও মুয়াদ্দাব ছাত্র। পড়া শুনানোর সময় কোনো দিন সামান্য ভুল হলে সে সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে ফেলত এবং ভুল সংশোধনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করত। তার এই আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও আল্লাহর কালামের প্রতি ভালোবাসাই তাকে অল্প সময়ে এত বড় সফলতা অর্জনে সহায়তা করেছে।

আদনানের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে জামিয়া রাহমানিয়া হাজী জনাব আলী মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা পরিষদ, শুভানুধ্যায়ী ও মুহিব্বিনরা মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ