আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্ববরেণ্য ইসলামি ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও আলেম মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানীর দিন কাটে ইবাদত, পাঠদান, গবেষণা, লেখালেখি ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। দিনের প্রতিটি সময় তিনি সুনির্দিষ্ট কাজে ব্যয় করেন। শিক্ষকতা, দাপ্তরিক ব্যস্ততা ও গবেষণার পাশাপাশি পরিবারের জন্যও রাখেন নির্দিষ্ট সময়। তাঁর এই সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের চিত্র উঠে এসেছে তাঁর সহধর্মিণীর এক সাক্ষাৎকারে।
সাক্ষাৎকারে মুফতি তাকী উসমানীর সহধর্মিণী জানান, ফজরের নামাজের পর তাঁরা দুজন একসঙ্গে প্রাতঃভ্রমণে বের হন। সকাল সাড়ে সাতটায় নাশতা করেন। এরপর সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মুফতি তাকী উসমানী সহিহ বুখারির দরস দেন। এ সময় তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকেন।
সকাল ১০টায় দরস শেষে ঘরে ফিরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ল্যাপটপে বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়ন, প্রবন্ধ রচনা ও লেখালেখির কাজ করেন মুফতি তাকী উসমানী। এরপর দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত দপ্তরে সময় দেন। জোহরের নামাজের পর সোয়া ২টার দিকে তাঁরা একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। খাবার শেষে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিশ্রাম নেন তিনি।
এরপর আবার দপ্তরে ফিরে যান। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
আসরের নামাজের পর তিনি ঘরে ফিরে আসেন। মাগরিব পর্যন্ত সময়টুকু একান্তই পরিবারের জন্য বরাদ্দ থাকে। পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে বসানোর বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। এ সময় পারিবারিক নানা বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।
মাগরিবের নামাজের পর আবার গবেষণা ও লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন মুফতি তাকী উসমানী। এশার নামাজ পর্যন্ত চলে তাঁর এই ব্যস্ততা। এ সময় তাঁকে কোনোভাবেই বিরক্ত করা হয় না বলে জানান তাঁর সহধর্মিণী।
এশার নামাজের পর পরিবারের সবাই একসঙ্গে রাতের খাবার খান। খাবার শেষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসেন তিনি। এ সময় কোনো কিতাব থেকে ইসলামের বিভিন্ন ঘটনা পড়ে শোনান। এই বিশেষ মজলিসে নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সবার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক বলে জানান তাঁর সহধর্মিণী।
পারিবারিক এই পর্ব শেষে রাত ১২টা পর্যন্ত আবারও লেখালেখি ও গবেষণার কাজে ব্যস্ত থাকেন তিনি। এভাবেই ইবাদত, ইলমচর্চা, গবেষণা, শিক্ষকতা ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে কাটে তাঁর প্রতিটি দিন।
সূত্র: করাচি থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সাময়িকী দ্য ইন্টেলেক্ট-এ প্রকাশিত মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানীর সহধর্মিণীর সাক্ষাৎকার। পরবর্তী সময়ে সাক্ষাৎকারটি উর্দু ডাইজেস্ট-এও প্রকাশিত হয়।
এসএইচ/