fbpx
           
       
           
       
কুরবানী ও অর্থনীতি: একটি অপরটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত
জুলাই ১৫, ২০২১ ৭:১৮ অপরাহ্ণ

মাওলানা আব্দুল্লাহ মাসুম (সিএসএএ)
শিক্ষক ও আলেম অর্থনীতিবীদ

শুরু কথা
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কুরবানী আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। মাত্র কিছু দিনের মধ্যেই ইনশাআল্লাহ কুরবানী এসে হাযির হবে। ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর অন্যতম নিদর্শন ‘পশু কুরবানী’। অন্যান্য ইবাদতের ন্যায় পশু কুরবানীও একটি বিশেষ ইবাদত।

পৃথিবীর শুরু হজরত আদম আ. থেকে নিয়ে প্রত্যেক নবীর যুগেই পশু কুরবানী ইবাদত হিসাবে আদায় হয়ে আসছে। হজরত ইবরাহীম আ. এর সময়ে এ ধারা আরো বেগমান হয়ে উঠে। আল্লাহর প্রতি মহব্বত, ঈমান, ইখলাসের সুদৃঢ়তা ও ইসলামের স্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করার অতুলনীয় প্রেরণা যুক্ত হয়। এ জন্য ইসলামের কুরবানীতে হজরত ইবরাহীম আ. এর অনুসরণ ও অনুকরণ প্রবল হয়ে উঠেছে।

এটি একটি আর্থিক ইবাদত। একজন মুসলিম সকল ইবাদতই একমাত্র আল্লাহর জন্য পূর্ণ ইখলাসের সাথে আদায় করবে। এর সাথে পার্থিব কোনো স্বার্থ হাসিল করার নিয়ত থাকবে না। মহান আল্লাহর আদেশ পরিপালনেই রয়েছে বান্দার বড় স্বার্থকতা। যদিও তাতে বাহ্যিক কোনো উপকার পরিলক্ষিত না হয়। তবে ‘পশু কুরবানী ইবাদতের’ সাথে অর্থ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

আল্লাহ সুবহানাহুর ফিতরত ও পদ্ধতি এমন, ইবাদাহ ও আদেশ-নিষেধ এমনভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, এতে বান্দাদের পার্থিব উপকারের সাথে সাথে কল্যাণও নিহিত থাকে। ইবাদত আদায়ে যা বান্দার লক্ষ্য থাকে না, তবে সেটি আপনা থেকেই অর্জন হয়ে যায়।

পশু কুরবানীর বিষয়টিও তেমনি। এর সাথে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়ণের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এই কুরবানী পালনের মধ্য দিয়ে অর্জন হয়। কুরবানীর পশু লালন-পালন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে রয়েছে অর্থনৈতিক বিশাল কার্যক্রম। এটি একটি বাস্তব বিষয় যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল প্রতি বছরই কুরবানীর মৌসুমে কুরবানীকে অর্থ ও অর্থনীতির বিপরীতে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা ও প্রোপাগান্ডা চালিয়ে থাকে। কুরবানীতে বহু পশু নিধন হয়। এতে অর্থনীতিতে বিশাল (!) ক্ষতি হয়ে যায়।

কুরবানী ইবাদত হওয়ার পাশাপাশি এর সাথে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির কী কী সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনীতিতে কুরবানী কিভাবে অবদান রাখে এ বিষয়গুলোর উপর সংক্ষেপে আলোকপাত করাই বক্ষ্যমাণ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

কুরবানীর পশু লালন পালন
কুরবানী কেন্দ্র করে গ্রামীণ বহু মানুষ ও পরিবার বছর জুড়ে গরু ছাগল লালন পালন করে থাকেন। কুরবানীতে পশু বিক্রয়ের মাধ্যমে বছরের বৃহৎ অংশ জুড়ে ‘পরিবারিক অর্থনীতি’ সক্রিয় থাকে। পশু খামারীদের অর্থনীতির একটি বৃহৎ কার্যক্রম কুরবানীর পশু কেন্দ্রিক। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, কুরবানীর ঈদ কেন্দ্র করে প্রতি বছর ৫লাখেরও বেশি খামারী গরু লালন পালন করে থাকে। (দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৭ জুলাই)

গরু লালন-পালনের সাথে জড়িয়ে আছে, গরুর খাদ্য, শ্রমিক, জায়গা ভাড়া ইত্যাদি। এসবের সাথে বহু মানুষের অর্থনীতি সম্পৃক্ত। মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রনালয়ের তথ্যানুযায়ী গত বছর (২০১৯) কুরবানীযোগ্য গবাদী পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৮ লক্ষ। (প্রাগক্ত)

কুরবানীর উদ্দেশ্যে এই পশুগুলো বিক্রয় হবে। শহরের হাঁটে আসবে। অগণিত গ্রামীণ মানুষের অর্থনীতির ভাগ্যাকাশে জল্বে উঠবে তারার মেলা।

ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ
দেশের ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের একটি অন্যতম ক্ষেত্র ও গ্রাহক হল খামারীগণ। এর মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পৃক্ত। ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করে খামারীগণ পুরো বছর কুরবানীর পশু লালন পালন করেন। এরপর কুরবানীর মৌসুমে বিক্রয় করে ঋণ পরিশোধ করেন। এই পরিশোধিত ঋণ থেকে ব্যাংক, ডিপোজিটরসহ সকলেই উপকৃত হন।
উল্লেখ্য, সাধারণত এই ক্ষুদ্র ঋণগুলো সুদভিত্তিক হয়ে থাকে। সুদ টেকসই ও কল্যাণধমীর্ অর্থনীতির জন্য প্রতিবন্ধক। তাই এক্ষেত্রে ইসলামী বিনিয়োগ ব্যবস্থা প্রয়োগ করা আবশ্যক।

পশুর খাদ্য
বন, ঘাস, ভূষি ইত্যাদি গরুর খাদ্যের ব্যবসা কুরবানীর মৌসুমে শহরের অলি-গলিতে জমে উঠে। যে বস্তুগুলো পুরো বছর অবহেলায় পড়ে ছিল, সেটিই তখন বিশেষভাবে মূল্যায়িত হয়ে উঠে। অর্থনীতিতে অবদান রাখে।

যাতায়াত বাহন
কুরবানী উপলক্ষ্যে গ্রাম থেকে শহরে গরু নিয়ে আসার জন্য ট্রাকের ব্যবহার বেড়ে যায়। শহরে হাঁট থেকে বাসায় গরু নেয়ার জন্য পিকআপের ব্যাবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। কুরবানী উপলক্ষ্যে এই বিশেষ দুটি যানের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চাঙ্গা হয়ে উঠে। এছাড়া কুরবানী উপলক্ষে শহরের মানুষ গ্রামে যাওয়ার প্রবণতা অন্য সময়ের চেয়ে অধিক পরিলক্ষিত হয়। এক তথ্য মতে, এ সময় পরিবহন খাতে সাকুল্যে দুই হাজার কোটি টাকার বাড়তি ব্যবসা বা লেনদেন হয়ে থাকে। (বিডি নিউজ ২৪ ডট কম, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬)

পশুর হাঁট
প্রতি বছর কুরবানী উপলক্ষে তৈরি হয় অগণিত হাঁট। শুধু ঢাকা শহরেই দুই সিটি কপোর্রেশনে গত বছর প্রায় ৪০টি হাঁট গড়ে উঠেছিল। এখানে গড়ে উঠেছে হাঁট লীজ কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক বিশাল কার্যক্রম। যদিও করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর হাঁটের সংখ্যা কমে যাবে।

কুরবানীর পশু লেনদেনে টাকার পরিমাণ
গত বছরের তথ্যানুযায়ী, কুরবানীযোগ্য ১ কোটি ১৮ লক্ষ গবাদি পশুর মাঝে গরু-মহিষ ছিল ৪৫ লক্ষ ৮২ হাজার। ছাগল-ভেড়া ছিল ৭২ লক্ষ। (প্রথম আলো, ১৬ জুলাই, ২০১৯)

গরুর গড় মূল্য ৩০ হাজার টাকা ধরা হলেও শুধু কুরবানী উপলক্ষে গরুর লেনদেন হয়েছে ১৩ হাজার ৭শ’ ৪৬ কোটি টাকার।
ছাগল বা খাশির গড় মূল্য ৩ হাজার টাকা ধরা হলে ছাগলের লেনদেন হয়েছে ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার লেনদেন। অর্থাৎ পশু কুরবানীতে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হয়েছে। প্রতি বছর মাত্র একটি মৌসুমেই ৪-৫ দিনের মধ্যে এই বিশাল অর্থনৈতিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। যা সামগ্রিক অর্থনীতির পক্ষে বিরাট ইতিবাচক ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

কুরবানীর পশু যবাই ও মাংস সংগ্রহ
কুরবানীর দিন কুরবানীর পশু যবাইয়ের পর মাংস কাটা, চামড়া বের করা ইত্যাদি কাজের সাথে কসাই ভাইদের অর্থনীতি জড়িত। অগণিত মৌসুমী কসাইগণ এ উপলক্ষে গ্রাম থেকে শহরে আসেন। ২/৩ জন মিলে একেকটি গরু কাটাকাটি করে দেন। কুরবানী মৌসুম তাদের অর্থনৈতিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে। গড়ে একেকটা গরু কাটতে তারা ৪-৫ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ হিসাবে নিয়ে থাকেন। এটি গরুর সাইজ ও সংখ্যার উপর নির্ভর করে।

গোশত বণ্টন
কুরবানীর পশুর গোশত ইসলামী বিধান অনুযায়ী তিন ভাগে বণ্টন করতে হয়। এক ভাগ, নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের জন্য, এক ভাগ দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য। সারা বছর যাদের এক টুকরো গোশত খাওয়ার সুযোগ হয় না অথবা হলেও কম হয়, কুরবানী তাদের এই অভাব পূরণ করে দেয়। অভাবী মানুষের ভালো আহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।

মশলায় ব্যবসা
কুরবানীর পশুর মাংস আমিষ জাতীয় খাদ্যের উপাদান। এটি রান্না করতে প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত নানা মশলা দ্রব্যের। শুধু কুরবানী উপলক্ষ্যে এক্ষেত্রে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার মসলার ব্যবসা হয়ে থাকে জানা গেছে।

চামড়া শিল্প
বাংলাদেশের রপ্তানীযোগ্য অন্যতম পণ্য হল-পশুর চামড়া। বিশ্ববাজারে এ দেশের সব ধরনের চামড়ার চাহিদা রয়েছে। বিশ্বে প্রথম শ্রেণীর চামড়া ও চামড়াজাত প্রস্তুতকারী দেশ হিসাবে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য। শুধু তাই নয়, বিশ্বে চামড়া খাতে রপ্তানীর শতকার দুই ভাগ হচ্ছে বাংলাদেশের। চর্মজাত সামগ্রী তথা জুতা, স্যান্ডেল, জ্যাকেট, মানিব্যাগ, ওয়ালেট ব্যাগ ইত্যাদি রপ্তানী করে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বেশ ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

চামড়া শিল্পের রপ্তানী আয়
বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের পর সবচেয়ে বেশি রপ্তানী হয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। অংকে এর পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার। এর আভ্যান্তরীণ বাজার প্রায় ২০০ কোটি ডলারের। তাই সম্ভাবনা খাত হিসেবে বিবেচনা করে ২০১৭ সালে চামড়াকে ‘বার্ষিক পণ্য’ হিসাবে ঘোষণা প্রদান করে সরকার। আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের চামড়া শিল্পের রপ্তানী আয় ছিল ১০১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। যা নিঃসন্দেহে অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে।

বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, চামড়া সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মাণদণ্ড নিশ্চিত করা গেলে এবং সরকার এর প্রতি আন্তরিক হলে বছরে ৫শ’ কোটি ডলারের চামড়া পণ্য রপ্তানী সম্ভব। (বৈশাখী টিভি অন লাইন, ০৫ জানুয়ারী, ২০২০)

এই বৃহৎ শিল্পের অধিকাংশ সংগ্রহই হয়ে থাকে কুরবানীর সময়। বাংলাদেশ ট্যানার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে পুরো বছর যে গরু জবাই হয়, এর প্রায় অর্ধেকই হয়ে থাকে কুরবানীর সময়। তাঁরা আরো জানিয়েছেন, বছরে মোট চামড়া সংগ্রহ হয় ২২ কোটি বর্গফুট। এর মাঝে ১০ কোটি বর্গফুটই সংগ্রহ হয় কুরবানীর মৌসুমে। (দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৭ জুলাই)

চামড়া শিল্পে কর্মরত অগণিত মানুষ
শিল্প মন্ত্রনালয়ের তথ্য মতে, সাভারে চামড়া শিল্প নগরীতে প্লটের সংখ্যা ২০৫টি, শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ১১৫টি, চালু ট্যানারি সংখ্যা ১২৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানে ৬ লক্ষের অধিক মানুষ কর্মরত। তাদের অর্থনৈতিক জীবন নির্ভর করে এই চামড়া শিল্পের উপর।

চামড়ার মূল্য
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, চামড়া বিক্রয় করা হলে (টাকা বা এমন কিছুর বিনিময়ে যা অক্ষুণ্ণ রেখে এর থেকে ফায়দা নেয়া যায় না) লব্ধ অর্থ পুরোটাই যাকাতের মতো দরিদ্রদের দান করে দিতে হয়। নিজে ব্যবহার করা যায় না। এখান থেকে শুধু এই চামড়ার টাকা দিয়ে অথবা চামড়া বিক্রয় লব্ধ আয় থেকে দেশের অভাবী মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সারা বছর পড়ালেখার ব্যবস্থা হয়। আমাদের যাকাত, এরপর কুরবানীর সময় চামড়া এই দুই আয় থেকে বহু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পুরো বছরের শিক্ষার ব্যবস্থা হয়ে যায়।

উৎসব অর্থনীতি

বর্তমান সময়ে নানা ভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য নানা কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করা হয়। এর মধ্যে একটি ‘উৎসব অর্থনীতি’। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মেলা, পরিদর্শন ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। ঢাকা শহরে বাণিজ্য মেলা, গ্রামীন নববর্ষ মেলা ইত্যাদির মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। ইসলামে কুরবানী একটি অকৃত্রিম উৎসব অর্থনীতি। এটি যদিও একটি ইবাদত। তবে হজের মতো একে কেন্দ্র করেও যুগে যুগে নানাভাবে উৎসব অর্থনীতি গড়ে উঠেছে।

শুধু গরু বা কুরবানীর পশু নয়, শপিং, কেনাকাটা ইত্যাদি অর্থনৈতিক কার্যক্রমও এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া আরো বিভিন্ন দিক থেকে কুরবানীর সাথে অর্থনীতির নানা কার্যক্রম জড়িয়ে আছে। সামগ্রিকভাবে যা দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে রাখছে।

আমরা মনে করি, এ খাতে যদি দূনীর্তি, ঘাটে ঘাটে চাঁদা, অনৈতিক দালালী, চামড়া মূল্য সিন্ডিকেট, চামড়া পাচার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রনকল্পে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তাহলে কুরবানী একটি ‘উৎসব অর্থনীতি’ হয়ে দেশের জিডিপিতে আরো উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে।

তবে মনে রাখতে হবে, এসব উপকার কেবলই পার্থিব সংশ্লিষ্ট। পশু কুরবানী একটি খালেস শতভাগ ইবাদাহ। এটি আদায়ে এসব অর্থনৈতিক ফায়দা ও কল্যাণ লাভ কোনোভাবেই উদ্দেশ্য না হতে হবে। কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরিপূর্ণ ইখলাসের সাথেই এই ইবাদত আঞ্জাম দিতে হবে। যারা কুরবানীর উদ্দেশ্যে গরু লালন করবে, বিক্রয় করবে, যে যেভাবে এর সাথে যুক্ত হবে সকলের উদ্দেশ্য ও নিয়ত থাকবে-মানুষকে কুরবানী আদায়ে সহযোগিতা করা। বাকি সকল বৈষয়িক ফায়দা এমনিতেই উসূল হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

লেখক : সহকারী মুফতী, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা

এমডব্লিউ/

সর্বশেষ সব সংবাদ