শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
যেভাবে বাঁচবেন শয়তানের ধোঁকা থেকে জুমার খুতবা চলাকালে নামাজ ও কথাবার্তার বিধান ইসলামি লেখক ফোরামের অভিভাবক পরিষদ পুনর্গঠন, আসছে নতুন কর্মসূচি সনদে ভুল এড়াতে মাদরাসাগুলোকে বেফাকের জরুরি নির্দেশনা বাবুনগর মাদ্রাসায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জুমার শেষে যোগ দেবেন সম্মেলনে সিসেস্তার মাউন্ট বারবারো: ইতিহাসের সাক্ষী প্রাচীন মসজিদ শৈশবের বিশ্বাসের সঙ্গে ইসলামের মিল, মুসলিম হলেন মার্কিন তরুণী ফেনীতে ‘খেলাফতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মাদরাসার বৃত্তি পরীক্ষা: কেন্দ্রসচিবদের জন্য বোর্ডের ১৪ নির্দেশনা মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে আজ জুমা পড়াবেন যাঁরা

জুমার খুতবা চলাকালে নামাজ ও কথাবার্তার বিধান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক 

জুমার দিন সাপ্তাহিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের দিন। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার খুতবা শ্রবণ করা। খুতবার মাধ্যমে ইমাম মুসল্লিদের সামনে আল্লাহ তাআলার নির্দেশনা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা এবং দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাই খুতবা চলাকালে প্রত্যেক মুসল্লির কর্তব্য মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং নীরব থাকা। এ সময় নামাজ আদায় ও কথাবার্তা বলার বিষয়ে হাদিসে বিশেষ নির্দেশনা এসেছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, 

«إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ فَلَا صَلَاةَ وَلَا كَلَامَ حَتَّى يَفْرُغَ الْإِمَامُ»

‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে আর ইমাম মিম্বরে উঠে খুতবা দেন, তখন ইমাম খুতবা শেষ করা পর্যন্ত কোনো নামাজ নেই, কোনো কথাও নেই।’ (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২/১৮৪, হাদিস: ২০১৪) 

হজরত সা'লাবা ইবনে আবি মালিক আল-কুরাজি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

«أَنَّ جُلُوسَ الْإِمَامِ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقْطَعُ الصَّلَاةَ وَكَلَامَهُ يَقْطَعُ الْكَلَامَ»

‘নিশ্চয় ইমামের মিম্বরে বসা নামাজ বন্ধ করে দেয় এবং তাঁর কথা বলা কথাবার্তা বন্ধ করে দেয়।’ (শরহু মাআনিল আছার, ১/৩৭০, হাদিস: ২০১৪) 

খুতবা চলাকালে কথা বলার ব্যাপারেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 

«إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ»

‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছেন, তখন তুমি যদি তোমার পাশের ব্যক্তিকে বলো, চুপ থাকো, তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫১) 

খুতবার সময় মুসল্লির করণীয়

উল্লিখিত হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, জুমার খুতবা চলাকালে মুসল্লিদের নীরব থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা উচিত। এ সময় গল্পগুজব, কথাবার্তা কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি অন্য কাউকে চুপ থাকতে বলার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

তবে খুতবা চলাকালে মসজিদে প্রবেশকারী ব্যক্তির তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা নিয়ে ফিকহবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। হাদিসের বর্ণনা ও ফিকহি ব্যাখ্যার আলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান জানা প্রয়োজন। বিশেষত হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমদের ফতোয়া অনুসরণ করা উচিত।

সুতরাং জুমার খুতবার মর্যাদা রক্ষা, মনোযোগসহকারে তা শ্রবণ এবং অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসল্লির দায়িত্ব। খুতবার সময় নীরবতা ও মনোযোগ বজায় রাখার মাধ্যমে আমরা এ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের আদব রক্ষা করতে পারি।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ