fbpx
           
       
           
       
শৈশবের রোজা
এপ্রিল ২৬, ২০২২ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ।।

ছোট্টকালে রমজান এলেই দেখতাম পাড়ার ছেলে-মেয়েরা রোজার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো। ‘এবছর সবার থেকে আমি রোজা বেশী রাখব’, এমন একটা আকাঙ্ক্ষা থাকতো সবার  মনে। প্রচন্ড গরমের দিনেও ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা সর্বোচ্চ চেষ্টা ও কষ্ট সাধন করে রোজা রাখতো। কখনো কারণবশত রোজা ভাঙলেও সাথিদের তা জানতে দিতো না। কোনভাবে তা প্রকাশ হয়ে গেলে লজ্জায় সেদিন সে আর সবার সাথে খেলার মাঠে খেলতে যেতো না।

আলহামদুলিল্লাহ,আমাদের ঘরেও এমন প্রতিযোগিতা হতো। ছোটাপু আমারচে’ দুবছরের বড়। ছোটাপু আর আমার মাঝে প্রতিযোগিতা হতো । একদিনের কথা এখনো ভুলিনি। স্মৃতিপটে খুব ভালোভাবে গেঁথে আছে আজো।

সেদিন খুব গরম পড়ছিল তাই দুপুর হওয়ার আগেই পানির পিপাসা লেগেছে। পিপাসায় বুক ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল যেন। প্রচন্ড ক্ষুধাও পেয়েছে। ক্ষুধায় শরীর একদমই দূর্বল হয়ে গেছে। দূর্বলতার কারণে ঠিকঠাক হাটতেও পারছি না। সব মিলিয়ে রোজা রাখতে বড্ড কষ্ট হচ্ছিল আমার। মন চাচ্ছিলো রোজাটা ভেঙে ফেলি। আমার অবস্থা বুঝতে পেরে আম্মুও বারবার তাগিদ দিচ্ছিলেন রোজা ভেঙে ফেলতে।

না, ভাঙা যাবে না, ভাঙলে আবার আপুর একটা রোজা বেশী হয়ে যাবে,আর আমি তারচে’একটা পেছনে পড়ে যাব। দুপুর তিনটা কি সাড়ে তিনটার দিকে আর পারছি না। আমার মুখে কালো দাগ পড়ে গেল। গলাটা শুখিয়ে কাট হয়ে গেল। আমার এ অবস্থা দেখে, কেউ না দেখে মতো আম্মু আমাকে এক রুমে নিয়ে গেলেন। বিস্কুটের বয়াম আর ফ্রিজের ঠান্ডা পানির শরবত সামনে এনে দিয়ে বললেন,”শুন বাবা! আল্লাহ তা’য়ালা দেখছেন তুমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও এখন আর রোজা রাখতে পরছো না। তুমি রোজাটা ভেঙে ফেল। আল্লাহ তোমাকে রোজার পূর্ণ সাওয়াবই দিবেন।”

আমি কোপাল কুঞ্চিয়ে ছোট সুরে বললাম,”কিন্তু আপুতো বলবে আমি তারচে’ একটা রোজা কম রেখেছি।”
আম্মু হেসে উঠে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,”আচ্ছা আমি তাকে বলবো না। সে তো এখন দেখছেও না। সে জানবেও না। তুমি খাও।”

—”আচ্ছা,তাহলে আপনি দরজায় দাঁড়ান, আপুকে দেখেন।”

শেষ-মেশ অপারগ হয়ে খিদে আর পিপাসার জ্বালায় রোজাটা ভেঙেই ফেললাম।

রোজা ভেঙেছি ঠিকই;কিন্তু আপুকে বুঝতে দেইনি। তার সামনে এলে রোজায় কাহিল হয়ে গেছি এমন একটা বাহানা ধরতাম। আর বারবার জিগ্যেস করতাম আপু জয়টা বেজেছে?

আর কতক্ষণ বাকি আছে?

ছোটকালে রোজা নিয়ে এভাবেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতাম আমরা; কিন্তু এখনকার ছেলে-মেয়েদের মাঝে ঐরকম চেতনা দেখা যায়না।

ছেলে-মেয়েদেরও কী বলব? মা বাবারাও এখন ছেলে—মেয়েদের রোজা রাখতে দেয় না। তারা বলে, ‘ছোটকালে রোজা রাখলে নাকি শরীর ভেঙে যায়!’নাউযুবিল্লাহ।

এখন মনগড়া, থাকতে যে ছেলে-মেয়েদেরকে রোজা রাখতে দেয় না। রোজা রাখিয়ে অভ্যাস করায় না। পরে এ ছেলে-মেয়েগুলোই মূলত রোজা ফরজ হওয়ার পরও রোজা রাখতে চায় না। রোজাকে বিরাট কষ্টসাধ্য আমাল মনে করে। এমন কি অনেকে তো আরেকটু বাড়িয়ে রোজাকে ঘাড় চাপানো বিধান বলে ফলে। নাউজুবিল্লাহ।

তাই আগামী প্রজন্মজকে রোজা না রাখার মতো কবীরাহ গুনাহ থেকে বাঁচাতে আমাদের উচিত, পরিবারের স্বজন ও পাড়ার ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে ছোট থেকেই বুঝিয়ে শুনিয়ে, আনন্দ-উৎসাহ দেখিয়ে রোজার অভ্যাস করানো।

নইলে, রোজা ফরজ হওয়ার পর তারা রোজা না রাখলে গুনাহের একভাগ পরিবারের গুরুজনের ওপরও বর্তাবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন।

এনটি

সর্বশেষ সব সংবাদ