fbpx
           
       
           
       
সংসার বনাম ইবাদাত
আগস্ট ০২, ২০২২ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

।। মাহমুদা খাতুন তামান্না ।।

নিয়তের শুদ্ধতায় আপনার প্রতিটি মূহুর্ত ব্যয় হবে ইবাদাতে। নেই জায়নামাজে বসে থাকার শর্ত । লাগবে না আলাদা সময়। সাংসারিক কাজে ব্যস্ত তবুও আমলনামায় সম্মানিত ফিরিশতা লিখতে থাকবেন পূণ্যের ফিরিস্তি। ব্যাপারটা খুব আনন্দদায়ক না?
আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় প্রতিটি কাজই পূণ্যের খাতায় জমা হয়।

একটি ঘরে জানালা অত্যাবশকীয়। অথচ আপনি যদি নিয়ত করেন, জানালা দিয়ে আসা দিনের আলোবাতাসে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করবেন, বাবা মাকে দেখে কবুল হজ্জ করবেন তাহলে সেই জানালা বানানোও হবে পূণ্য। এটাই নিয়তের মর্যাদা ।

হাদীস শরিফে এসেছে,

إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله، فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه. رواه البخاري ومسلم

অর্থ, সমস্ত কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভ অথবা নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে- সেই উদ্দেশ্যেই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য। (বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং আপনি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাংসারিক কাজ করেন তাহলে অবশ্যই তার সওয়াব পাবেন। যেমন সাহাবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুম নিজেদের কাজ করতেন।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা তাঁর ঘরের যাবতীয় কাজ নিজে করতেন

আটা কুটতেন নিজেই। [বুখারী শরীফ]

খামির নিজে বানাতেন। রুটি বানাতেন নিজে। রান্না করতেন নিজেই। [বুখারী, আবূ দাউদ]

বিছানা বিছাতেন নিজে। [শামায়েলে তিরমিযী]

অযুর পানি নিজেই আনতেন। [মুসনাদে আহমাদ]

প্রিয় নবীজি (সা) কুরবানির জন্য যে উট পাঠাতেন, সেটার দেখাশুনাও নিজেই করতেন। [বুখারী-হজ্জ অধ্যায়]

তিনি প্রিয় নবীজির (সা) মাথাও আঁচড়ে দিতেন।[বুখারীঃ ই’তিকাফ অধ্যায় ]

প্রিয় নবীজির (সা) শরীরে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতেন। [বুখারীঃ হজ্ব অধ্যায়]

প্রিয় নবীজির (সা) কাপড় ধুয়ে দিতেন। [বুখারীঃ গোসল অধ্যায়]

শোয়ার পূর্বে নবীজির (সা) মিসওয়াক ও পানি ঠিক করে দিতেন। [মুসনাদে আহমাদঃ ৬/৫৪].

নবীজির (সা) মিসওয়াক পরিষ্কার করে দিতেন। [আবূ দাউদঃ তাহারাত অধ্যায়]
.
আম্মাজান আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা’র ঘরে কোনো মেহমান এলে তার আপ্যায়ন করতেন। [আবু দাঊদ শরীফ- শিষ্টাচার অধ্যায়]

সন্তান লালনপালন করার সওয়াব জান্নাত পাওয়ার জন্য যথেষ্ট।

হাদিসে এসেছে, এক নারী তার দুটি সন্তানসহ প্রিয় নবীর (সা) কাছে আসে। সে একটি সন্তানকে কোলে এবং অপরটিকে হাতে ধরে নিয়ে আসে। নবীজি (সা) বলেন, গর্ভধারিণী, সন্তান জন্মদানকারিণী এবং সন্তানের প্রতি মমতাময়ী তারা যদি স্বামীদের কষ্ট না দেয়, তবে তাদের মধ্যে যারা নামাজি তারা জান্নাতে যাবে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ)

গম পেষার কারণে প্রিয় নবীজির আদরের কন্যা ফাতিমার (রা) হাতে ফোস্কা পরে যায়।। তিনি পিতার কাছে খাদেম চাইলেন। কন্যার ফোস্কাযুক্ত হাত দেখে পিতা শিক্ষা দিলেন তাসবিহ। (বুখারী)

পৃথিবীর মানুষ সেই তাসবিহর সেই নিয়মের নাম দিলো, ‘তাসবিহে ফাতেমি।’

সংসারের কাজ করেই পেয়ে যাবেন জিহাদের সমান সওয়াব। চলুন আসমা বিনতে ইয়াজিদ রা. বর্ণিত হাদিসটি দেখে নেই।

أتت أسماء النبي وهو بين أصحابه فقالت: يا رسول الله, أنا وافدة النساء إليك, إن الله بعثك إلى الرجال والنساء كافة فآمنا بك. وإنا معشر النساء محصورات مقصورات قواعد بيوتكم ومقضى شهواتكم وحاملات أولادكم, وإنكم معشر الرجال فضلتم علينا بالجمع والجماعات وعيادة المرضى وشهود الجنائز والحج بعد الحج, وأفضل من ذلك الجهاد في سبيل الله , وإن الرجل إذا خرج حاجًّا أو معتمرًا أو مجاهدًا حفظنا لكم أموالكم وغزلنا أثوابكم وربينا لكم أولادكم. أفما نشارككم في هذا الأجر والخير..
فالتفت النبي إلى أصحابه بوجهه كله ثم قال: “هل سمعتم مقالة امرأة قط أحسن من مساءلتها في أمر دينها من هذه؟” فقالوا: يا رسول الله, ما ظننا أن امرأة تهتدي إلى مثل هذا. فالتفت النبي إليها فقال: “افهمي أيتها المرأة وأعلمي من خلفك من النساء أن حسن تبعل المرأة لزوجها وطلبها مرضاته واتباعها موافقته يعدل ذلك كله”. فانصرفت المرأة وهي تهلل (أسد الغابة)

আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা) রাসুলুল্লাহর (সা) কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি নারীদের পক্ষ থেকে আপনার কাছে এসেছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য পাঠিয়েছেন এবং আমরা আপনার প্রতি ও আপনার ইলাহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি। নিশ্চয়ই আমরা নারীরা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকি, ঘরে থাকি, পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ করি, তাদের সন্তান গর্ভে ধারণ করি।

অন্যদিকে পুরুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে জুমা ও জামাতে, রোগীর শুশ্রূষা ও জানাজায় অংশগ্রহণে, হজ আদায়ে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে। কিন্তু পুরুষ যখন হজ, ওমরাহ ও জিহাদে বের হয়, তখন আমরা তাদের সম্পদ রক্ষা করি, তাদের পোশাক পরিচ্ছন্ন করি, তাদের সন্তান প্রতিপালন করি, আমরা কি তাদের সওয়াবে অংশীদার হব? প্রিয় নবী (সা) সাহাবিদের দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি দ্বীনের ব্যাপারে এ নারীর চেয়ে উত্তম কোনো প্রশ্ন শুনেছ? সাহাবিরা উত্তর দিলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা ধারণা করি নারীরা তাঁর অনুসরণ করতে পারে।

অতঃপর প্রিয়নবী (সা) আসমা বিনতে ইয়াজিদের (রা) দিকে ফিরে বলেন, হে নারী! তুমি ভালোভাবে বুঝে নাও এবং তোমার পেছনে থাকা নারীদের বুঝিয়ে দাও যে, স্বামীকে সুন্দরভাবে সঙ্গ দেওয়া, তার সন্তুষ্টি কামনা করা এবং তার অনুকূলে কাজ করার ফলে স্ত্রী উল্লিখিত সব বিষয়ে সমান সওয়াবের অংশীদার হবে।
উত্তর শুনে নারী খুশি প্রকাশ করতে করতে ফিরে যায়। (উসদুল গাবাহ)

হাতে কাজ মুখে তাসবিহ। অর্জন হবে জিকিরের সওয়াব। জায়নামাজে বসা ছাড়াও যে কোনো অবস্থায় আপনি জিকির করতে পারেন।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
الذين يذكرون الله قياما وقعودا وعلى جنوبهم
(سورة آل عمران )

অর্থ, যারা দাঁড়িয়ে, বসে বা শায়িত অবস্থায়আল্লাহর জিকির করে। ( সুরা ইমরান)

-কেএল