বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


কসম ভঙ্গ করলে কী করবেন, দিতে হবে যে কাফফারা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক 

মানুষ আবেগ, রাগ কিংবা পরিস্থিতির চাপে অনেক সময় কসম করে বসে। কখনো কোনো কাজ না করার, আবার কখনো কোনো কাজ করার শপথ নেয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই কসম রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ কসম ভঙ্গ করে ফেলেন, আবার কেউ কসম ভঙ্গের কারণে কী করণীয়, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। ইসলামে কসমের মর্যাদা ও তা রক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে কসম ভঙ্গ হয়ে গেলে তার জন্য কাফফারা আদায়ের বিধানও রয়েছে। তাই কসম করার আগে সতর্ক হওয়া এবং কসম ভঙ্গ হলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কাফফারা আদায় করা জরুরি।

কসম করে তা রক্ষা করতে না পারলে করণীয়

কসম করে তা রক্ষা করতে না পারলে কসমের কাফফারা দিতে হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, 

لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ.

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমরা যে শপথ পরিপক্কভাবে করে থাক, সেজন্য তিনি তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন। সুতরাং তার কাফফারা হল, দশজন মিসকীনকে মধ্যম ধরনের খাবার দেবে, যা তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে খাইয়ে থাক। অথবা তাদেরকে বস্ত্র দান করবে কিংবা একজন গোলাম আযাদ করবে। তবে কারও কাছে যদি (এসব জিনিসের মধ্য হতে কিছুই) না থাকে, সে তিন দিন রোযা রাখবে। এটা তোমাদের শপথের কাফফারা যখন তোমরা শপথ করবে (এবং তারপর তা ভেঙ্গে ফেলবে)। তোমরা নিজেদের শপথকে রক্ষা করো। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের সামনে নিজ আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় কর। (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত নং ৮৯) 

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি কসম রক্ষা করতে না পেরে ভেঙ্গে ফেলার কারণে আপনাকে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে। আর কসমের কাফফারা হলো, দশজন মিসকীনকে পেট ভরে দু’বেলা খাবার খাওয়ানো, অথবা তাদেরকে এক জোড়া করে কাপড় দেওয়া। এ দু’টির কোনটি যদি সম্ভব না হয়, তাহলে লাগাতার তিনদিন রোযা রাখা।

উল্লেখ্য, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় অনেক সময় এমন বিপদে পড়তে হয় যার থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

‘প্রকৃত বীর সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৬৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬০৯) 

কসম করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি আল্লাহর নামে অঙ্গীকার। তাই কোনো বিষয়ে কসম করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করা উচিত। আবেগ, রাগ কিংবা তর্কের বশে অহেতুক কসম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর কোনো বৈধ কসম করার পর তা ভঙ্গ হয়ে গেলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কাফফারা আদায় করতে হবে। পাশাপাশি রাগ নিয়ন্ত্রণ ও কথাবার্তায় সংযমী হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—সে নিজের কথা ও অঙ্গীকারের প্রতি দায়িত্বশীল থাকে।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ