fbpx
           
       
           
       
ঈমান জাগানিয়া গল্প
আগস্ট ০৪, ২০২২ ১:৪৩ অপরাহ্ণ

নাজমুল হাসান সাকিব: আলহামদুলিল্লাহ! বিগত কয়েক জুমার মত এবারও জুমার খুতবা দিবেন ও নামাজের ইমামতি করবেন, আল মারকাজুল ইসলামী (এএমআই) বাংলাদেশের প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস মুহতারাম উস্তাদ মুফতী রফিকুল ইসলাম হাফি.। সময়মত তিনি মিম্বরে আরোহন করেন। বয়ান চলছে। ততক্ষণে প্রায় ১৩/১৫ মিনিট পার হয়ে যায়। মসজিদে আগমন করেন ‘আল মারকাজুল ইসলামী’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামজা শহিদুল ইসলাম। সাথে ছিলেন বাংলাদেশী এক আমেরিকান নাগরিক। দীর্ঘদিন যাবৎ সেখান থাকতে থাকতে এক সময় নাগরিকত্ব পান। তার নাম ডাক্তার জনাব মাহবুব।

বয়ানের মাঝে হুজুরের কাছে আবেদন করা হলো তাকে একটু কথা বলার সুযোগ দেওয়া হোক। মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়ালেন ডাক্তার মাহবুব। তিনি বলেন, আমরা জানি যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত দেশ ও অঞ্চলগুলোতে ইসলাম একটি সংখ্যালঘু ধর্ম। একসময় উত্তর আমেরিকায় মাত্র ১% মানুষ মুসলমান ছিল। বর্তমানে লোকজন ইসলামের প্রতি বেশ এগোচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমেরিকায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫%। কিন্তু তারা কীভাবে নিচ্ছে ইসলামকে! কীভাবেই বা গ্রহণ করছে – এর অনেক কিছুই আমাদের অজানা।

জনাব মাহবুব বলেন, আমেরিকায় আমার খুব পরিচিত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছিল। বেশ কয়েক বছর হলো তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী ছিলেন। কিন্তু ধর্মীয় বিষয়ে ততটা জানা-শোনা তার ছিল না। ধর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন তিনি। সে কখনো ধর্ম-কর্মের দার দারতো না। সম্প্রতি বিয়ে-শাদী করেছেন। সন্তানাদিও আছে।

একদিন খ্রিস্টান লোকটি বলেন, আমার দ্বিতীয় সন্তান তখন গর্ভে। প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন আমার স্ত্রী। Ultrasound করে জানা গেছে, গর্ভে থাকা সন্তানটিও অসুস্থ। ডাক্তাররা বললেন, অপারেশন করে বাচ্চাটি বের করতে হবে। তাও বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ৫% । তাছাড়া বাচ্চাটির পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীর কালো হয়ে গেছে। রক্ত সঞ্চালন করছে না। সে (BLOOD CANCER) ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। অনেকেই বলে থাকেন, ‘ব্লাড ক্যান্সার মানেই হলো, মরনব্যাধি’। এর ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। থাকলেও বাঁচার সম্ভাবনা কম। সেই চিন্তা থেকে তিনি খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। ডাক্তাররাও তেমন কোনো ভরসা দিচ্ছেন না।

তিনি বলেন, আমেরিকার প্রতিটি হসপিটালেই মুসলমানদের জন্য মসজিদ, ইহুদিদের জন্য সিনাগগ আর খ্রিস্টানদের জন্য চার্চ -এর ব্যবস্থা আছে। প্রত্যেক ধর্মের লোকেরা তাদের উপসনালয়ে যায় এবং প্রার্থনা করে। অবশেষে আমি ব্যর্থ মন নিয়ে প্রথমবারের মত চার্চে গেলাম। চার্চ হলো, খ্রিস্টানদের জণউপসনালয় যেখানে খ্রিস্ট সম্প্রদায়ের সভ্যরা সমবেত হয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করেন।

তিনি আরও বলেন, সেখানে গিয়ে আমি প্রার্থনার জন্য হাঁটু গেড়ে বসি। দু’হাত তুলে এভাবে প্রার্থনা করি যে, (oh lord if you exist save the life of my son, and show methought religione, i promiss you i will pray you and follow your guidence.) ‘গড’ বলে কেউ যদি থেকে থাকো তাহলে আমার শিশুকে হেফাযত করো। আর আমাকে একটি সঠিক ও সত্য ধর্মের সন্ধান দাও। আমি অবশ্যই তোমার ধর্ম মেনে চলবো। এভাবে প্রায় ১৫ মিনিটি চলে যায়। প্রার্থনা শেষে সন্তানের কাছে ফিরে এসে দেখি এখনো কোনো ধরনের চিকিৎসা বা অপারেশন হয়নি। অথচ ডাক্তাররা আমাকে জানান যে, আপনার সন্তান এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। (সুবহানাল্লাহ)

তবে ডাক্তাররা সুস্থতার বিভিন্ন কারণ উপস্থাপন করতে থাকে। একথা- সে কথা। কিন্তু আমি বিশ্বাস করে নিয়েছি যে, কেবল ঐ ‘গড’ ই আমার সন্তানকে সুস্থ করেছেন। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ধর্ম অনুসন্ধানে মগ্ন হই। এক-এক করে আসমানী কিতাবগুলোর মধ্যে তাওরাত, বাইবেল ইত্যাদি পড়তে থাকি। কিন্তু ধর্ম সম্পর্কে আমি অজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও অনেক ভুল ও অসামঞ্জস্য বিষয় আমার নজরে পড়ে। এগুলোর সমাধান জানতে পোপ ও পাদ্রীদের স্মরণাপন্ন হলে তারা আমাকে স্পষ্ট সমাধান না দিয়ে বরং আমার কথাগুলো এড়িয়ে অন্য কথা বলতো। ধর্মকে তারা আমার থেকে গুটিয়ে রাখতো। কিন্তু এমনটি আমার পছন্দ হতো না।

অবশেষে পবিত্র কোরআনুল কারীম গবেষণা শুরু করি, শুরু থেকে পড়তে থাকি। হেদায়াতের আশায় অবিরাম পড়ছি। আর বিশ্বাস জাগছে এর সবই সঠিক ও সত্য। এভাবে সূরা নাস পর্যন্ত শেষ করি। ইতিঃমধ্যেই সত্য আমার কাছে উদ্ভাসিত হয়। এবার আমি আল্লাহর সাথে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিই। এই সঠিক ধর্ম অনুসন্ধানে এক এক করে চারটি বছর অতিক্রান্ত হয়। আমার ইসলাম গ্রহণের কথা শুনে আমার স্ত্রী সেদিনই আমাকে DIVORCE দিয়ে চলে যান। ভালো ডাক্তার হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে অনেক বড়দের সাথে আমার সুসম্পর্ক ছিল। তারাও আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর আমি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে হজের সফরে যাই। সেখানে মন ভরে তাওয়াফ, সায়ী ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারত করি। সবশেষে আমি সৌদি আরবে দ্বিতীয় বিবাহ করি এবং সেখানে বসবাস শুরু করি। ইসলাম গ্রহণের কারণে যারা আমাকে ছেড়ে গেছে পরবর্তীতে আমি তাদের চেয়েও ভালো সাথী-সঙ্গী পাই। এমনকি আগের স্ত্রীর চেয়ে আরও উত্তম সঙ্গীনী লাভ করি। আমাদের সন্তানাদিও হয়েছে। এখন আমরা বেশ সুখে আছি।

পাঠক! আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমেরিকা ১% থেকে বর্তমানে ৫% মুসলমান জনসংখ্যার দেশ। আশা করি, যে হারে লোকজন এ পথে এগোচ্ছে একদিন ইনশাআল্লাহ ১০০% এ গিয়ে পৌঁছাবে। দোয়া করি এই ধারা অব্যাহত থাকুক। জানা গেছে, আমেরিকার লোকজনের অধিকাংশই পবিত্র কোরআন রিসার্চ করে ইসলাম গ্রহণ করছেন।

যদিও ইসলাম গ্রহণের পরবর্তী সময়টা তাদের জন্য অনেক দুঃখের। আশা করি, যারা বুঝমান তারা এই দুঃখকেও সুখ মনে করবে। ইসলামের জন্য পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, ধন-সম্পদ ছাড়তে প্রস্তুত থাকবে। আল্লাহর দেওয়া চিরস্থায়ী জান্নাতের আশায় দুনিয়ার সবকিছুকে তাচ্ছিল্য করবে। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, আল-মারকাজুল ইসলামী (এএমআই) বাংলাদেশ।
ই-মেইল: [email protected]

-কেএল

সর্বশেষ সব সংবাদ