ইসরায়েলি জেল থেকে ২ বছর পর মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনি রাজনীতিক
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ ৩:০০ অপরাহ্ণ

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: প্রায় দুই বছর ইসরায়েলের জেলে বন্দী থাকার পর মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনি রাজনীতিক ও সুশীল সমাজ নেতা খালিদা জারার।

আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, বামপন্থী ব্যক্তিত্ব ও নিষ্ক্রিয় ফিলিস্তিনি আইন পরিষদ (পিএলসি)-এর সদস্য ৫৮ বছরের খালিদাকে রবিবার বিকেলে জেনিন শহরের চেক পয়েন্টে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দেয়।

বিচার বা অভিযোগ ছাড়াই ২০ মাসের প্রশাসনিক আটক থেকে মুক্তির আট মাস পর ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আটক করা হয় তাকে।

গত জুলাইয়ে তার দুই মেয়ের একজন ৩১ বছর বয়সী সুহা শারীরিক জটিলতায় ভুগে রামাল্লায় মারা যান। ওই সময় মেয়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে খালিদাকে মুক্তি দিতে রাজনীতিকেরা আহ্বান জানালেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তা অগ্রাহ্য করে।

মুক্তি পেয়েই রবিবার রামাল্লায় মেয়ের কবরে জানান খালিদা জারার। সেখানে তার দলের অনেক নেতা হাজির হন। ছিলেন রামাল্লার গভর্নর, সাংবাদিকসহ অনেকে।

মেয়ের সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে খালিদা বলেন, তারা আমাকে প্রিয় কন্যার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে এবং তার কপালে চুমু দিতে বাধা দিয়েছে।

কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের রাতে শেষবার সুহাকে জড়িয়ে ধরে ছিলাম।

খালিদা জারারকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রশাসনিক আটকে রাখা হয়, তখন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি)-এর সঙ্গে জড়িত থাকায় একটি ইসরায়েলি সামরিক আদালত তার বিরুদ্ধে ‘অবৈধ সংগঠনের সদস্য’ অভিযোগ আনে। একই অভিযোগে তাকে আগেও আটক করা হয়।

ফিলিস্তিনির চার শতাধিক সংগঠন ইসরায়েলের চোখে বেআইনি। এর মধ্যে শাসক দল ফাতাহ পার্টি ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দখলদারির বিরুদ্ধে স্পষ্টভাষী স্বভাব ও রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য খালিদা জারার বরাবরই ইসরায়েলের শাসকদের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন।

গত ছয় বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি জেলের ভেতরই কাটিয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রশাসনিক আটকে ছিলেন। ‘গোপন তথ্যের’ ভিত্তির কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই আটকের এ নীতি ইসরায়েলে অনুমোদিত।

এর আগে ২০১৫ সালেও ‘বেআইনি সংগঠনের সদস্য’ হওয়ার একই অভিযোগ তাকে ১৫ মাস আটক রাখা হয়।

১৯৮৮ সাল থেকে ইসরায়েল খালিদার ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে। এর মাঝে শুধু একবার তিন সপ্তাহের জন্য জর্ডানের আম্মানে চিকিৎসা নিতে যান তিনি।

২০০৬ সালে আইন পরিষদে পিএফএলপি’র পক্ষ থেকে নির্বাচিত হন খালিদা জারার। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম অনুসরণের জন্য ফিলিস্তিন জাতীয় কমিটিতেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

এনটি