শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ ।। ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৯ জিলহজ ১৪৪৭


হজের মিকাত আল-জুহফায় মিলল ১৭০০-এর বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

সৌদি আরবের ঐতিহাসিক মিকাত আল-জুহফাহ এলাকায় ১ হাজার ৭০০টিরও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার করেছে দেশটির হেরিটেজ কমিশন। এসব আবিষ্কার প্রাচীন হজযাত্রা, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং ইসলামি সভ্যতার ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত জরিপ ও নথিভুক্তকরণের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় মাটির পাত্র, কাচ, পাথর, ঝিনুকের খোলস এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার করা হয়। এসব আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মিকাত আল-জুহফাহ একসময় মিসরীয় হজপথের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

আবিষ্কৃত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীর অংশবিশেষ, যেমন ঝিনুক, পুঁতি, ধাতব বস্তু এবং মৃৎপাত্র। এছাড়া প্রত্নতাত্ত্বিকরা ছয়টি মাটির পাত্র তৈরির চুল্লি এবং একটি পানিপ্রবাহের খাল শনাক্ত করেছেন, যা অতীতে হজযাত্রী ও পথচারীদের পানির চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খননকাজে আরও ১৩টি সমাধিফলক উদ্ধার হয়েছে, যার কয়েকটি উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগের বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। এসব নিদর্শন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলোর উৎস লেভান্ট, মিসর ও আবিসিনিয়া (বর্তমান ইথিওপিয়া) অঞ্চলে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হজযাত্রীরা এই পথ ব্যবহার করতেন।

মক্কা নগরী থেকে প্রায় ১৮২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মিকাত আল-জুহফাহ ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ থেকেই হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ মিকাত বা প্রবেশকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক পথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ছিল।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, খ্রিস্টীয় অষ্টম ও নবম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে (৭১৯-৮১৬ খ্রিস্টাব্দ) এলাকাটি ব্যাপক সমৃদ্ধি লাভ করে। সে সময় এখানে হজযাত্রীদের সেবায় দোকানপাট, পানির ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে উঠেছিল।

হেরিটেজ কমিশন জানিয়েছে, মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী হিজরতের ঐতিহাসিক পথের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন শনাক্ত ও সংরক্ষণের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই জরিপ ও খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা ও আবিষ্কার কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে, সৌদি আরবের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে এবং আধুনিক জরিপ ও বিশ্লেষণ প্রযুক্তির সহায়তায় ঐতিহাসিক স্থানগুলোর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। সূত্র: আরব নিউজ

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ