সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎শহীদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে পেরিয়া ইউনিয়ন উলামা পরিষদ চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন ৪ পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন দিল সরকার  সৌদি আরবে অভিযান: ৮ হাজার প্রবাসীকে ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের শঙ্কায় ভারতের উপকূলে সতর্কতা  প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসঙ্গী হচ্ছেন হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর  ওযু ছাড়া ছোট শিশুদের কুরআন স্পর্শে বাধা নেই, কী বলছে ফিকহ? ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক ভ্রমণে বাড়ছে আগ্রহ

৩৩ শিশুকে যৌন নির্যাতন: দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ভারতে এক দশক ধরে ৩৩টি শিশুকে পাশবিক যৌন নির্যাতন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ডার্ক ওয়েবে ৪৭টি দেশে বিক্রির দায়ে এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উত্তর প্রদেশ-এর বান্দা জেলার পকসো (শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা) আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ পি কে মিশ্র এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এটি ‘বিরল থেকে বিরলতম’ অপরাধের শামিল; আসামিদের সংশোধনের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রযোজ্য।

দণ্ডিতরা হলেন জলকল বিভাগের সাবেক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ৫০ বছর বয়সী রাম ভবন এবং তাঁর ৪৭ বছর বয়সী স্ত্রী দুর্গাবতী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বান্দা ও চিত্রকূট জেলায় তিন থেকে ১৩ বছর বয়সী অন্তত ৩৩ শিশুকে তারা বিভিন্ন প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন করে। অনলাইন ভিডিও গেম খেলার সুযোগ, টাকা ও উপহারের লোভ দেখিয়ে শিশুদের কাছে টানা হতো। নির্যাতনের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ইন্টারনেটের গোপন নেটওয়ার্ক ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশি গ্রাহকদের কাছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো।

দীর্ঘদিনের এই নির্যাতনে অনেক শিশুর শারীরিক ও মানসিক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েকজন শিশুর চোখে স্থায়ী ট্যারাভাব তৈরি হয় এবং কিছু শিশুকে যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ট্রমা কাটাতে দিল্লির AIIMS-এর চিকিৎসকদের বিশেষ সহায়তা নেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে ২০২০ সালে। ডার্ক ওয়েবে শিশু নির্যাতনের কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল-এর নজরে এলে তারা ভারত সরকারকে সতর্ক করে। এরপর সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) তদন্ত শুরু করে এবং ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর এফআইআর দায়ের করে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও ভুক্তভোগী শিশুদের সাক্ষ্যই মামলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।

আদালত পকসো আইন ও ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রতিটি ভুক্তভোগী শিশুকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি কমল সিং গৌতম বলেন, ভুক্তভোগী শিশুরা এখনো গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রায়ের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষায় বিচার বিভাগ কঠোর বার্তা দিল।

সূত্র: The Times of India

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ