শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ ।। ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি রোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে যুব আন্দোলনকে’ সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৪ মুসলিম প্রতিবেশীর ওমরাহর স্বপ্ন পূরণে কুরআন প্রতিযোগিতায় খ্রিস্টান যুবক ইসলামি অর্থনীতি ও শরিয়াহ গবেষণায় যৌথভাবে কাজ করবে তিন প্রতিষ্ঠান বিশ্বজয়ী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়াকে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের সংবর্ধনা ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে’ মারকাযুল লুগায় পাঁচ দিনব্যাপী বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ২ শিশুর ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘ডাবল ট্যাপ’ ড্রোন হামলা: নারী-শিশুসহ নিহত ১৬ বগুড়ায় ট্রাকচাপায় বিজিবি সদস্যের মৃত্যু

যে কারণে একের পর এক খুন করেন সম্রাট

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ভবঘুরের ছদ্মবেশে ৬টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ৬ খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এদিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট পুলিশকে জানিয়েছেন, কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই তাদের ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ করে দিতাম।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাভারের পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া জোড়া মরদেহের ঘটনায় তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে ওই ব্যক্তির চলাফেরা, অবস্থান ও সময়ের মিল পাওয়ায় তাকে নজরদারিতে আনা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সম্রাট কমিউনিটি সেন্টারে পাওয়া সর্বশেষ জোড়া মরদেহসহ ৬টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।

এ বিষয়ে সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, সম্রাট পাগল নন। অতিরিক্ত নেশা করার কারণে তিনি কিছুটা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। মানুষ খুন করা তার নেশায় পরিণত হয়েছিল। তার ভাষায়, হত্যাকে তিনি ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ বলে উল্লেখ করতেন।

তিনি আরও জানান, মশিউর রহমান সম্রাট তার আসল নাম নয়, তার প্রকৃত নাম ভিন্ন। নিজেকে নিরাপদ রাখতে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। তার বাড়িও সাভারে নয়। হয়তোবা অন্য কোনো স্থানে আরও কোনো অপরাধ করে তিনি সাভারে এসে আস্তানা গেড়েছিলেন এবং ভবঘুরে জীবন বেছে নিয়েছিলেন। তবে শিগগিরই তার আসল নাম ও পরিচয় জানা যাবে।

পুলিশ আরও জানায়, সাভারে আসার পর ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার বেশির ভাগ রাত কাটিয়েছেন সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার পর তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে চলে আসেন এবং ওই সেন্টারের নিচতলায় আস্তানা গাড়েন। এরপর থেকেই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার হতে থাকে। গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সেন্টারে নিয়মিতভাবে নজরদারি চালানো হতো। সম্রাটও সন্দেহের বাইরে ছিলেন না। কিন্তু কোনো ক্লু বা প্রমাণের অভাবে তাকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছিল না।

এ বিষয়ে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, খুনি ধরা পড়েছেন এবং খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। এখন ভিকটিম, অর্থাৎ যারা খুন হয়েছেন, তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু এই ছয় খুনই নয়, সম্রাট আরও কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্ত চলছে। আশা করি, সব তথ্য বের হয়ে আসবে।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ