রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ।। ১ বৈশাখ ১৪৩১ ।। ৫ শাওয়াল ১৪৪৫

শিরোনাম :

মুসলিম ইতিহাসে যেভাবে শুরু হয়েছিলো মুদ্রার ব্যবহার!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

॥মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান॥

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুদ্রার আকার আকৃতির কোন রূপ পরিবর্তন সাধন না হলেও পরবর্তীতে এর আকার, নীতি ও বিধি বিধানের অনেক পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে।

নবী স. এর আমলে যে সব মুদ্রা প্রচলিত ছিল পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যবসায়-বাণিজ্যের বিস্তার লাভের সাথে সাথে মুসলমানদের কারবার ভিন্ন রূপ হওয়া বিশেষ প্রয়োজন ছিল যা ইসলামী সম্প্রদায়ের ব্যক্তিত্বকে পৃথিবীর অন্যান্য জাতি ও সম্প্রদায়ের সম্মুখে তুলে ধরবে। ইসলামী শাসনামল বা সভ্যতার যুগে মুদ্রার প্রকৃতিগত বা মৌলিক কোন পরিবর্তন হয় নি, এটি মূলত ধাতব মুদ্রাই ছিল বরং এর আকার আকৃতিগত পরিবর্তনই হয়েছে।

প্রখ্যাত মুসলিম ঐতিহাসিক বালাজুরী তার ‘ফুতুহুল বুলদান’ গ্রন্থে এ সম্পর্কে বলেন, “জাহেলিয়া আমলে মক্কাবাসীগণ রোম সম্রাট ‘হেরাকেল’ এর মুদ্রা ‘দিনার’ ব্যবহার করতেন এবং তারা পারস্য সাম্রাজ্যের ‘কায়সারের’ রৌপ্য মুদ্রা ‘দিরহাম’ ব্যবহার করতেন এবং ‘মিসকাল’ এর ভিত্তিতে তারা পরিমাণ নির্ধারণ করতেন।

এ সময় আরবগণ স্বর্ণ মুদ্রার নাম দিয়েছিল ‘আল-আইন’ এবং রৌপ্য মুদ্রার নাম দিয়েছিল ‘আল-ওরাক’। তার পর রোমানদের মুদ্রা ‘দিনার’ এবং পারস্যদের মুদ্রা ‘দিরহাম’ অধিক ক্ষেত্রে ব্যবহার হতো, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ইয়ামেনের মুদ্রা ‘হুমায়রিয়া’ আরবদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, কিন্তু খুব ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবহার হতো। এ সময় মুসলমানদের জন্য নতুন কোন বিশেষ মুদ্রার প্রচলন না করার প্রধান কারণ হতে পারে সম্ভবতঃ রসূলুল্লাহ স. এর এমন বিষয়ের প্রতি ব্যস্ততা যা এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়াজনীয় ছিল। সে সময় নবী স. এবং মুসলমানগণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে সমগ্র আরব উপদ্বীপকে একীভূত করার বিষয়ে নিমগ্ন ছিলেন।

ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর রা. নবী স. এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং মুদ্রার পরিবর্তন সাধন সম্পর্কে কোন মনোযোগ দেননি। অন্যদিকে আবু বকর রা. এর খিলাফত কাল ছিল খুবই স্বল্প সময়ের এবং মুদ্রার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিপূর্ণ ছিল যেমন ‘মুরতাদ’ বা ইসলামত্যাগীদের বিষয় ও তাদের সাথে যুদ্ধ বিগ্রহ, যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি ইত্যাদি। এ ছাড়াও নবী স. এর আরব উপদ্বীপের বাইরে ইসলামকে ছড়িয়ে দেয়ার মিশন পরিচালনা এবং সে সময়ের মহাক্ষমতাধর দু’সম্রাট (রোম সম্রাট ও পারস্য সম্রাট) এর নিকট ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়া।

উমর রা. মুদ্রা বিষয়ে তিনটি পরিকল্পনা করেছিলেন, এর দু’টি তিনি বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং একটি থেকে বিরত থাকেন। তিনি সর্বপ্রথম ইসলামী মুদ্রার প্রচলন করেন এবং এতে বেশ কিছু ইসলামী শব্দ সংযোজন করেন। আর এটা করেন তার খিলাফতের ৮ম বর্ষে অর্থাৎ ২০ হি. (৬৪১ খ্রি.) সনে। তিনি পারস্য সম্রাট কায়সারের ‘দিরহামের’ আকার আকৃতির অনুরূপ মুদ্রা তৈরীর জন্য নির্দেশ দেন এর উপর খলিফার নাম, তৈরির স্থান ও তারিখ লিখা হয়।

তবে কোনটির উপর অতিরিক্তভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ কোনটির উপর ‘মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ’ কোনটির উপর কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু’ এবং কোনটিতে ‘উমর’ লিখা হয়। তদ্রƒপ দামেস্কে ‘ব্রোঞ্জে’র তৈরী মুদ্রাসমূহে ‘জায়েজ’ এবং হেমসে তৈরী মুদ্রাসমূহে ‘তাইয়েব’ কিংবা ‘ওয়াফি’ ইত্যাদি শব্দ সংযোজন করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সঠিক ওজন নির্দেশ করা।

উমর রা.-এর এ পদক্ষেপের কারণ ছিল সে সময় মুসলমানদের ব্যবসায়-বাণিজ্যে অস্বাভাবিক বিস্তৃতি এবং ব্যবসায়-বাণিজ্যের এ প্রসারতার জন্য প্রয়োজনীয় মুদ্রা সরবরাহ করা। এভাবে মুদ্রা একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে এবং ইসলামী মুদ্রায় পরিণত হয় এবং এর উপর বিভিন্ন ধরনের ইসলাম শব্দাবলী অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়।

এভাবেই খলীফা ওমর রা. ইসলামী মুদ্রা প্রচলনের দিক থেকে উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের উপর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তবে ড. হামদান আব্দুল মজিদ আল কাবিছি বলেন, উমর রা. নতুন মুদ্রা প্রচলন করেন। তিনি শুদ্ধ মুদ্রার আকৃতি পরিবর্তন করেছেন যাতে সংযোজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। প্রকৃত ঘটনা যাই হোক না কেন এতে উমর রা.-এর অগ্রণী ভূমিকাকে কোন ভাবেই দুর্বল করে না।

ইসলামী মুদ্রা এখান থেকেই শুরু হয়েছে। এরপর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন তা পূর্ণতা দান করেন এবং উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের সময় মুদ্রা ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটে এবং তিনি প্রচলিত মুদ্রা ব্যবস্থায় পূর্ণ ইসলামী মুদ্রা চালু করেন।

এ পর্যায়ে দিরহামের ওজন স্থিতিশীল করা হয়। কারণ ইত:পূর্বে দিরহামের ওজন বিভিন্ন রকম ছিল। কেননা সে সময় রোম সাম্রাজ্য ও পারস্য সাম্রাজ্যের অধীনে মুদ্রা ব্যবস্থা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল অবস্থায় নিপতিত হয়।

অতঃপর পৃথিবীতে ইসলামের আলো উদ্ভাসিত হলে পর্যায়ক্রমে পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধান হতে থাকে। মাওয়ারদী উল্লেখ করেন, “উমর রা. যখন দিরহামের পরিমাণের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখেন যেমন- বাগালি দেরহামের পরিমাণ ছিল আট দাওয়ানেক, এবং তাবারি দিরহামের পরিমাণ ছিল চার দাওয়ানেক, মাগরেবী দিরহামের পরিমাণ ছিল তিন দাওয়ানেক আর ইয়ামেনি দিরহামের পরিমাণ ছিল এক দাওয়ানেক। তিনি বলেন, “তোমরা লক্ষ্য কর, কোন- মুদ্রা বেশি ব্যবহৃত হয় এবং অধিকাংশ মানুষ ব্যবহার করে। অতঃপর দেখা যায়, বাগালি দিরহাম এবং তাবারি দিরহাম সর্বাধিক ব্যবহার হয়। তিনি ঐ দুটি মুদ্রা একত্র করেন এবং তা ১২ দাওয়ানেকে পরিণত হয়। তিনি এর অর্ধেক ছয় দাওয়ানেক গ্রহণ করে ‘ইসলামী দিরহাম’ ছয় দাওয়ানেক প্রচলন করেন।

ইমাম মাকরিজি, ইবনে খালদুন ও ইমাম মাওয়ারদী এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, উমর রা. উপরোক্ত পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ইবনে সালাম উক্ত কাজটি উমাইয়া খলিফাদের কাজ বলে উল্লেখ করেন এবং ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসী উক্ত অভিমত সমর্থন করেন।
ইমাম আবু উবায়েদ বলেন, “উমাইয়া যুগে যখন মুদ্রা তৈরীর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় তখন এর পরিণতি কি হবে তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া হয়। অতঃপর যখন মুদ্রা তৈরির জন্য সকলেই সম্মত হন তখন পূর্ণ দিরহামের বিবেচনা করা হয় আর এর পরিমাণ ছিল আট দাওয়ানেক, এর চেয়ে ছোট দিরহামের পরিমাণ ছিল চার দাওয়ানেক। অতঃপর তারা ছোট ও বড় উভয় প্রকারের মুদ্রাকে সম মুদ্রায় পরিণত করেন এবং দু’টি মুদ্রাই ছয় দাওয়ানেক করে তৈরী করা হয়।

অনারবদের তৈরী দিরহাম ছোট-বড় ছিল। আরবগণ তা থেকে মিসকাল তৈরী করতো যার ওজন ছিল বিশ কিরাত, কোনটি ১২ কিরাত, কোনটি ১০ কিরাত, আর এটাই ছিল মধ্যম পর্যায়ের। ইসলামের আবির্ভাবের পর যাকাত আদায়ের জন্য মধ্যম পন্থা অবলম্বনের প্রয়োজন হল তখন তারা ২০ কিরাত, ১২ কিরাত ও ১০ কিরাত যোগ করে ৪২ কিরাত পান এবং এর এক তৃতীয়াংশ ওজন নিয়ে নতুন করে দিরহাম তৈরী করেন যার ওজন ১২ কিরাত। এতে প্রতি ১০ দিরহামের ওজন হয় ৭ মিসকাল, তাতে ৭ মিসকাল সমান ১৪০ কিরাত হতো।

ইবনে খালদুন এ ওজনের পক্ষে বলেন, “ইসলামের প্রথম যুগ, সাহাবাদের যুগ ও তাবেয়ীদের যুগ থেকেই এ ব্যাপারে ইজমা হয়েছে যে, ইসলামী দিরহাম দশ দিরহাম সমান ৭ মিসকাল স্বর্ণ এবং এর এক আওকিয়া সমান ৪০ দিরহাম, এ হিসাবে এক দিরহাম এক দিনারের ৭ (সাত) দশমাংশ এবং এক মিসকাল স্বর্ণের পরিমাণ হল ৭২ গমের দানা।

সুতরাং এক দিরহাম যা এক দিনারের সাত দশমাংশ, এর পরিমাণ হল ৫০, ২/৫ গমের দানা। আর এ পরিমাণগুলো প্রতিটিই ইজমা দ্বারা সমর্থিত।

আলামাজমু’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, রাফেয়ী এবং অন্যরা বলেছেন, প্রথম যুগের অধিবাসীগণ এই ওজনের ভিত্তিতে পরিমাপ করার জন্য ইজমা করেছেন অর্থাৎ এক দিরহাম সমান ছয় দাওয়ানেক এবং প্রতি ১০ দিরহাম সমান সাত মিসকাল। ইবনে নুজাইম বলেন, “প্রতি ১০ দিরহাম সমান ৭ (সাত) মিসকাল যা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সুতরাং খলীফা উমরের রা. আমলে মুদ্রা সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয়েছে দিনার এবং দিরহামের মধ্যে স্থায়ী অনুপাত অর্থাৎ ৭/১০, (অর্থাৎ এক দিরহাম সমান ৭/১০ দিনার, এবং এখান থেকে ‘ইসলামী দিরহামের’ ওজন ছিল (২,৯৭ গ্রাম) এবং ‘ইসলামী দিনারের’ ওজন ছিল (৪,২৫ গ্রাম)।

খলীফা উমর রা. স্বর্ণ ও রৌপ্যের মুদ্রার পরিবর্তে পশুর চামড়ার মুদ্রা প্রচলন করতে চেয়েছিলেন এর উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের ফলে বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য মুদ্রা বহন সহজসাধ্য করা।

বালাজুরী বলেন, উমর রা. বলেছেন, “আমি ছেয়েছিলাম উটের চামড়া দিয়ে ‘দিরহাম’ তৈরী করতে। আমাকে সতর্ক করা হলো এই বলে যে, ‘তা হলে তো কোন উটই থাকবে না’ তারপর আমি বিরত হলাম। উসমান রা. তার পূর্বসুরীর নিয়মই অনুসরণ করেছেন। তিনিও নতুন মুদ্রা তৈরী করেন এবং তাতে ইসলামী শব্দাবলী সংযোজন করেন। ইমাম মাকরিজি বলেন, “উসমান ইবনে আফ্ফান রা. খিলাফতে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর (২৩ হি./৬৪৪ ইং) ‘দিরহাম’ তৈরী করেন এবং এতে ‘আল্লাহ আকবার’ লিখে নকশা করা হয়।

আলী ইবনে আবু তালিব রা. এর আমলেও পূর্বের মতই মুদ্রার উন্নয়ন কাজ চালু ছিল। তিনি ইসলামী মুদ্রার প্রচুর উন্নয়ন সাধন করেন, মুদ্রার পুনঃমূল্যায়ন করেন এবং এর উপর আরবী ইসলামী শব্দাবলী সংযোজন করেন। ‘আলমুকতাতাফ’ নামক সাময়িকীতে এসেছে, “আলী রা. এর খিলাফতের সময় যে সব মুদ্রা (হিঃ ৩৭ সনে) তৈরী করা হয়েছিল সেসব মুদ্রার উপর লিভা ছিল “ওলিআল্লাহু” এবং হি. ৩৮ ও ৩৯ সনে তৈরী মুদ্রার উপর লিখা ছিল “ওলিআল্লাহু” এবং হি. ৩৮ ও ৩৯ সনে তৈরী মুদ্রার উপর লিখা ছিল “বিসমিল্লাহি রাব্বি”।

ইমাম মাকরিজি বলেন, “যখন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রা. এর নিকট মুদ্রার বিষয়টি ওঠল এবং কুফা ও বসরার লোকজন তার পুত্র জিয়াদের নিকট উপস্থিত হল তখন তিনি বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহর নেক বান্দাহ উমর রা. দিরহামকে ছোট করেছেন এবং হাতকে বড় করেছেণ এবং এর উপর সৈন্যদের বেতনের জন্য ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে এবং প্রজাতের প্রতি দয়া প্রদর্শন হিসেবে শিশুদের জন্য বন্টন করা হচ্ছে। আপনি যদি এর চেয়ে স্বল্প ওজনের মুদ্রা প্রচলন করতেন তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতি অধিক দয়া প্রদর্শন করা হতো এবং এর দ্বারা একটি উত্তম নিয়ম প্রচলিত হতো।

অতঃপর মুয়াবিয়া রা. ছয় দাওয়ানেকের চেয়ে কম ওজনের মুদ্রা প্রচলন করেন যার ওজন ১৫ কিরাত হয়, এক কিংবা দুই দানা কম। এর পর জিয়াদ নতুন করে মুদ্রা তৈরী করেন এবং প্রতি ১০ দিরহামের ওজন সাত মিসকাল করে তা দিরহামের পরিবর্তে ব্যবহার হতো।

মুয়াবিয়া রা. এর কার্যাবলী শুধু ‘দিরহাম’ তৈরী করার মধ্যেই থেকে ছিল না, তিনি ৪১ হিজরী/৬৬১ ইং সনে ‘দিনার’ ও তৈরী করেন। মো: আলী, ‘ইরাক রিপাবলিক’ নামক পত্রিকা থেকে সংকলন করেন, “চীন প্রজাতন্ত্রের ‘সিয়ান’ নামক গোরস্থানে সম্প্রতি তিনটি আরবী স্বর্ণের টুকরো আবি®কৃত হয়েছে অত:পর এ গোরস্থান “চীনা ঐতিহ্য পরিষদ” কর্তৃক তদন্ত করা হয়েছে এবং তাতে দেখা গেছে ঐ মুদ্রাটির ব্যাস ১ : ৯ সেমি, উজন ছিল ৪,৩ গ্রাম, পুরো ছিল এক মি.লি.। এক পিঠের মধ্যস্থানে তিন লাইনে আরবীতে লিখা, ‘লা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু’, ‘মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ, আরছালাহু বিল-হুদা ওয়া দিনিল-হাক্ক’। প্রত্যেক মুদ্রার অপর পিঠে কুফী অক্ষরে নকশা বিদ্যমান ছিল, সেখানে লিখা এই দিনারটি তৈরী করা হয়েছে মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের সময়ে।

আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. মুদ্রা বিষয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা হচ্ছে, তিনি মুদ্রার আকার পরিবর্তন করেছিলেন এবং আয়তাকারের পরিবর্তে গোলাকার করে তৈরী করেছিলেন। ঐতিহাসিক জাওদাত পাশা ১৯ হিজরীতে ইয়াজেদ নামক স্থানে তৈরী মুদ্রা দেখেছেন। এর চতুর্দিকে লিখা ছিল, “আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের আমীরুল মুমিনীন”। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের পুত্রও মুদ্রার উপর বিভিন্ন ইসলামী শব্দাবলী সংযোজন করেছিলেন।

ইমাম মাকরিজি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর যখন মক্কায় খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন তখন তিনি গোলাকার মুদ্রা তৈরী করেন সুতরাং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি গোলাকার দিরহাম তৈরী করেছিলেন। এর পূর্বে যে সব ‘দিরহাম’ তৈরী করা হয়েছিল তা ছিল পুরু ছোট ও আয়তাকার। অতঃপর তিনি গোলাকার করে তৈরী করেন এবং এর এক পৃষ্ঠায় নকশাকারে লিখা হয়, ‘মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ’ অন্য পৃষ্ঠায় লিখা হয় ‘আমারাল্লাহু বিল ওফায়ে ওয়াল আদলে’ (আল্লাহ ওয়াদা পূর্ণ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন)।

ঐতিহাসিক বালাজুরী বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. এর নির্দেশে মুসয়াব রা. ‘দিরহাম’ তৈরী করেছিলেন ৭০ হিজরীতে পারস্যের মুদ্রার ধরন অনুযায়ী এবং এর উপর লিখা হয়েছিল ‘বারকাতুল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহ’। তদ্রƒপ বর্ণিত আছে, মুসয়াব রা. দিনার তৈরী করেছিলেন। মাওয়ারদী, ইবনে খালদুন এবং ইমাম মাকরিজিও একই কথা বলেছেন।

অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতানুসারে খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান প্রথম ব্যক্তি যিনি ইসলামী দিনার তৈরী করেন এবং তিনিই সর্বপ্রথম ইসলামী মুদ্রা প্রচলনের পূর্ণ মর্যাদা পেয়েছিলেন এবং তিনিই সমগ্র পৃথিবীতে প্রধান ও প্রথম মুদ্রা তৈরী ও প্রচলনকারী হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। আধুনিক পরিভাষা অনুযায়ী ‘ইসলামী দিনার’ তখনকার ‘হার্ড কারেন্সি’ তে পরিণত হয়েছিল।

একটি আধুনিক গবেষণায় ড. নাজদাহ খামাস বলেন, “সিরিয়ায় দিনার পাওয়া গিয়েছিল ১৯৫৪ সনে, এরপর লেবাননে স্থানান্তরিত হয় এবং সেখান থেকে করাচির যাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয় এবং এখনও সেখানেই আছে। এই আরবীয় নতুন দিনার তৈরী হয়েছিল ৭৪ হিজরী সনে। এর প্রথম পৃষ্ঠায় অংকিত ছিল খলিফা আব্দুল মালিকের ছবি, দণ্ডায়মান, তরবারী হাতে, পরনে যুদ্ধের-পোশাক। এর চতুর্দিকে লিখা ছিল বিপরীত দিক থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু’, ‘মুহাম্মদ রসূলুলাহ’ প্রথম পীঠের মধ্যখানে ছিল বাইজেনটাইন ক্রস, এর চতুর্দিকে লিখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ’।

এই দিনার হিজরী ৭৪ সনে তৈরী করা হয়েছিল। গবেষকগণ এমতকেই সমর্থন করে বলেন, তিনিই সর্বপ্রথম ইসলামী দিনার তৈরি করেন, তবে এর দ্বারা গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম ইসলামী মুদ্রা প্রস্তুতকারী হিসেবে উমর রা. এর নাম অস্বীকার করা যায় না দু’কারণে-

প্রথমত: ঐতিহাসিকগণ এবং গবেষকগণের মতামতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব। খুলাফায়ে রাশেদার দ্বিতীয় খলীফা উমর রা. প্রথম ‘ইসলামী দিরহাম’ তৈরী করেন। উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান সর্বপ্রথম ‘ইসলামী দিনার’ তৈরী করেছিলেন। ‘দিরহাম’ ‘দিনার’ নয়। প্রত্যেকেই পৃথক পৃথক কাজ করেছেন। সুতরাং অগ্রজ আর অনুজের কাজের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই।

দ্বিতীয়ত: খুলাফায়ে রাশেদার দ্বিতীয় খলীফা রা. ইসলামী মুদ্রার সূচনা করেছিলেন, তাঁর তৈরী মুদ্রার উপর বিভিন্ন ইসলামী শব্দাবলী সংযোজনের মাধ্যমে। অতঃপর তাঁর পরে যারা এসেছেন ঐ কাজেরই পূর্ণতা দান করেছেন এবং প্রত্যেক খলীফা নতুন কিছু সংযোজন করেছেন। এভাবে খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের যুগে তিনি অনুভব করেন যে, এখন মুসলমানদের অর্থনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের সময় এসেছে। অতঃপর তিনি ইসলামী দিনার তৈরী ও প্রচলন করেন এবং ঐ মুদ্রা যাতে সেকালে গোটা পৃথিবীর ‘হার্ড কারেন্সি’ হিসেবে পরিগণিত হয় তার জন্য তিনি সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সুতরাং ইসলামী মুদ্রা তৈরী ও প্রচলনের কাজ প্রথম শুরু হয়েছে হযরত উমর রা. এর সময়ে এবং এর পূর্ণতা ঘটেছে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের আমলে। খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

তিনি ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফকে মুদ্রা প্রস্তুত করার জন্য নির্দেশ দেন। অতঃপর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ এ কাজ সম্পাদন করেন।

বালাজুরী বলেন, ‘হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ’ জিজ্ঞাসা করেন, ‘পারস্যের লোকেরা কিভাবে দিরহাম তৈরী করতো’। তিনি তা প্রস্তুত করার জন্য একটি ঘর নির্দিষ্ট করেন এবং সেখানেব প্রস্তুতকারীদের একত্র করেন বিভিন্ন উপাদান দ্বারা ‘মুদ্রা’ বা ‘দিরহাম’ তৈরী করা হয় এবং দিরহামের উপর আরবীতে লিখা হয় ‘কুলহুা আল্লাহু আহাদ’।

এরপর খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান যখন মুসলমানদের একাজে পারদর্শিতা দেখলেন তখন তিনি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের নিকট কাঁচা রৌপ্য পাঠালেন এবং হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ তা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেন এ থেকে দিরহাম তৈরী করার জন্য এবং প্রস্তুতকারীদের জন্য বেতন নির্ধারণ করেন।

খলীফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান নির্দেশ দেন, পূর্বেকার তৈরী ও প্রচলিত সকল ‘দিনার’ বায়তুলমালের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নতুন তৈরী আরবী ডিজাইনের মুদ্রা প্রতিস্থাপন করার জন্য।

সম্ভবত: এতে ‘মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের তৈরী ‘দিনার’ আমাদের নিকট না পৌঁছার কথাই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি তার পূর্বেকার প্রচলিত সমস্ত মুদ্রা বাতিল করে নতুন করে ইসলামী মুদ্রা তৈরী করেছিলেন। এভাবে ‘ইসলামী মুদ্রা’ খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের ফলে সমগ্র পৃথিবীতে একক আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল এবং পৃথিবীর বহু জাতিক বিনিময় মাধ্যম হিসেবে পরিণত হয়েছিল।

এর প্রমাণ রাশিয়া, পোলান্ড, ফিনল্যান্ড এবং জার্মানিদের নিকট অদ্যাপি বিদ্যমান আরবীয় মুদ্রাগুলো। উপরোক্ত বর্ণনা থেকে এটাই পরিষ্কার হল যে, হিজরী প্রথম শতাব্দি সমাপ্তির পূর্বেই ইসলামী মুদ্রা তথা ইসলামী স্বর্ণ মুদ্রা ‘দিনার’ এবং ইসলামী রৌপ্য মুদ্রা ‘দিরহাম’ গোটা পৃথিবীর প্রধান মুদ্রায় পরিণত হয়।

ইসলামী মুদ্রার উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনায় মুদ্রার ক্ষেত্রে যে সব পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তাকে দু’ভাগে বিভক্ত করে আলোচনা করা যায়। প্রথমতঃ আকৃতিগত পরিবর্তন, যেমন মুদ্রার উপর বিভিন্ন ধরনের নকশা, লিপি ইত্যাদির পরিবর্তন। দ্বিতীয়তঃ মৌলিক পরিবর্তন। যেমন- মুদ্রার প্রকার এবং ধাতুগত পরিবর্তন।

মুদ্রার উপর খলীফাদের নাম, পদবী, খলীফাদের সন্তানদের নাম ইত্যাদি লিখা হতো। এরপর খলীফাগণ তাদের নাম উল্লেখ পর তাদের কর্মচারীদের নাম, তাদের উপাধি, তাদের পদবী ইত্যাদি লিখতেন। ডঃ আব্দুর রহমান ফাহমী মুহাম্মদ বলেন, ‘খলীফা হারুনুর রশিদের যুগ হতে (১৭০-১৯৩) আরবী ও ইসলামী মুদ্রা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি সাধিত হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তার নাম, তার পুত্র আমিনের নাম স্বর্ণমুদ্রা দিনারের উপর লেখা হয়।

মুদ্রার আকৃতি গোলাকার থেকে আয়তাকৃতি করা হয়েছিল। ইবনে খালদুন বলেন, সে সময় দিনার এবং দিরহামগুলো গোলাকার ছিল এবং এর চতুর্দিকে লিখা থাকতো। এর এক পীঠে লিখা থাকতো ঃ আল্লাহর নাম, কলেমা-লা ইলাহা ইল্লালাহু, আলহামদু লিল্লাহ ও নবী স. এর দরুদ। অন্য পীঠে লিখা থাকতো- তারিখ খলীফার নাম। এরকম ছিল উমাইয়া এবং আব্বাসীয় খলীফাদের যুগে।

এরপর খলীফা মাহদীর সংস্কার কাজের অন্যতম ছিল, দিরহামকে গোলাকার থেকে আয়তাকৃতি করা এবং দিনারের চতুর্দিকে ও মধ্যখানে আয়তাকৃতির ডিজাইন করা। এর এক পৃষ্ঠা কলেমা-লা ইলাহা ইল্লাহু আলহামদু লিল্লাহ দিয়ে পূর্ণ করেন এবং অন্য পৃষ্ঠায় তার নাম এবং তার পরবর্তী খলীফাদের নাম লিখেন।

মুদ্রার মৌলিক দিক এবং ধাতুগত যে সব পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল তার মধ্যে ছিল- মুদ্রার পরিমাণ ও গুণের মধ্যে প্রতারণা ঢুকে গিয়েছিল। দিনার ও দিরহামের পরিমাণের মধ্যে আইনানুগ পরিমাণের চেয়ে অনেক কম ছিল। ইমাম মাকরিজি বলেন, ‘যখন খলীফা মোতাওক্কিল নিহত হলেন এবং তুর্কিরা বিজয়ী হল, খিলাফতের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হল এবং আব্বাসীয় খিলাফত বহুধা বিভক্ত হল, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দুর্বলতা পরিলক্ষিত হল, মানুষের জীবন জীবিকার খরচ বেড়ে গেল, মুদ্রামান হ্রাস পেল, সে সময় অনেক কুসংস্কার দেখা দেয়, চতুর্দিকে অরাজকতা পরিলক্ষিত হল তখন মুদ্রার পরিমাণের মধ্যেও প্রতারণা সৃষ্টি হয়েছিল।

ইবনে খালদুন বলেন, তখন দিনার এবং দিরহামের সরকার নির্ধারিত পরিমাণ উল্লেখ করে উক্ত এলাকার জনসাধারণের জন্য কম ওজনের দিনার এবং দিরহামের মুদ্রা গ্রহণ না করা এবং প্রতিবাদ করার অধিকার দেয়া হয়। প্রতি এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয় এবং তারা পূর্বের মত মুদ্রার আইনানুগ পরিমাণ অনুমানের মাধ্যমে নির্ধারণ করে এবং তাদের আইনানুগ অধিকার নির্ধারণ করেন সরকার নির্ধারিত পরিমাণের অনুপাত অনুযায়ী।

স্বর্ণ মুদ্রা ও রৌপ্য মুদ্রার পরিবর্তে অন্যান্য ধাতব মুদ্রার বিস্তার ঘটে এবং এমন কিছু মুদ্রার বিস্তার ঘটে যা দেখা যায়নি। ফাতেমীয় শাসনামলের (২৯৬-৫৬৭ হি./৯০৯-১১৭১ ইং), কোন কোন পর্যায়ে রাষ্ট্র বিশেষ করে হাকিম বি আমরিল্লাহ এর আমলে (৩৮৬-৪১১ হি.) অর্থের অভাব অনুভব করে ফলে রাষ্ট্র তখন কাঁচের মুদ্রা প্রচলন করে। এর প্রধান কারণ ছিল সে সময় রাষ্ট্রের নিকট স্বর্ণ ও রৌপ্যের অপর্যাপ্ততা পরিলক্ষিত হয়েছিল।

পরবর্তীতে খলীফা সালাহউদ্দীন আইয়ূবীর আমলে (৫৬৭-৬৪৮ হি./১১৭১-১২৫০ ইং পর্যন্ত সময়ে) স্বর্ণ ও রৌপ্যের প্রচণ্ড অভাব পরিলক্ষিত হয়। ফলে রাষ্ট্র তখন সীসা থেকে মুদ্রা তৈরী করে এবং এত বেশী পরিমাণ প্রস্তুত করা হয় যে, স্বর্ণের ও রৌপ্যের মুদ্রার চেয়ে সীসার তৈরী মুদ্রার পরিমাণই বেশী হয়েছিল।“প্রাগুক্ত” বাগদাদ পতনের পূর্বে মুদ্রা ব্যবস্থায় এ পরিবর্তনগুলো সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু বাগদানের পতনের পর একদিকে প্রাচ্যের মুগলগণ আক্রমণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে থাকে, অন্যদিকে ইউরোপীয়রা এ অঞ্চলের দিকে লোলুপ দৃষ্টি প্রসারিত করে। ফলে মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের অধ:পতন ঘটতে শুরু করে।

আধুনিক জগতের সকল দ্রব্য বস্তু ও সম্পদের মূল্য পরিমাপক এবং বিনিময় মাধ্যম হিসেবে এবং সকল অর্থনৈতিক কারবারের চাবিকাঠি হিসেবে মুদ্রা অপরিহার্য মাধ্যম। আধুনিক মুদ্রার উৎপত্তি ও বিকাশের ইতিহাসে ইসলামের গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে, যদিও আধুনিক অর্থনীতির প্রবক্তাগণ ইসলামের এই অবদানকে উপেক্ষা করতে চান। ইসলামের আবির্ভাবের যুগসন্ধিক্ষণে রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যের ‘দিনার’ ও ‘দিরহাম’ আরব বিশ্বেও ব্যবহার হতো।

ইসলামের আবির্ভাবের পর নব গঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের দ্বিতীয় মহান খলীফা উমর রা. এর আমল থেকে ইসলামী মুদ্রার উৎপত্তি ও বিকাশ শুরু হয়ে বাগদানের পতন পর্যন্ত ইসলামের সুদীর্ঘ শাসনামলে একটি অতি উন্নত এবং পূর্ণাঙ্গ ইসলামী মুদ্রা ও মুদ্রা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেছিল। ইসলামের সুদীর্ঘ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণ মুদ্রা ‘দিনার’ এবং রৌপ্য মুদ্রার ‘দিরহাম’ তৎকালীন প্রায় গোটা পৃথিবীতে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে গণ্য হতো। ইসলামী শাসনামলের অবসানের পরও পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে ইসলামী মুদ্রা বিভিন্ন নামে ব্যবহৃত হতো। আজও পৃথিবীর বিভিন্ন যাদুঘরে ‘ইসলামী মুদ্রা’ সংরক্ষিত আছে।

তাই মুদ্রার ইতিহাস তথা আধুনিক মুদ্রার আবিষ্কারের ক্ষেত্রে ইসলাম ও ‘ইসলামী মুদ্রা’ ও মুদ্রা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও অবদান অবিস্মরণীয়। ইসলামী শাসনামলের অবসানের পর বহু শতাব্দি কাল গোটা পৃথিবী ইসলামের আলো থেকে বঞ্চিত ছিল। তারপর প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর মুসলিম দেশগুলো পুনরায় স্বাধীনতা লাভ করতে থাকে। মুসলমানরা হারানো গৌরব আবার ফিরে পায়।

দিকে দিকে শুরু হয় মুসলমানদের নব জাগরণ। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ইসলামী অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে নানা গবেষণা চলছে। ইসলামী মুদ্রাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা তাই এখন সময়ের দাবি।

লেখক: কলামিস্ট-গবেষক পাঠান পাড়া, (খান বাড়ী) কদমতলী, সদর, সিলেট-৩১১১

-এটি


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ