fbpx
           
       
           
       
আবারও বাজছে করোনার বজ্রধ্বনি: মসজিদ মাদরাসায় প্রস্তুতি কতটুকু?
মার্চ ২২, ২০২১ ৯:০৭ অপরাহ্ণ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতে যাচ্ছে। এতোমধ্যেই বেজে গেছে করোনার বজ্রধ্বনি। গতবছর করোনা আতঙ্কের কিছুদিন পর থেকেই বন্ধ ছিলো মসজিদের দরজা। রমজানে মসজিদগুলোতে হয়নি জৌলুসপূর্ণ তারাবি। সীমিত মুসুল্লি ছিলো জুমার নামাজেও। শুরুতেই সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রগুলো বন্ধ হলেও পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায় মাদরাসাগুলোও। যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি মাদরাসাগুলোর বার্ষিক পরীক্ষাও। আগে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় গত বছর বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু এ বছর আবারো করোনারা বজ্রধ্বনি বাজলে কতটুকু সতেচন আছে মসজিদ-মাদরাসাগুলো। এসব বিষয় নিয়ে আওয়ার ইসলামের সাথে আলাপ করেছেন একাধিক মসজিদের ইমাম ও মাদরাসার মুহতামিম। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের নিউজরুম এডিটর মোস্তফা ওয়াদুদ


রাজধানীর উত্তরা এলাকার বাইতুন নুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ইসলামে ছোঁয়াছে কোন রোগ নেই। তারপরও সরকার যেহেতু জনগণের ভীড় চাচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপর তাকিদ দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমরা সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের মসজিদ মাদরাসাগুলো পরিচালনা করছি। আসন্ন রমজানকে উপলক্ষ করে আমরা আমাদের মসজিদ মাদরাসাগুলোতে করোনার সচেতনতায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করছি। মিডিয়াতেও এটা প্রচারিত হয়েছে যে, মসজিদ মাদরাসায় সবচেয়ে বেশি মানা হয় সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি।

যাত্রাবাড়ী সায়েদবাদের জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুন নূর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, করোনা সচেতনতায় সবচেয়ে বেশি সচেতন মাদরাসা-মসজিদ এর সাথে সম্পৃক্ত ওলামায়ে কেরাম।

সরকার যেভাবে আমাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য দিক-নির্দেশনা দিয়েছে আমরা শুরু থেকেই সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। প্রতিদিন নিয়মিত হাত ধোয়া হয় এখানে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা চলাফেরা করে।

কথা বলেছিলাম রাজধানীর মানিকনগরে অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া জহিরউদ্দিন আহমদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা জুবায়ের আহমদের সঙ্গে।

তিনি জানান, আমরাই করোনার সচেতনতা সবচেয়ে বেশি অবলম্বন করছি। এবং করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা। আবার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সরকারের বৃত্তি দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করছে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি মসজিদ-মাদরাসাগুলো যদি সচল থাকে তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে আমরা সকল আজাব গজব থেকে বেঁচে থাকতে পারবো। তাই সরকার সবকিছুর পরেও করোনার দোহাই তুলে যেনো মসজিদ-মাদরাসার কার্যক্রমকে সংকুচিত না করে দেয়, আমরা সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানাই।

সাভারের বাইতুল করিম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আদনান মাসউদ বলন, করোনার বজ্রধ্বনি রোধে যতটুকু সচেতন হওয়া দরকার আমরা ঠিক ততটুকুই সচেতন আছি। প্রতি জুমআর বয়ানে আমি আমার মুসল্লিদের বলে থাকি, আপনারা সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। কখনোই সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলাফেরা করবেন না। করোনার সচেতনতা হিসেবে আমাদের মসজিদে সকল মুসল্লিদের জন্য নিয়মিত হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা আছে।

মসজিদের পক্ষ থেকে বলে দেয়া আছে, সকল মুসল্লিদের আলাদা জায়নামাজ বাসা থেকে নিয়ে আসার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ! আমার সকল মুসুল্লিয়ানে কেরাম বাসা থেকে আলাদা জায়নামাজ দিয়েই মসজিদে আসেন ও নিজ নিজ জায়নামাজে নামাজ আদায় করেন।

এমডব্লিউ/