মাওলানা যিকরুল্লাহ খান।।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আমার বাড়ি। আমাদের বাড়ি থেকে দুই তিন মাইল দক্ষিণে, ফরিদগঞ্জ থানায় একটা প্রসিদ্ধ মাদরাসা আছে সেই আদিকালের। কারী ইবরাহীম সাহেব রহ.-এর এক শিষ্য ও খলিফা মাওলানা সফিউল্লাহ সাহেব শাসিয়ালি গ্রামে এসে প্রথমে বাড়ি করেন। পরে সেখানে তিনি একটা মাদরাসা করেন, যা শাসিয়ালি মাদরাসা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
এই মাদরাসায় ‘আলিফ বা তা সা’ দিয়ে আমার পড়াশোনার সূচনা হয়। সেখানে নূরানী পদ্ধতিতে পড়ানো হতো। সেখানকার উস্তাদরা ছিলেন কারী বেলায়েত সাহেব রহ.-এর ছাত্র। আমি তখন বেলায়েত সাহেব রহ.কে চিনতাম না।
হজরতের জামাতা যিনি আমার শ^শুর, মাওলানা মুবারক উল্লাহ তিনি এই মাদরাসায় পড়াতেন। যেহেতু তারা বেলায়েত সাহেবের কাছে পড়েছেন, ট্রেনিং নিয়েছেন, তাই তাদের পড়ানোর পদ্ধতিই অন্যরকম ছিল। জীবনের প্রথম বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করে যা যা পড়েছি এখনও মনে আছে। এখনও যেন কানে ভাসে। বসার আদব থেকে অনেক হাদিস, দোয়া-মাসায়িল।
আমার শ^শুর হলেন আমার দাদার আপন ভাগিনা। তিনিই আমাকে এই মাদরাসায় ভর্তি করালেন তার ভাগিনার মাধ্যমে। এই মাদরাসায় কারী বেলায়েত সাহেব রহ. আসতেন। এই গ্রামে তিনি এলে গ্রামজুড়ে মজমা বানিয়ে চলতো কুরআন শিক্ষার আসর। মাদরাসার মাঠে কুরআনের তালিম চলতো। মাঠ ছিল অনেক বড়। এই পুরো মাঠ ভরে যেতো সব বয়সী মানুষের দ্বারা।
আশপাশের গ্রামের মানুষ আসতো। নানা (কারী বেলায়েত রহ.) মাইক দিয়ে, কখনও খালি মুখে বা চুঙ্গা দিয়ে পড়াতেন। সেই দৃশ্য যেন এখনও চোখে ভাসে। দশ-বিশ দিন তিনি এখানে থাকতেন। সবার মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করতো। আমি এসব দেখে উৎসাহিত হতাম। তবে কারী বেলায়েত রহ.-এর অবস্থান ও মর্যাদা সম্পর্কে তেমন বুঝতাম না।
এরপর ফরিদাবাদ মাদরাসায় আসি আজ থেকে ৩৯ বছর আগে। কাফিয়া জামাতে ভর্তি হই। এখানে এসেও শুনতাম কারী বেলায়েত সাহেবের নাম। তিনি মাঝে মাঝে আসতেন। মক্তবের খোঁজখবর রাখতেন। এখানে দাওরা শেষ করে আমি দারুল উলুম দেওবন্দে এক বছর পড়ি। তারপর এখানে খেদমত শুরু হয়। খেদমতের বয়স এখন চলছে ৩২তম বছর। শিক্ষকতা জীবনের চতুর্থ বছরে এসে আমার বিয়ে হয় কারী বেলায়েত সাহেব হুজুরের নাতনির সঙ্গে। এখন তিনি হয়ে গেলেন আমার নানা শ^শুর। আমার দাদি, ফুফু ও মা এই সম্পর্ক স্থাপনের বিশেষ উদ্যোক্তা। আত্মীয় হিসেবে আগে থেকেই তো পরিচিত। আমার আহলিয়ার মাধ্যমে কারী বেলায়েত সাহেবের পরিবারের ব্যাপারে আরও জানাশোনা হতে থাকে।
হজরতের ছেলে মাওলানা কালীমুল্লাহ সাহেব একবার আমাদের ফরিদাবাদ মাদরাসায় এলেন। আমি যে তার ভাগনি জামাই এ ব্যাপারে তিনি জানতেন। আমাকে নামে চিনতেন। ফরিদাবাদ থাকি সেটাও জানতেন। তবে এর আগে সরাসরি সাক্