শিরোনাম :
হাটহাজারী মাদরাসার নতুন শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ আহমদের জীবন ও পরিচিতি
সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২১ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

।।মোস্তফা ওয়াদুদ।।

দেশের সর্ববৃহৎ কওমি মাদরাসা দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার নবনিযুক্ত শায়খুল হাদিস হিসেবে আল্লামা শেখ আহমদকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আজ মজলিসে শুরার বৈঠক থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

আজ বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় হাটহাজারী মাদরাসার শুরার বৈঠক শেষে তাকে শায়খুল হাদিস হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

নতুন শায়খুল হাদিস হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কে এই আল্লামা শেখ আহমদ? তিনি নব্বইয়ের দশক ও শূন্য দশকের শুরুর দিকে হাটহাজারী মাদরাসার দরসে হাদিসের সম্রাট ছিলেন। তার কাছে হাদিস পড়া ছিল তখনকার ছাত্রদের অন্যতম স্বপ্ন। তার মেধা ও স্মরণশক্তি ঈর্ষণীয়। এর আগে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তালিমাত, বোডিংসহ জামেয়ার গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রয়াত মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর খুবই আস্থাভাজন ব্যক্তি ছিলেন আল্লামা শেখ আহমদ। মাদরাসা ও ব্যক্তিগত প্রায় সব কাজেই তিনি আল্লামা শফীর সহযোগী ছিলেন।

আল্লামা শেখ আহমদ দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য অনেক কওমি মাদরাসার শূরা সদস্য (পরিচালনা কমিটির সদস্য) এবং শীর্ষ আলেমদের শিক্ষক। এমনকি তিনি হাটহাজারী মাদরাসার বর্তমান চাকরিরত দু-তৃতীয়াংশ শিক্ষকদের শিক্ষক। তিনি আল্লামা আহমদ শফীর বিশেষ খলিফা।

এক নজরে আল্লামা শেখ আহমদ
আল্লামা শেখ আহমদ ১৯৫০ সালে হাটহাজারীর দক্ষিণ মীরেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শুরু থেকে দাওরা পর্যন্ত তিনি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষ করে হাটহাজারী মাদরাসাতেই তার শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। দীর্ঘকাল তিনি হাটহাজারীতে দরস দেন। প্রসিদ্ধ আছে, তিনি পড়াননি সিলেবাসে এমন কোনো কিতাব নেই।

তবে গত ২০০৪ সালে কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা বাধ্য হয়েই থাকে হাটহাজারী ছাড়তে হয়েছিলো। এরপর ২০০৪ সালে জামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরে শায়খুল হাদিস হিসেবে পাঠদান করেন। সর্বশেষ গত তিন বছর আগে তাকে পুনরায় হাটহাজারী মাদরাসায় নিয়োগ দেয়া হয়।

আল্লামা শেখ আহমদ এর ছাত্রবৃন্দ: ঢাকা ফরিদাবাদ মাদরাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদিস, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস। ঢাকা শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিচার্স সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান মুফতি মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ। জামেয়া রাহমানিয়া ঢাকার প্রধান মুফতি, মুফতি হিফজুর রহমান। মাওলানা আজিজুল হক আল মাদানী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া দারুল আরকাম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সাজিদুর রহমান। দারুল উলূম হাটহাজারীর সিনিয়র মুফতি, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ। দারুল উলূম হাটহাজারীর মুহাদ্দিস, মাওলানা ওমর মেখলী। দারুল উলূম হাটহাজারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস, মুফতি জসিম উদ্দীন। দারুল উলূম হাটহাজারীর সিনিয়র শিক্ষক, মাওলানা আহমদ দিদার কাসেমী। নাজিরহাট বড় মাদসার মুহাদ্দিস ও নায়েবে মুহতামিম, মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী।

তার রচিত গ্রন্থাবলী : ১- تنظيم المخزون لأسماء العلوم والفنون ২- اصول حديث مع اصول تفسير ৩- قرآنى معلومات ৪- تنظيم الدراية فى الاحاديث الموضوعة ৫- تقرير ابوداؤد ৬- تقرير ترمذى ৭- منهاج البارى شرح بخارى جـ ১-২ ৮- ضياء البردة شرح قصيدة بردة

তাসাউফ তথা আধ্যাত্মিক পরিচয়: আল্লামা শেখ আহমদ মুফতিয়ে আজম, মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ. এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ.-এর ইন্তেকালের পর মাওলানা হাফিজুর রহমান (প্রকাশ পীর সাহেব) এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। যিনি কুতুবে আলম আল্লামা জমীর উদ্দীন রহ. এর খলিফা ছিলেন।

আল্লামা জমীর উদ্দীন সাহেব রহ. ইমাম রব্বানী রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী রহ. এর খলিফা ছিলেন। কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর পীর সাহেব হুজুর রহ. আল্লামা শেখ আহমদকে খেলাফত প্রদান করেন। তারপর দারুল উলূম হাটহাজারীর মুহতামিম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন ও খেলাফত লাভ করেন।

এমডব্লিউ/

সর্বশেষ সব সংবাদ