শিরোনাম :
সমালোচিত বক্তব্য: আলেমদের কাছে ক্ষমা চাইলেন বক্তা আবু ত্বহা আদনান
জানুয়ারি ১৪, ২০২২ ৬:১৮ অপরাহ্ণ

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

অর্থ না বুঝে কুরআন পড়লে হক আদায় হবে না- এমন বক্তব্যের  বিষয়ে  ওলামায়ে কেরামের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান।

কক্সবাজারে এক মাহফিলে কোন এক শ্রোতার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সমালোচিত বক্তব্যের জবাবের বিষয়টি আওয়ার ইসলামকে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

কক্সবাজারে নিজের এক মাহফিলে বক্তব্যের সময় এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে ওলামায়ে কেরামের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, আমি ক্ষমা চাচ্ছি যারা আমার কথায় কষ্ট পেয়েছেন, যদিও আমার এভাবে বলার উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি বলেন কথাগুলোকে উল্টোভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ওলামায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি পূর্ণাঙ্গ শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে ক্ষমা করবেন’।

‘ক্রিটিসাইজার দে বিকৃত উপস্থাপনার কারনে আমার প্রতি ভুল ধারণা তৈরি হয়ে থাকলে আমার শ্রদ্ধেয় ওলামায়ে কেরাম আমাকে ক্ষমা করবেন। কারণ আপনারাই দ্বীনের কান্ডারী- বলেন বক্তা আবু তহা মোহাম্মদ আদনান ।

অর্থ না বুঝে কুরআন তেলাওয়াত করলে লাভ নেই এমন বিক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি আসলে এভাবে বলিনি । অঅমি নিজেই গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে কুরআনের হকের বিষয়ে আলোচনা করে আসছি। কুরআনের হক হল, তেলাওয়াত, হেফজ, অর্থ অনুধাবন ও কোরআনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া’।

‘মানুষ প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত শিখবে, এরপর হেফজ করবে, তরজমা শিখবে, কুরআনের বিষয়গুলো বুঝবে, কোরআনের নির্দেশগুলো প্রতিষ্ঠিত করবে, এভাবেই কুরআনের হক প্রতিষ্ঠা পাবে’ বলেন তিনি।

‘অবশ্যই অবশ্যই কোরআন তেলাওয়াত করলে প্রতি হরফে দশ নেকি হবে, শুধু তেলাওয়াতে কোন সওয়াব নেই এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলার যোগ্যতা আমি রাখিনা উল্লেখ করে তিনি বলেন আমার কথাগুলোকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিকৃত করা হয়েছে’।

আরো পড়ুন: আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের সমালোচিত বক্তব্য নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞ আলেমরা

‘সমালোচকরা চাইলে আপনার কোন একটা কথাকে ঘুরিয়ে উপস্থাপন করতে পারবে। আপনি যদি আমাকে ১০ জন ব্যক্তির নাম লিখে দেন এবং তাদের বক্তব্য থেকে ভুল বের করতে বলেন তাহলে আমিও ইউটিউব থেকে তাদের বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারব’।

‘আমি নিয়মিতই মানুষকে কোরআন তেলাওয়াত ও কুরআন হেফয করার বিষয়ে বলে থাকি’।

তিনি আরো বলেন, আমি বুঝাতে চেয়েছি কুরআন তেলাওয়াত ও মুখস্থ করলে হক তো আদায় হবে, বরকত আসবে, কিন্তু যারা হেফজ করেই কোরআন বিষয়ে পড়াশোনা থামিয়ে দিচ্ছেন, অর্থ বুঝার চেষ্টা করছেন না ,কোরআনের তাফসির পড়ছেন না, তাদের আমি বুঝাতে চেয়েছি এটা কুরআনের পূর্ণাঙ্গ হক আদায় ও বোঝার পথে প্রতিবন্ধক। চাই তিনি জেনারেল শিক্ষিত হন অথবা মাদ্রাসা শিক্ষার্থী।

প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বক্তা আবু তহা মোহাম্মদ আদনান আরো বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা কুরআন নিয়ে গবেষণা করতে বলেছেন, এতে প্রত্যেক বিষয়ের সমাধান রয়েছে, আমি যদি এর অর্থ না বুঝি তাহলে শুধু তেলাওয়াত করে সমাধানগুলো বুঝতে পারবো না, আমি মূলত এটাই বুঝাতে চেয়েছি’।

‘হাফেজে কুরআনদের অবমাননা ও অবজ্ঞা করা অথবা হেফজের মাধ্যমে কুরআনের হক আদায় হবে না এটা বুঝানো আমার উদ্দেশ্য ছিল না’ বলেন বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান।

‘সামাজিক মাধ্যমে কথা বললে সেটা হয়তোবা অনেক সময় ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয় কিংবা স্লিপ কেটে যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘একজন মানুষের ভালো কাজগুলোকে বাদ দিয়ে খুঁজে খুঁজে যখন ত্রুটিগুলো বের করা হবে বুঝে নিতে হবে এর পিছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য অথবা ষড়যন্ত্র রয়েছে। জনগণ বর্তমানে এই বিষয়গুলো খুব সহজেই বুঝেন’।

বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান বলেন, ‘আমি আবারো বলছি কুরআন তেলাওয়াত, হেফজ, তরজমা বোঝা সবগুলোই কোরআনের হকের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। কুরআনের অর্থ অনুধাবন করে কোরআন-হাদিস একত্র করে আমাদের প্রজন্ম বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করবে, একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না, আমি এটাই বুঝাতে চেয়েছি’।

আরো পড়ুন: এবার সমালোচিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আবু ত্বহা আদনান

সর্বশেষ সব সংবাদ