শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ।। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৫ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠোর সতর্কতা আমিরাতের ‘দ্রুতবিচারের দাবিকে মধ্যযুগীয় বলে জনতার সঙ্গে উপহাস করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ মসজিদে হারামের খুতবায় হজের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান ‘ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে মধ্যযুগীয় বলা ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা’ সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাফেজ কামরুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক যুগ ধরে হজের খুতবা দিয়েছেন যেসব আলেম রাত ১টার মধ্যে ১১ অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধে মারামারি, আহত ১২ ‘ঔপনিবেশিক আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি গণ-অনাস্থা তৈরি হয়েছ’ শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিক্ষোভ

রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত। হিজরতের দেড় বছর পর আল্লাহ তাআলা রোজা ফরজ করেন। তিনি ইরশাদ করেন—
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।”(সূরা বাকারা: ১৮৩)

রোজা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যের পথে এগিয়ে দেয়, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাকওয়া অর্জনে সহায়তা করে। হাদিসে এসেছে, সহিহ বুখারিজামি আত-তিরমিজি-তে বর্ণিত—
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।” (বুখারি: ১৯০১; তিরমিজি: ৬৮৩)

রোজার নিয়ত: কী ও কীভাবে

রোজার জন্য নিয়ত করা অপরিহার্য। তবে নিয়ত মানে মুখে উচ্চারণ নয়; বরং অন্তরের দৃঢ় ইচ্ছাই হলো প্রকৃত নিয়ত। তাই রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সেহরির জন্য জাগ্রত হওয়া ও আহার করাই নিয়তের অন্তর্ভুক্ত। কেউ যদি মুখে আরবি বাক্য না-ও পড়ে, তবুও তার রোজা আদায় হয়ে যাবে—যদি অন্তরে রোজার ইচ্ছা থাকে।

ফিকাহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে এ বক্তব্য পাওয়া যায়—
আল-বাহরুর রায়েক,
আল-জাওহারাতুন নাইয়্যিরাহ,
রাদ্দুল মুহতার,
ফাতাওয়া হিন্দিয়া

প্রচলিত রোজার নিয়ত

বাংলাদেশে রোজার একটি আরবি নিয়ত বহুল প্রচলিত। যদিও এটি সরাসরি হাদিসে বর্ণিত নয়, তবুও কেউ চাইলে তা পাঠ করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে—নিয়ত পড়া নয়, নিয়ত করা-ই আসল কথা।

আরবি নিয়ত:
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم

বাংলা উচ্চারণ:
নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদান লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আন্তাস সামিউল আলিম।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। তুমি তা কবুল করো; নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

ইফতারের দোয়া

১. ইফতারের সময় পড়ার দোয়া

بِسْمِ اللهِ اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।

অর্থ:
হে আল্লাহ! তোমার সন্তুষ্টির জন্যই আমি রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।(সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৮)

২. ইফতারের পরের দোয়া

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ

বাংলা উচ্চারণ:
জাহাবাজ জামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উ’রুকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।

অর্থ:
পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং ইনশাআল্লাহ সাওয়াব স্থির হলো।(সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৭)

ইফতারের ফজিলত

রোজাদারের জন্য ইফতারের মুহূর্ত বিশেষ আনন্দের। হাদিসে এসেছে, জামি আত-তিরমিজি-তে বর্ণিত—
নবী কারিম (সা.) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে—একটি যখন সে ইফতার করে, আরেকটি যখন সে তার প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।” (তিরমিজি: ৭৬৬)

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ