রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬ ।। ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

২৫ বছরের ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ২৫ বছর একই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আবুল হোসেনকে ঘোড়ার গাড়িতে করে ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় বিদায় দিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী।

দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালন শেষে শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের নয়ান মাদবর কান্দি খানবাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়।

মাওলানা আবুল হোসেন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ওই মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও তারাবিহসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুবাদে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে তার গড়ে ওঠে গভীর আত্মিক সম্পর্ক।

বিদায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। প্রিয় ইমামকে বিদায় দিতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী মাওলানা আবুল হোসেনকে ঘোড়ার গাড়িতে তুলে দেন। ব্যতিক্রমী এ বিদায় দেখতে সেখানে ভিড় করেন আশপাশের অনেক মানুষ।

বিদায় উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে মাওলানা আবুল হোসেন বলেন, ‘এই মসজিদের সঙ্গে আমার জীবনের ২৫টি বছর জড়িয়ে আছে। এখানকার মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে আমি সবসময় ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছি। বিদায়ের সময় তারা যেভাবে আমাকে সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, আমার কাছে মনে হয়েছে তারা আমাকে জান্নাতে পৌঁছে দিয়েছেন। আমি সবাইকে দোয়া করতে বলব এবং আমিও তাদের জন্য দোয়া করব।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য কালাম খান বলেন, ‘হুজুর আমাদের কাছে শুধু একজন ইমাম ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরিবারের একজন অভিভাবকের মতো। দীর্ঘ ২৫ বছর তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের মসজিদে ইমামতি করেছেন। তার বিদায়ে আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি।’

বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজক রবিউল ইসলাম রাব্বি বলেন, ‘হুজুরের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তিনি ধর্মীয় বিষয় ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। তাকে এভাবে ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদায় দিতে পেরে আমরা আনন্দিত, আবার বিদায়ের মুহূর্তে আবেগাপ্লুতও হয়েছি।’

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জইনুদ্দিন খান বলেন, ‘মাওলানা আবুল হোসেন দীর্ঘদিন অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার প্রতি মুসল্লি ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা থেকেই এই ব্যতিক্রমী বিদায়ের আয়োজন করা হয়েছে।’

দীর্ঘ ২৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর প্রিয় ইমামের এমন ব্যতিক্রমী বিদায়ের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মুসল্লিদের ভালোবাসা ও সম্মানের এমন প্রকাশ স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ