fbpx
           
       
           
       
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত ভালোবাসা আসলে কী?
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

শরিফুল ইসলাম নাঈম।।

মানুষকে আল্লাহ জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। একজনের প্রতি অপরজনের আকর্ষণ, ভালোবাসা তৈরি করে দিয়েছেন। ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। সৃষ্টির উপাদানেই ভালোবাসার উপাদান রয়েছে। এ জন্যই দেখা যায় অবলা হিংস্র প্রাণীগুলোও নিজের বাচ্চাকে মায়া মমতায় আগলে রাখে। আর মানুষ তো সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা থাকাটা স্বাভাবিক, মনুষ্যত্বের প্রতিক।

একজনের প্রতি আরেকজনের টান, আকর্ষনকে ভালোবাসা বলে। এক মনীষী বলেছেন প্রাকৃতিক ভাবে একজন মানুষের প্রতি এই টান, আকর্ষন চার কারণে হতে পারে। ১.বাহ্যিক রুপ ২. বাহ্যিক গুণ ৩. দ্বীন মানা ৪. অনুগ্রহ করা। এই চার গুণ যার মধ্যে যতটুকু পাওয়া যাবে সে ততটুকুই ভালোবাসার যোগ্য বিবেচিত হবে । তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বীনদারিটাই ভালোবাসার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। দ্বীনদারিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠা ভালোবাসা স্হায়ী হয়। হাদীসে এসেছে, যে ব্যাক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসে, ঘৃণা করে, আল্লাহর জন্য দান করে, আল্লাহর জন্যই দান করা থেকে বিরত থাকে তার ঈমান পরিপূর্ণ । (আবু দাউদ :৪৬৮১) অন্য এক হাদীসে বলা হয়েছে হাশরের কঠিন দিনে সাত শ্রেনীর লোককে আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে অন্যতম আল্লাহর জন্য ভালোবাসা স্হাপনকারীরা। (জামিউস সাগীর:৪৬৩১)

তাছাড়া স্রেফ চেহারা, আচরণ বা অনুগ্রহের ভিত্তিতে গড়ে উঠা ভালোবাসা ঠুনকো হয়ে থাকে। কারণ সেখানে মৌলিক ভিত্তিই ঠুনকো, অস্হায়ী। ইরশাদ হয়েছে, দুনিয়ার সবকিছু ধ্বংসশীল। (সূরা রহমান:২৬)

এ যুগের অধিকাংশ ভালোবাসা হয়ে থাকে বাহ্যিক রুপ দেখে। সেসব ভালোবাসায় স্নিগ্ধতা, পবিত্রতা থাকে না বললেই চলে। স্হায়িত্বও কম হয়ে থাকে।

তাছাড়া আজকাল তো যুবক যুবতীদের জৈবিক চাহিদা পূরণের অবৈধ যত সম্পর্ককে ভালোবাসা নাম দিয়ে ভালোবাসা শব্দটিকেই কলুষিত করে ফেলা হয়েছে। ভালোবাসা শব্দটা শুনলে সর্বপ্রথম আমাদের মাথায় অবৈধ সম্পর্কের কথাই আসে। এসব অবৈধ সম্পর্কের কারণে সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ছে। পারিবারিক বন্ধন আজ দূর্বল হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অবৈধ সম্পর্ক বিয়ের পূর্বে যেমন হচ্ছে, বিয়ের পরেও হচ্ছে; যেটাকে পরকীয়া বলা হয়। এসবই ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত। যা নিকৃষ্ট ও অবৈধ।

একই সাথে এগুলো সমাজ ব্যবস্হার জন্য হুমকি। ইরশাদ হয়েছে, তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হয়ো না। নিশ্চয়ই তা অত্যন্ত অশ্লীল কাজ এবং তা নিকৃষ্ট পথ। (সূরা বনী ইসরাইল:৩২)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, জল স্হলে যত বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছে সব মানুষের কৃতকর্মের কারণে (আল্লাহ বিপর্যয় দিয়ে থাকেন) মানুষের কৃতকর্মের কিছু শাস্তি আস্বাদন করানোর জন্য। হয়তো এতে তারা রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। (সূরা রুম:৪১)

প্রকৃত ভালোবাসা তো হয় সেটা যা গড়ে উঠে দ্বীনের ভিত্তিতে। তাতে থাকে পবিত্রতা ও স্বর্গীয় সুখ। এটা পরিপূর্ণ রুপে পাওয়া যায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসায়। মা বাবা, বিবাহিতা স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজন ও মুমিনদের পরস্পরের পবিত্র ভালোবাসায়।

তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সর্বোচ্চ ভালোবাসতে হবে। সবকিছুর উপরে এই ভালোবাসাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তা না হলে খাঁটি মুমিন হওয়াই সম্ভব না। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তাঁর কাছে স্বীয় পিতা মাতা, সন্তানাদি ও সকল মানুষ থেকে অধিক ভালোবাসার পাত্র না হবো। (সহীহ বুখারী:১৫)

এছাড়া বাকী অন্যদেরকে ভালোবাসাও আল্লাহ ও রাসুলের ভালোবাসারই ফল। কেননা মা বাবা আত্মীয় স্বজন স্ত্রী সন্তানদের ভালোবাসার কথা কুরআন ও হাদীসেই আছে। ইরশাদ হয়েছে, (জ্ঞানী তারা) যারা এমন সম্পর্ক বজায় রাখে যা বজায় রাখতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্বীয় রবকে ভয় করে ও নিকৃষ্ট আমলনামাকে ভয় পায়। (সূরা রাদ :২১)

আজকাল ছেলেমেয়েরা বন্ধু বান্ধবকেই সবচেয়ে আপন মনে করে, বেশি ভালোবাসে। বিবাহিতরাও নিজের স্ত্রীর তুলনায় সহকর্মী, কলিগদেরকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। ফলে দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। পরিণতিতে সংসার ভাঙনের শিকার হয়। তখন তাদের সন্তানগুলো মা বাবার তারবিয়ত বঞ্চিত হয়। এরাই সমাজে সব ধরণের বিশৃঙ্খলার মূলে থাকে। এভাবেই সমাজ পারিবারিক বন্ধন হীন হয়ে পড়ছে। সমাজ ধ্বংসের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। তাই আসুন আমরা সুস্থ স্বাভাবিক ও পবিত্র ভালোবাসার চর্চা করে সমাজকে পবিত্র ও কলুষমুক্ত করি।

লেখক: কওমি শিক্ষার্থী, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক।

ওআই/আবদুল্লাহ তামিম

সর্বশেষ সব সংবাদ