বাঙালি মুসলিম সমাজের প্রগতিশীল চিন্তা, মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর গৌরবময় শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে নওগাঁয় সোমবার (১ জুন) এক ব্যতিক্রমী ও মননশীল একক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’—এই কালজয়ী স্লোগানকে ধারণ করে সোমবার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি. এম. আব্দুল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যাপক এস. এম. মোজাফফর হোসেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসানের একক বক্তৃতা। তিনি তাঁর তথ্যসমৃদ্ধ ও মননশীল বক্তব্যে মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠা, ঐতিহাসিক পটভূমি, বাঙালি মুসলমান সমাজে আধুনিক চিন্তার বিকাশ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি আন্দোলনে সংগঠনটির অবদান এবং সমসাময়িক মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
এ সময় দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীদের জীবন ও কর্মের ওপর সংক্ষিপ্ত জীবনীপাঠ এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. নীলিমা তাবাসসুম।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কবি ও লেখক আতাউল হক সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন এবং একুশে পরিষদ নওগাঁর সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আল-মেহমুদ রাসেল। অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট নাগরিক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
একক বক্তৃতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রাণবন্ত উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় উপস্থিত সুধীজন মুসলিম সাহিত্য সমাজ, শিক্ষা আন্দোলন, মুক্তবুদ্ধি চর্চা এবং বাঙালি মুসলমানের সাংস্কৃতিক বিকাশ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। প্রধান বক্তা অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান যুক্তিনির্ভর ও সাবলীলভাবে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
আয়োজকরা জানান, নওগাঁর সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও একক বক্তৃতাভিত্তিক আয়োজন বিরল। মুসলিম সাহিত্য সমাজের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান মুক্তচিন্তা, ইতিহাসচর্চা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
এমএম/