187901

মহামারির পরবর্তী কেন্দ্রস্থল যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আওয়ার ইসলাম: যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দ্রুত গতিতে বাড়ছে। সবগুলো অঙ্গরাজ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনার ভয়াবহতা। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বৈশ্বিক এই মহামারির পরবর্তী কেন্দ্রস্থল হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সূত্রমেতে জানা যায়, স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুরর দিক থেকে ইউরোপকেও ছাড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও ইতালির পর যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে তৃতীয় দেশ যেখানে দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। তাই দেশটি বৈশ্বিক এ মহামারির পরবর্তী কেন্দ্রস্থল হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ৭০০ ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫৫ হাজার। চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৭৯ জন। তবে চিকিৎধীন ৫৩ হাজার ৭৭৮ জনের মধ্যে ১ হাজার ১৭৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে ৮৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের মৃত্যুহার বেশি।

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের চেয়ে সেখানেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশি। সে কারণেই নিউ ইয়র্কে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিউ ইয়র্ক মেট্রো অঞ্চল থেকে বের হয়ে অন্য কোন অঙ্গরাজ্যে গেলে প্রত্যেককে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার এই ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। করোনা ভাইরাস টাস্ক ফোর্সের রেসপন্স কো-অর্ডিনেটর দেবেরোহ বার্কস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত মানুষের শতকরা ৬০ শতাংশ নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা সত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গোটা দেশে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু করার কথা জানান। ট্রাম্প বলেন, তিনি চান ইস্টার সানডের আগে অর্থাৎ ১২ এপ্রিলের মধ্যে সব খুলে দেয়া হোক। খুব তাড়াতাড়ি কাজে ফিরে যেতে হবে। তা না হলে অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে সতর্ক করেন ট্রাম্প।

তবে এ ব্যাপারে করোনা ভাইরাস টাস্কফোর্সের ওপর নির্ভর করবেন তিনি। দেশের কোন কোন অঞ্চল করোনায় বেশি বিপদজনক সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, আগামী কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঞ্চলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আরো বাড়বে। এই সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচিত হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

-এ

ad