নবিগণের যে দোয়াগুলো পবিত্র কুরআনে এসেছে!
জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ৯:০০ অপরাহ্ণ

সাখাওয়াত রাহাত।। মুসলমানরা চলতে ফিরতে একে অন্যের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে। সবাই সবাই সবার কাছে কোনো না কোনো উসিলায় দোয়া চান। আর বিপদ-আপদের সময় তো দোয়া আমাদের মুখে লেগেই থাকে। বস্তুত দোয়া শুধু প্রয়োজনে নয়, দোয়া একটি ইবাদত বিশেষ।

ইসলামের পরিভাষায়, দোয়া শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘আবাহন’ বা ‘ডাকা’, যা একটি পদ্ধতিসিদ্ধ মিনতি প্রক্রিয়া। অভিজ্ঞ আলেমরা বলেন, দোয়া একটি আমল ও স্বতন্ত্র ইবাদত।

তাই দোয়ায় যার বিশ্বাস নেই, তার ঈমান নেই। এক হাদিসে রাসূলে কারিম সা. বলেন, ‘দোয়া করা হুবহু ইবাদত। অতপর তিনি কোরআনের এই আয়াত পেশ করেন, ‘তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমার নিকট দোয়া কর, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো। ’ -তিরমিজি, নাসাঈ ও ইবনে মাজা

দোয়া প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো।’ হজরত নোমান বিন বশির থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘দোয়া হচ্ছে ইবাদত। ’ -আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজা।

নবিগণ আল্লাহর কাছে যেভাবে দোয়া করেছেন, কুরআনে এর অনেকগুলো আয়াতে সে আলোচনা করা হয়েছে। চলুন দেখে আসি কোন নবি আল্লাহর কাছে কিভাবে দোয়া করেছেন। হয়ত সেভাবে দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা আমার ডাকে সাড়া দিবেন।

হজরত আদম আলাইহিস সালাম-এর দুআ—
رَبَّنَا ظَلَمۡنَاۤ اَنۡفُسَنَا وَاِنۡ لَّمۡ تَغۡفِرۡ لَنَا وَتَرۡحَمۡنَا لَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ
উচ্চারণ: রাব্বানা জালামনা আনফুছানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা-ওয়া তারহামনা-লানাকূনান্না মিনাল খা-ছিরীন।

অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। (সূরা আরাফ ৭ : ২৩)

হজরত নূহ আলাইহিস সালাম-এর দুআ—
رَبِّ اغۡفِرۡ لِیۡ وَلِوَالِدَیَّ وَلِمَنۡ دَخَلَ بَیۡتِیَ مُؤۡمِنًا وَّلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ ؕ وَلَا تَزِدِ الظّٰلِمِیۡنَ اِلَّا تَبَارًا উচ্চারণ: রাব্বিগ-ফিরলী ওয়ালিওয়া-লিদাইইয়া ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মু’মিনাওঁ ওয়া লিল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনা-ত

অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে-তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন। (সূরা নূহ ৭১ : ২৮)

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম-এর দুআ— رَبِّ اجۡعَلۡنِیۡ مُقِیۡمَ الصَّلٰوۃِ وَمِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ ٭ۖ رَبَّنَا وَتَقَبَّلۡ دُعَآءِ
উচ্চারণ: রাব্বিজ ‘আলনী মুকীমাস সালা-তি ওয়া মিন যুররিইইয়াতী, রাব্বানা-ওয়া তাকাব্বাল দু‘আ-ই।

অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে নামাজ কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, এবং কবুল করুন আমাদের দোয়া। (সূরা ইবরাহিম ১৪ : ৪০)

হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম-এর দুআ— (رَبِّ) اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَاَنۡتَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ ۚۖ উচ্চারণ: (রাব্বি) আন্নী মাছছানিয়াদ দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রা-হিমীন ।

অর্থ: (হে আমার পালনকর্তা!) আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান। (সূরা আম্বিয়া২১ : ৮৩)

হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম-এর দুআ— لَّاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنۡتَ سُبۡحٰنَکَ ٭ۖ اِنِّیۡ کُنۡتُ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ۚۖ উচ্চারণ: লা-হা ইল্লা আনতা ছুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনাজ্জালিমীন।

অর্থ: আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; আপনি নির্দোষ আমি গুনাহগার। (সূরা আম্বিয়া ২১ : ৮৭)

হজরত শুয়াইব আলাইহিস সালাম-এর দুআ—رَبَّنَا افۡتَحۡ بَیۡنَنَا وَبَیۡنَ قَوۡمِنَا بِالۡحَقِّ وَاَنۡتَ خَیۡرُ الۡفٰتِحِیۡنَ উচ্চারণ: রাব্বানাফতাহ বাইনানা -ওয়া বাইনা-কাওমিনা-বিলহাক্কি ওয়া আনতা খাইরুল ফা-তিহীন।

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের কওমের মধ্যে যথার্থ ফয়সালা করে দিন। আর আপনি শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী। (সূরা আরাফ ৭ : ৮৯)

হজরত মুসা আলাইহিস সালাম-এর দুআ— رَبِّ اشۡرَحۡ لِیۡ صَدۡرِیۡ ۙ وَیَسِّرۡ لِیۡۤ اَمۡرِیۡ ۙ وَاحۡلُلۡ عُقۡدَۃً مِّنۡ لِّسَانِیۡ ۙ উচ্চারণ: রাব্বিশ রাহলী সাদরী, ওয়া ইয়াছছিরলী আমরী, ওয়াহলুল ‘উকদাতাম মিলিলছা-নী।

অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন। (সূরা ত্বোয়া-হা ২০ : ২৫-২৭)

হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর দুআ— اَنۡتَ وَلِیّٖ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۚ تَوَفَّنِیۡ مُسۡلِمًا وَّاَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ উচ্চারণ: আনতা ওয়ালিইইয়ী ফিদ দুনইয়া-ওয়াল আখিরাতি, তাওয়াফফানী মুছলিমাওঁ ওয়া আলহিকনী বিসসা-লিহীন।

অর্থ: আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন। (সূরা ইউসুফ ১২ : ১০১)

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুআ— رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً وَّفِی الۡاٰخِرَۃِ حَسَنَۃً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ উচ্চারণ: রাব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনইয়া হাছানাতাওঁ ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাছানাতাওঁ ওয়াকিনা ‘আযা-বান্না-র।

অর্থ: হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদিগকে দোজখের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারা ২ : ২০১)

-এটি