বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ২ রমজান ১৪৪৭


মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফীর খতিব পদ কেড়ে নিলেন ‘জামায়াতপন্থী’ সভাপতি!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কুমিল্লা-১০ আসনে এবার হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তরুণ আলেম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী। তার এই নির্বাচন করার অপরাধে তাকে ঢাকার একটি মসজিদের খতিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে জামায়াতপন্থী সভাপতি মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি নিজেই।

মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী রাজধানীর সাইন্সল্যাবে বিসিএসআইআর জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার তাকে হঠাৎ করে এক পত্রের মাধ্যমে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী নিজেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া এবং তার সঙ্গে মসজিদের সভাপতির অসৌজন্য আচরণের কথা তুলে ধরেছেন এক ফেসবুক পোস্টে। ‘কোন দেশে বসবাস করছি, কাদের পিছনে সময় দিচ্ছি? ’ শিরোনামের সেই পোস্টটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রতিষ্ঠানটিতে (সাইন্সল্যাবে) সময় দিচ্ছি প্রায় ১ যুগ যাবত। দীর্ঘ এ সময়ে প্রতিষ্ঠানের নূন্যতম কোন নিয়মের আমি ব্যত্যয় ঘটাইনি। অথচ আমাকে অব্যাহতি দেয়া হল নির্বাচন করার অপরাধে! এক্ষেত্রেও মানা হয়নি কোন নিয়ম। দেখানো হলো না কোন সামান্য সৌজন্যতা ভদ্রতা!

গতকাল মসজিদে ঢুকে আমার ব্যক্তিগত রুমে যেতে চাইলে খাদেম সাহেব জানালেন চাবি সভাপতি সাহেবের নিয়ন্ত্রণে। আপনাকে রুমে ঢুকতে নিষেধ করেছে! কথাগুলো শুনে নিস্তব্ধ হয়ে গেলাম। অজু করে মসজিদে প্রবেশ করে দু রাকাত নামাজ আদায় করে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলাম।

আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ছুটি নিয়ে আসায় পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী পেশ ইমাম নামাজ পড়ালেন। মাথায় বারবার একটা কথাই ঘুরছিল আমাকে রুমে ঢুকতে না দেয়ার মতো অভদ্রতা ও অসৌজন্যতা তিনি কীভাবে দেখাতে পারলেন!

ব্যক্তিগতভাবে আমার সাথে ভালো সম্পর্কের মানুষটার হঠাৎ এ পরিবর্তন এবং এতো অভদ্রতার পেছনের কোন কারণই মাথায় আসছিল না।

শেষমেষ যা খুঁজে পেলাম সেটা হল দলান্ধতা। ঘোরতর জামাত সমর্থক মানুষটা সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে লেগেছেন এবং সুযোগ বুঝে ঠান্ডা মাথায় সবকিছু করেছেন।

ইচ্ছা ছিল নামাজ শেষে অব্যাহতি বিষয় নিয়ে সাথে কথা বলবো। দীর্ঘ সময়ে মসজিদেই অবস্থান করলাম। কিন্তু না জনাব সভাপতি ও তার সহযোগীদের কেউই এ বিষয়ে নূন্যতম সৌজন্যতা ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করলেন না। এ বিষয় নিয়ে কোন আলাপই করলেন না।।যেন কোন অপরিচিত মুসল্লী নামাজ পড়তে আসছি। পরে এসে শুধু দোয়া চাইলেন, আমি মাথা নেড়ে জিজ্ঞাসা করলাম আর কিছু বলার আছে বললেন না। আমি চলে আসলাম।

অবাক হলাম এ মানুষগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে। নূন্যতম একজন চাকরের ক্ষেত্রেও তো মানুষ নিয়মনীতি ফলো করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে বসে। সৌজন্যতা ও ভদ্রতা বজিয়ে বিদায় দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমার সাথে কিছুই করলো না।।

জাস্ট হোয়াটসঅ্যাপে অব্যাহতি পত্র পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ! তাও আমি জুমা পড়াতে আসব একথা শোনার পর।

জুমার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বহুবার কল দিয়েও জনাব সভাপতিকে ফোনে পাইনি। ভেবেছিলাম অন্তত ফোনে জিজ্ঞাস করবো। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি।

আমি এ বিষয়টা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি,ইনশাআল্লাহ। এটা আমার চাকুরী ফিরে পাওয়ার জন্যই নয় শুধু বরং গোটা আলেম সমাজের হাত-পা বেঁধে ফেলার কথিত বানোয়াট নিয়মনীতির বিরুদ্ধে।

দোয়া ও সহযোগিতা চাই।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ