বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘মাওলানা উসমান ফয়েজীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়’ মাওলানা মাসুদ আজহারের খোঁজে ৭০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা মাওলানা উসমান ফয়েজীর ইন্তেকালে হেফাজতের শোক বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নিয়ে হেবা আইন পাস করতে হবে: জমিয়ত ‘দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকট ও দুর্নীতি-দলীয়করণ বন্ধে সরকারের সদিচ্ছা দরকার’ বাজারে আসছে শায়খ আহমাদুল্লাহর নতুন বই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সময়ক্ষেপণ মেনে নেওয়া হবে না: গাজী আতাউর রহমান ২০২৭ সালের রমজান শুরু হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের 'সীরাতুন্নবী (সা.) ফেস্টিভ্যাল ২০২৬' ইরানি হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে শত শত ভবন ও ড্রোন ধ্বংস 

মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিণতি ভয়াবহ হবে: বাদশা সালমান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রকিব মুহাম্মাদ
আওয়ার ইসলাম

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। তিনি  বলেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির খবর অনুযায়ী,  গত মঙ্গলবার ট্রাম্প তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিষয়ে বেশ কয়েকজন আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাদশা সালমানের সাথে ট্রাম্পের কথা হয়।

এসময় বাদশাহ সালমান বলেন, মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। পাশাপাশি মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিশীলতা বৃদ্ধি পাবার আশঙ্কাও রয়েছে। ফিলিস্তিনে শান্তি নষ্ট হবে বলেও ট্রাম্পকে সতর্ক করেন তিনি।

বাদশাহ সালমান বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সৌদি সরকারের পূর্ণ সমর্থণ রয়েছে। তাদের অধিকার ও আন্দোলনকে সৌদি সরকার সমর্থণ করেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সৌদির এই নীতি পরিবর্তন করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, বাইতুল মাকদাস পুরো পৃথিবীর মুসলমানদের আবেগ ও অনুভূতির জায়গা। এখানে দূতাবাস স্থানন্তর করে মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগ বাড়ানো ঠিক হবে না।

আরব নেতাদের প্রায় সবাই তাকে এই সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন৷ তাদের মতে, এর ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে হিংসা দেখা দিতে পারে এবং স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে৷

এ প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, দূতাবাস স্থানান্তর করার পরিণতি খুব খারাপ হবে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করবে বলে জানান জর্ডানের রাজা।

এ অঞ্চলের পরিস্থিতিকে জটিল করে না তুলতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল সিসি।

এদিকে, মিডল ইস্ট মনিটর বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে তারা জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করবে না।

ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৭-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট।

সাক্ষাৎকারে ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট বলেন, আমাদের দূতাবাস তেল আবিবেই বহাল থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করবে না।

ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট বলেন, এ ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব রয়েছে। জেরুজালেমের বিষয়ে অবশ্যই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে আলোচনা হতে হবে। এই আলোচনার আগেই এ ব্যাপারে নতুন অবস্থান নেওয়া  ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ভালো কিছু নয়।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করতে ১৯৯৫ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে মার্কিন কংগ্রেস। তখন থেকে এ পর্যন্ত কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেননি।

ওই আইনের বিধান অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের সামগ্রিক ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের। চাইলে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় প্রতি ছয় মাস পর পর বিষয়টি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ আইনি সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। ফলে তেল আবিবেই থেকে গেছে মার্কিন দূতাবাস। সূত্র: আরব নিউজ

আরআর

জেরুজালেম ইস্যুতে ওআইসি’র জরুরি বৈঠক ডাকলেন এরদোগান


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ