বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১ রমজান ১৪৪৭


জামায়াতের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ার ১০টি কারণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

||মুহিব খান||

১. প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ তরুণ ভোটারের ব্যাপারে অতি-প্রত্যাশা ও ভরসা করা জামায়াতের ভুল হয়েছে। বোঝা উচিত ছিল, বাংলাদেশের নতুন ভোটাররা আসমান থেকে পড়েনি, গাছেও ধরেনি, মাটি থেকেও উৎপাদিত হয়নি, তারা বিভিন্ন পরিবারে যার যার পিতা-মাতার ঘরেই জন্ম নিয়েছে আর তাদের পিতা মাতারা আদিকাল থেকেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি অথবা অন্য কোনো দল করে থাকেন অল্প কিছুসংখ্যক ছাড়া। তাদের সন্তানরাও জন্ম থেকে পরিবারের চিন্তা ও আদর্শ লালন করেই বেড়ে উঠেছেন। নতুন প্রজন্ম বা নতুন ভোটার বলে তারা সবাই পরিবার ও পিতা-মাতার পথ মত ত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীর ভক্ত অনুসারী হয়ে দাঁড়িপাল্লায় লাখে লাখে ভোট দিয়ে দিবে, এটা ভাবাই বোকামি হয়েছে। এমনটি দল গঠনের সময় এনসিপিও ভেবেছিল কিন্তু বাস্তবে খুঁজে পায়নি। জোটের আশ্রয় ছাড়া এনসিপি একটি আসনও পেতো না। আর প্রচলিত দলগুলোর সমর্থকদের বাইরে নতুন কোন জনগোষ্ঠীকে আল্লাহ আসমান থেকে বাংলাদেশে অবতীর্ণ করেননি, যাদের দিল মন মস্তিষ্ক একেবারেই পরিষ্কার, আপনি যা বুঝাবেন তাই বুঝবে, আপনি যে ধারণা দেবেন তাই গ্রহণ করবে।

২. জামায়াতে ইসলাম এরশাদ পরবর্তী ৯১ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিল। এরপর ২০০১ এর নির্বাচনে ১৭টি, এছাড়া আর কখনোই ৩/৪টির বেশি আসন পায়নি। তাদের ধারণা মতে, তাদের জনপ্রিয়তা বিভিন্ন কারণে যদি বেড়েও থাকে সেটা কতই বা। ধরুন কোন আসনে বিএনপি'র ভোট ৪০/৫০টি, আওয়ামী লীগের ভোট ৪০/৫০টি, জাতীয় পার্টির ভোট ১৫/২০টি, আর জামায়াতের ভোট ৬/৭ টি ছিল, সেখানে দেশের পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নির্বাচনে বড় একটি দল না থাকা বা কোন দল আগের চেয়ে অজনপ্রিয় হয়ে পড়া বা নতুন ভোটার সৃষ্টি হওয়ার কারণে ভোট তিনগুণ বাড়লেও তো ২০/২২টির বেশি হয় না তাহলে বিএনপি'র ৫০ কে অতিক্রম কীভাবে করা সম্ভব? আর বিএনপি যে ৫০ ভোটেই বসে থাকবে, তাদেরও যে ভোট বাড়বে না এর নিশ্চয়তা কী? আর জামায়াত আগে থেকেই সামান্য ব্যবধানে বড় দলগুলোর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, এরকম আসনের সংখ্যা অতি সীমিত বরং জামায়াত অতীত রাজনীতিতে বরাবরই দেশের চতুর্থ পর্যায়ের দল ছিল, চতুর্থ পর্যায় থেকে একটানে প্রথম পর্যায়ে ওঠে আসা অতি-প্রত্যাশাই বটে। অতএব, ২০২৬ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই বলেই জামায়াতের আসন সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৮ থেকে একলাফে বেড়ে ১৫০ এর বেশি হয়ে যাবে, এবং তারা সরকার গঠন করবেন, এমন ভাবাটা বোকামি হয়েছে। কারণ- জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বাড়ার সঙ্গে নয় বরং বিপক্ষের চাইতে ১টি হলেও ভোট বেশি পাওয়ার সঙ্গে বিজয়ের সম্পর্ক, আসন বৃদ্ধির সম্পর্ক। আর ভোটের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের সকল সদস্য যে জামায়েতকেই ভোট দিয়ে দেবে, এটাও তো নিশ্চিত ছিল না। দেয়ওনি।

৩. রাস্তাঘাটে হাজারো মানুষ প্রার্থীদের সালাম গ্রহণ করেন এবং প্রার্থীদেরকে সালাম দেন, হাত মেলান, হাসিমুখে কথা বলেন, ভোটের কথা জিজ্ঞেস করলে 'ইনশাআল্লাহ' বলে আশ্বস্ত করে বিদায় দেন। এদের সবাইকে নিজের ভোটার এবং দাঁড়িপাল্লার সৈনিক মনে করা ভুল হয়েছে। এদের মুখের হাসি ও হাত নাড়ানোতে সন্তুষ্ট শুধু নয়, গর্বিত এবং অতি উৎসাহিত হয়ে প্রকৃত সমর্থকের পরিমাণ অনুমান করতে বিভ্রান্তি হয়েছে। অনেক পাবলিক আছেন যারা সামনে সৌজন্যের হাসি হাসেন আর বিদায় নেওয়ার পর পেছনে উপহাসের হাসিও হাসেন, সব হাসিতেই ভোট থাকে না। আমার মনে হয় আমার সরল বন্ধুরা এখানেও যথেষ্ট প্রতারিত হয়েছেন।

৪. নিজেদের যোগ্যতা ও দেশ গড়ার পরিকল্পনার চাইতে বিশাল প্রতিপক্ষকে কুৎসার ঝড় ও বদনামে ঘায়েল করার গৃহীত কৌশলটি সর্বৈব ভুল ছিল। শুধু ভুল নয় আত্মঘাতীও ছিল। শেখ হাসিনা নিজের অপকর্মের চাইতে অন্যকে তাচ্ছিল্য ও ইয়ার্কি তামাশা করে কথা বলায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছিলেন। কোন চোরকেও আপনি অতিরিক্ত তাচ্ছিল্য ও মজা করে করে চোর চোর বলে অপদস্থ করলে ভদ্রলোকেরা বিষয়টি পছন্দ করবেন না। কাজেই তারেক জিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দুর্নীতির ফিরিস্তি নানাভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে ইয়ার্কি তামাশা করে প্রচার করা এবং গোটা বিএনপিকেই চাঁদাবাজ ট্যাগ লাগিয়ে একদম অল্প সময়ে পঁচিয়ে ফেলার কৌশলগত চেষ্টাটি বুমেরাং হয়েছে। এদেশের সর্বসাধারণ বিষয়গুলিকে পছন্দের চোখে দেখেনি। মনে রাখা উচিত ছিল কোন খারাপ মানুষকেও চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে খারাপ বললে, সেই খারাপ মানুষটির ভাল পরিবার ও ভদ্র জ্ঞ্যাতিগোষ্ঠীর সমর্থন আপনি পাবেন না। আর বাংলাদেশের প্রায় সব মানুষই তো শেখ মুজিব অথবা শহীদ জিয়ার পরিবারের জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মতোই হয়ে আছে। প্রতিপক্ষকে গালমন্দ না করার সুফল বেগম খালেদা জিয়া পেয়েছেন, বিষয়টি প্রমাণিত।

৫. মানুষের মুখে মুখে এবার দাড়িপাল্লা, মানুষ এবার সব অপশক্তিকে বাদ দিয়ে নতুন শক্তিকে বেছে নেবে, মানুষ নৌকাকে দেখেছে ধানের শীষকে দেখেছে লাঙ্গলকে দেখেছে এবার বাকি আছে পাল্লা এবার পাল্লাকে মানুষ দেখবে, এই ধারণা ও কথাগুলো মুখরোচক ও মন মাতানো হলেও মূলত অবান্তর। মানুষ বলতে আপনি কাদেরকে বোঝেন বা বোঝান? এদেশের নাগরিকদেরকেই তো? এ দেশের নাগরিকরা অতীত থেকেই প্রচলিত দলগুলোতে অভ্যস্ত, এমন তো নয় যে এসব দল আগে ভালো ছিল এখন নতুন করে খারাপ হয়েছে! কাজেই মানুষ জেনে বুঝেই তাদের পক্ষে আছে, এটা আমার আপনার ভালো না লাগলেও কিছু করার নেই। এটাই বাংলাদেশের কালচারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই যে এত জঘন্য বদনাম মাথায় নিয়ে হাসিনার বিদায় হল, আওয়ামী লীগ ইতিহাসের নিকৃষ্টতম কলঙ্কিত দল বলে সাব্যস্ত হল, এরপরও কি আওয়ামী লীগের খুব বেশি নেতা কর্মী ও সমর্থকদের দল ছাড়তে দেখেছেন? কোন প্রকার অনুশোচনা করতে দেখেছেন? তাহলে কেন ভাবেন যে, বদনামগুলো তুলে ধরলেই কোন দলের ভক্ত সমর্থক বা সাধারণ ভোটারগণ যার যার দল ছেড়ে আপনার নীতিকথার পক্ষে চলে আসবে? আপনার মিছিলে অথবা আপনার নির্বাচনী প্রচারণার পথের দু'পাশে আপনার একান্ত সমর্থক মানুষেরাই আপনাকে দাঁড়িপাল্লার কথা জোর গলায় বলে থাকে, অথবা আপনার প্রতিপক্ষও আপনার সঙ্গে মজা নেয়, আর আপনি এটাকে গোটা জাতির কণ্ঠস্বর মনে করে বসে আছেন। এরকম তো অন্য সব দলের প্রার্থীকেও তাদের লোকজন বলে থাকেন। এখানেও বোঝার ভুল হয়েছে।

৬. বড় দলের বিপক্ষে অনেকগুলো ইসলামী দল মিলে একটি এক বাক্স কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রধানত এটি ছিল ইসলামী শক্তির ঐক্য, যে জন্য ইসলামপন্থী গণমানুষের মধ্যে এবার একটি ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়ে উঠেছিল এবং দলনিরপেক্ষ অনেক ধার্মিক দেশপ্রেমিক সচেতন মানুষ ভাবতে শুরু করেছিলেন যে, যেহেতু প্রায় সমস্ত ইসলামী শক্তি এই প্রথমবার এক হয়ে ভোট চাইছে, এবার তাদেরকে ভোটটা দেওয়া লাগবে, না দিলে হয়তো আখিরাতের জবাব দিতে হবে, এরকম একটি বোধ মানুষের মনের মধ্যে দানা বেঁধে উঠছিল। শেষ পর্যায়ে এসে অন্যান্য সেক্যুলার টাইপ দলকে এই জোটের অন্তর্ভুক্ত করে বিদেশিদের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করা গেলেও ইসলামী জনগণের একটি বড় অংশকে হতাশ ও অসন্তুষ্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনকে যেভাবেই হোক ধরে রাখতে না পারা একটি বড় ব্যর্থতা বা ভুল ছিল, তাদের বেরিয়ে যাওয়ার পর সাধারণ ইসলামী নাগরিক এবং আলেম সমাজ এই আসন সমঝোতার জোটটিকে আর ইসলামী জোট হিসেবে দেখেননি। ইসলামী আন্দোলন পৃথক হয়ে গিয়ে যদিও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি কিন্তু তারা যুক্ত থাকলে তাদের কিছু না কিছু ভোট, সারাদেশে তাদের নেতাকর্মীদের শ্রম এবং ইসলামী জোট হওয়ার কারণে গণ-জনতার একটি আবেগের স্রোত জামায়াতকে আরো ১৫/২০ টি আসনে জয়ী করতে পারত হয়তো।

৭. একাত্তরের রাজনৈতিক ভূমিকার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভুল স্বীকার করে ফেলা উচিত ছিল। যদি হয়ে থাকে, যদি কিছু করে থাকি, যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন- এই ভাষায় নয়। সেটি না করে বরং ২৪ কে একাত্তরের মুখোমুখি প্রতিষ্ঠা করার সুকৌশলী প্রয়াসটি সচেতন মানুষকে বিরক্ত ও বিব্রত করেছে। ২৪ আমাদের জাজ্জ্বল্যমান স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই ছিল আর একাত্তর ছিল সেই স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, দুটোকেই পরিচ্ছন্নভাবে যথাযোগ্য মর্যাদার চোখে না দেখা হলে, একটির আড়ালে আরেকটিকে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করলে, একটি দিয়ে আরেকটিকে মুছে ফেলার চেষ্টা করলে, জনমনে সংশয় সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

৮. ২৪ এর পর থেকে প্রথমে দেরিতে নির্বাচন চাওয়া, পরে আবার দ্রুত নির্বাচন চাওয়া, প্রথমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে চাওয়া, আবার সেই দাবি থেকে সরে আসা, এক পর্যায়ে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য তুমূল আন্দোলন গড়ে তোলা, আবারও সেই দাবি থেকে পিছু হটে আসা, ইসলামী শক্তির এক বাক্স পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়া, আবার সেই ইসলামী জোটকে বিবর্ণ করে তোলা, মানুষের কাছে মিডিয়ার কাছে বহির্বিশ্বের কাছে শরীয়া আইন ও আদর্শিক অবস্থান বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য তুলে ধরা- ইত্যাকার সিদ্ধান্তহীনতা ও কিংকর্তব্যবিমূডঢ়তা মানুষের আস্থায় দুর্বলতা ধরিয়েছে এবং রাজনৈতিক সক্ষমতায় বিপুল ক্ষতিসাধন করেছে।

৯. বেশ কিছু প্রবাসী এবং দেশীয় ইউটিউবার বিশ্লেষকদের রংচড়া কথায় অন্ধ আস্থা ও অনুসরণ অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত ও ভুল পথে পরিচালিত করেছে। তাদের অবাস্তব উদ্বুদ্ধকরণ, নানা প্রসঙ্গে অমূলক মূল্যায়ন, অসময়ে অতিরঞ্জিত আস্ফালন সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদেরকে বেশ আত্মম্ভরী এবং অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, যা রাজনৈতিক মাঠে বাস্তবে ছিল না। যার ফলে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চলায় বলায় লেখায় প্রচারে আচারে আচরণে চ্যালেঞ্জে ঘোষণায় অতিরিক্ত নিশ্চয়তা ও নির্ভাবনার প্রকাশ ফুটে উঠেছে, যা আসলে ছিল অনেকাংশেই বায়বীয়। যা প্রতিপক্ষকে আগেভাগেই যথেষ্ট সতর্ক এবং প্রস্তুত করে তুলেছে।

১০. মাঝে মাঝে সেনাপ্রধান, প্রধান উপদেষ্টা, আন্তর্জাতিক বিশ্বকে নিজেদের পক্ষের ভেবে নেওয়াও একটি ভুল। ইউটিউবার এবং সাধারণ নেতাকর্মীদের কথাবার্তায় এমনটিই খুব প্রকাশ পেত। নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী নির্ণয়, মন্ত্রিসভা পরিকল্পনা, ভূমিধ্বস বিজয়ের আকাশ কুসুম প্রচারণা শুধু মুখের কথা ছিল না বরং নেতাকর্মীদের প্রাণের বিশ্বাস হয়ে উঠেছিল যা প্রকৃত অর্থে বাস্তব ছিল না আর অবাস্তব বিশ্বাস মানুষকে ঠকায়।

এ কারণগুলো না ঘটলে হয়তো আরও কয়েকটি আসন বেশি পাওয়া যেত কিন্তু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্বাভাবিক বিচারে সম্ভব হতো না। কারণ ভোটের বাস্তবতা মিছিলে মিটিংয়ে থাকে না, থাকে ঘরে ঘরে। ভোট সুনির্দিষ্ট কারণ, বাস্তবিক সমীকরণ ও রাজনৈতিক যোগসূত্র ছাড়া আসে না। তথাপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-শূন্যতার সুযোগে এবং আরও ১০টি দলের সঙ্গে ঐক্য ও সমঝোতার ফলে যে আসনগুলো অর্জিত হয়েছে, বিশেষ করে যে পরিমাণ ভোট অরিজিত হয়েছে, জামায়াতের জন্য তাও যথেষ্ট অগ্রসরতা বলে আমি মনে করি।

আর ইলেকশন মেকানিজম বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অনুমান ভিত্তিক ঢালাও দাবি ও আলোচনা যথেষ্ট নয়, সুনির্দিষ্ট অকাট্য তথ্য-উপাত্ত সহ প্রমাণ করা গেলে এর প্রতিকার আশা করা যেতে পারে। প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান আর আসন ব্যবধানের এত বেশি পার্থক্যের বিষয়টি লক্ষণীয়। অনেক আসনে ফলাফল প্রকাশে অস্বাভাবিক দেরি ও গড়িমসিরও সবিস্তার ব্যখ্যা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আইনী পদক্ষেপের পাশাপাশি জনমত ব্যাপক জনমত গঠন আগামীর পথ সুগম করবে।

আমার এই বিশ্লেষণ গুলো যদি সঠিক না হয়ে থাকে তাহলে ভেবে নেব আমারও ভুল হতে পারে, আর যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে যাদের ব্যাপারে এই আলোচনা তারা বুঝে নেবেন তাদেরও ভুল হতে পারে এবং হয়েছে। আমি বিরোধী বা সমালোচক নই, শুভাকাঙ্ক্ষী।

লেখক: কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ