বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণায়ও মার্কিন নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের জয়জয়কার সবাইকে খুশি করতে গিয়ে হারাবেন না নিজের দ্বীন নিউইয়র্কের আইনসভায় ইতিহাস গড়লেন হিজাবি নারী আবের কাওয়াস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আব্দুল আল-সাইয়েদ মাওলানা মনির হোসেন কাসেমী ডেঙ্গু আক্রান্ত, দোয়া কামনা ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়ল ৩ হাজার ৩২৪ টাকা প্রায় ২০০ বছর আগে চুরি হয়ে গিয়েছিল মসজিদুল হারামের দুষ্প্রাপ্য ৮টি পাথর ডিসেম্বরের মধ্যে শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো: মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পালটাপালটি ধাওয়া বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

সবাইকে খুশি করতে গিয়ে হারাবেন না নিজের দ্বীন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক  

আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কিন্তু কখনো কখনো মানুষের মন রাখতে গিয়ে আমরা এমন কিছু কাজে জড়িয়ে পড়ি, যা আমাদের দ্বীন ও আমলের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মেহমানদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় গল্প-আড্ডায় কাটাতে গিয়ে নামাজের সময় নষ্ট করা কিংবা অনিচ্ছায় গিবতের মতো ভয়াবহ গুনাহে জড়িয়ে পড়া—এসব বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকা জরুরি।

মনে রাখতে হবে, মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টায় যেন আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি থেকে দূরে সরে না যাই। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আল্লাহর হক আদায় করাও অপরিহার্য।

ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন

সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের ইবাদত ও আমলের ক্ষতি করবেন না। দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও অন্যান্য আমলের জন্য আলাদা সময় রাখুন। সম্ভব হলে মেহমান আসার আগেই নিজের নিয়মিত আমলগুলো সেরে নিন। আর মেহমান থাকা অবস্থায় নামাজের সময় হলে বিনয়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে নামাজ আদায় করুন।

আপনার এই আচরণ মেহমানদের কাছেও ইবাদতের গুরুত্ব তুলে ধরবে। এতে সম্পর্কের সৌন্দর্য নষ্ট হবে না; বরং দ্বীনি মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে।

গিবতের পরিবেশ থেকে নিজেকে বাঁচান

মেহমানদের সঙ্গে গল্প-আড্ডার সময় অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত ব্যক্তিদের আলোচনা শুরু হয়। কখনো কারও দোষ-ত্রুটি, ব্যক্তিগত বিষয় কিংবা দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতে বলতে অজান্তেই গিবতে জড়িয়ে পড়ি। অথচ গিবত এমন এক ভয়াবহ গুনাহ, যা মানুষের নেক আমলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়।

তাই আলোচনা গিবতের দিকে চলে গেলে কৌশলে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে ভালো কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। আর পরিস্থিতি এমন হলে, যেখানে গিবত থেকে নিজেকে রক্ষা করা কঠিন, সেখানে নীরবে সরে আসুন।

গিবতের প্রসঙ্গ উঠলেই কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণিত কঠোর সতর্কবাণীগুলো মনে করুন। প্রয়োজনে মেহমানদেরও স্মরণ করিয়ে দিন। তবে কথাটি বলবেন সুন্দরভাবে, যেন কেউ অপমানিত বোধ না করেন। সবাই গুনাহ থেকে বাঁচার সুযোগ পান।

গিবত সম্পর্কে কোরআনের কঠোর সতর্কবার্তা

আল্লাহ তাআলা বলেন, 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কিছু ধারণা গুনাহ। আর তোমরা গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা ঘৃণা কর। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সূরা হুজুরাত, আয়াত: ১২) 

গিবতের ভয়াবহতা বোঝাতে আল্লাহ তাআলা এখানে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার উপমা দিয়েছেন। ভাবুন, এমন ঘৃণ্য কাজ যেমন আমাদের কাছে অসহনীয়, তেমনি কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি আলোচনা করাও আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়।

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, 

وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ

‘দুর্ভোগ প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর।’ (সূরা হুমাজা, আয়াত: ১) 

গিবত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সতর্কবাণী

গিবতের পরিণতি সম্পর্কে হাদিসেও কঠোর সতর্কতা এসেছে। হজরত আবু সাঈদ ও হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 

‘গিবত ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য।’

সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! গিবত ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য হয় কীভাবে? তিনি বললেন, ‘কোনো ব্যক্তি ব্যভিচার করে তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। কিন্তু গিবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যতক্ষণ না যার গিবত করা হয়েছে, সে তাকে ক্ষমা করে।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস: ৬৩১৫; আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস: ৬৫৯০) 

এই হাদিস আমাদের জন্য গভীর সতর্কবার্তা। ব্যভিচারের মতো গুরুতর গুনাহ থেকেও তওবার মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, কিন্তু গিবতের সঙ্গে মানুষের হক জড়িয়ে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষমা লাভ করাও জরুরি।

তাই যখনই গিবতের পরিবেশ তৈরি হবে, তখনই এসব আয়াত ও হাদিসের কথা স্মরণ করুন। নিজের অন্তরকে সতর্ক করুন, অন্যদেরও সুন্দরভাবে স্মরণ করিয়ে দিন। হয়তো আপনার একটি কথাই কাউকে গিবত থেকে বিরত রাখবে, একটি আড্ডাকে গুনাহমুক্ত করবে।

আত্মীয়তা রক্ষা করুন, মেহমানদের সম্মান করুন, সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করুন। তবে এসব করতে গিয়ে নিজের নামাজ, আমল ও দ্বীনি দায়িত্বে অবহেলা করবেন না। মানুষের মন জয় করার চেয়ে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনই হোক আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গিবতসহ সব ধরনের গুনাহ থেকে হেফাজত করুন, আমলের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে অবিচল রাখুন। আমিন।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ