শিরোনাম :
১০ বছর বয়সে ডেইলি জঙ্গ এ কলাম লেখা শুরু করলাম: মুফতি তাকি উসমানি
নভেম্বর ১০, ২০২১ ৫:৪২ অপরাহ্ণ

[জামিয়া দারুল উলুম করাচির মুখপাত্র ‘ماہنامہ البلاغ মাহনামা আল-বালাগ’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

এ বিষয়ে আল্লামা তাকি উসমানি আনুষ্ঠানকিভাবে আওয়ার ইসলামকে ভাষান্তর করে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। গত ২ জানুয়ারি জামিয়া দারুল উলুম করাচির তাখাসসুস ফিল ইফতার শিক্ষার্থী, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের শুভাকাঙ্ক্ষি উমর ফারুক ইবরাহীমীর মাধ্যমে আল্লামা তাকি উসমানি ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মজীবনী ‘ইয়াদে’ অনুবাদের অনুমতি চাওয়া হলে তারা খুশি মনে রাজি হন এবং আওয়ার ইসলামকে ধন্যবাদ জানান বাংলাভাষায় ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য।

আল্লামা তাকি উসমানির নতুন ধারাবাহিক আত্মজীবনী یادیں ইয়াদেঁ  মাহনামা আল-বালাগে সফর ১৪৩৯ হিজরি, নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি মাস থেকে। আওয়ার ইসলামে লেখাটি প্রতি রোববার ও বুধবার প্রকাশ হবে ইনশাল্লাহ। আজ ছাপা হলো ৫০ তম কিস্তি। অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ উমর ফারুক ইবরাহীমী।]


পূর্ব প্রকাশের পর: কাব্য-সাহিত্য চর্চায় ছোট আপা আমার সহযোগী ছিলেন। তিনি নিয়মিত এ কাজে আমাকে হিম্মত যোগাতেন। সে সময়ের সাময়িকীতে “কলমি দোস্ত” নামে একটি বিভাগ থাকতো।

কচিকাঁচারা স্বীয় নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সেখানে প্রকাশ করাতো এবং তার সাথে বন্ধুত্ব পাতার জন্য অন্যান্য কচিকাঁচাদের আমন্ত্রণ জানাতো। আমার বোন আমাকেও সেখানে চিঠি লেখার পরামর্শ দিলেন।

এতে আমার লেখালেখির অনুশীলনটাও হয়ে যাবে। সুতরাং যারা “কলমি দোস্ত” এর আহ্বান করেছেন আমি তাদের নামগুলো দেখতে থাকলাম। অনেকগুলো নামের মাঝে “মুজাহিদ” নামে আমার চোখ আঁটকে গেলো। এই নামটি আমার ভীষণ পছন্দ হলো। ঠিকানা দেখে জানতে পারলাম সে আফ্রিকার নাইরোবি (Nairobi Capital of Kenya) শহরের নাগরিক ছিলো। (“নাইরোবি” বর্তমানে কেনিয়ার রাজধানী) যেটা সে সময়ে টাঙ্গানিকার রাজধানী ছিল। পরবর্তীতে টাঙ্গানিকার নাম পালটে কেনিয়া হয়ে গেছে।

আমি শুধুমাত্র “মুজাহিদ” নামের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে “কলমি দোস্তি”র জন্য তাকে নির্বাচন করেছিলাম। আমার কচিহাতে, শুদ্ধ-ভুলের মিশ্রনে একটি চিঠি লিখে ছোট আপার হাতে অর্পণ করলাম। প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে ছোট আপা এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ চিঠির রূপ দিলেন। আমি গিয়ে সেটি ডাক অফিসে জমা করে এসেছি।

কিছুদিন পর চিঠির একটি জবাব আসলো। এভাবেই আমার ধারাবাহিক কলমি দোস্তি চলতে থাকলো। আমি আমার কাঁচা হাতে চিঠি লিখতাম, ছোট আপা সম্পাদনা করে সেখানে সাহিত্যের উপাদান যুক্ত করে দিতেন। এভাবে লিখতে লিখতে লেখালিখিতে আমার হাত পাকা হতে থাকলো।

সে সময়ে জাতীয় দৈনিক “জঙ্গ” এ কলামিস্টরা সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করতেন। এবং সেই বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকতো। মহিলারা কবি হতে পারবেন কিনা- একবার এমন একটি অনর্থক বিষয়ের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার ঝড় উঠলো।

আপা আমাকে বললেন, তুমিও একটি কলাম লিখে দাও। আপার হুকুম পালনার্থে আমি লিখে ফেললাম এবং সেটি “জঙ্গ” পত্রিকায় صنف نازک اور شاعری শিরোনামে প্রকাশ পেলো। এই প্রথম কোথাও আমার কলাম ছেপেছে। আরেকবার পাকিস্তানি রুপিতে কায়েদে আজম জিন্নাহর ছবি থাকবে কিনা- এই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার ঝড় উঠলো।

আমি نوٹوں پر تصویر এই শিরোনামে আরেকটি কলাম লিখলাম। সেখানে আমি ছবি জায়েয না হবার পক্ষে অবস্থান নিলাম এবং এতে ব্যক্তিপূজার বিষয়টিও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করে বললাম, রুপিতে কোন ছবি না হওয়াই উচিত।

আরেকবার সহশিক্ষার পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক শুরু হলো। তখনও আমি সহশিক্ষার বিপক্ষে দলিল ভিত্তিক একটি কলাম লিখেছি। আমার এই সকল কলাম ও চিঠিপত্র জাতীয় দৈনিক “জঙ্গ” এ প্রকাশ পেতে থাকলো। আমার এসব কাজে ছোট আপা কেবল পৃষ্ঠপোষকতাই নয় বরং নিয়মিত সম্পাদনা ও সংযোজন-বিয়োজনও করে দিতেন।

এমনকি আমার দাবি হয়তো একটুও ভুল হবেনা যে, আমার কাগজ-কলমের যাবতীয় খেদমত ছোট আপার ওই তালিম তারবিয়াত এবং তাঁর হিম্মত যোগানো ও নিবিড় পরিচর্যার ফলেই সম্ভব হয়েছে।

২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ সালে লাহোরের জনাব মরহুম শাফকত আলি সাহেবের সাথে ছোট আপার বিয়ে হয়। তখন আমার বয়স ১০ বছর। ঘটনাক্রমে তার বিয়ের দিনে গোটা দেশ খতমে নবুওয়াত আন্দোলনে উত্তাল ছিলো। সেদিনই আরামবাগে একটি আজিমুশ্বান জলসা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

যেখানে হযরত মাওলানা আতাউল্লাহ শাহ বুখারি রহ. বক্তব্য দিয়েছিলেন। তখন দেশের সকল আকাবির উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছিলো। আব্বাজানের নামেও ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিলো। তিনি স্বীয় কন্যার বিয়েতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা- এই নিয়েও ধোঁয়াশা ছিল। অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করেছেন এবং বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হলো।

আমার আজও মনে পড়ে, ছোট আপাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবার পর তার বিচ্ছেদ বিরহে কয়েক সপ্তাহ জুড়ে আমি শুধুই কেঁদেছি। তিনি বছরে একবার করাচি আসতেন, সেদিনটি আমার জন্য ঈদের দিন হতো।

চলবে ইনশাআল্লাহ

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ