নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট আলেম, শায়খে কাতিয়া হজরত মাওলানা আমিন উদ্দীন (রহ.)-এর বড় সাহেবজাদা এবং ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ইসলামিয়া কাতিয়া মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সিলেট নগরীর আল-হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। সম্প্রতি পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা মুকাররমায় অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দেশে ফিরে সিলেটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ ছিলেন শায়খে কাতিয়া (র.)-এর বড় সাহেবজাদা। পিতার ইন্তেকালের পর তাঁর জানাজার ইমামতিও করেন তিনি। পরে পিতার প্রতিষ্ঠিত ও ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ইসলামিয়া কাতিয়া মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইলম, শিক্ষা ও দ্বীনি খেদমতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
শায়খে কাতিয়া হযরত মাওলানা আমিন উদ্দীন (রহ.) ছিলেন সিলেট অঞ্চলের প্রভাবশালী বুজুর্গ আলেম। তিনি শায়খুল ইসলাম সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানী (র.)-এর ছাত্র ও মুরিদ ছিলেন এবং শায়েখ ডা. আলী আছগর নূরী চৌধুরী (র.)-এর খলিফা ছিলেন।
পিতার ইলমি ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার ধারণ করে হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ দীর্ঘদিন কাতিয়া মাদরাসার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে মাদরাসাটির শিক্ষা ও দ্বীনি কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
স্বজন, ছাত্র ও পরিচিতদের কাছে হাজী ইমদাদুল্লাহ ছিলেন শান্ত, বিনয়ী ও কোমল স্বভাবের মানুষ। তাঁর কথাবার্তা ও চালচলনে ছিল সরলতা। ছাত্রদের সঙ্গে ছিল আন্তরিক ও স্নেহপূর্ণ আচরণ। নীরবে দ্বীনি খেদমত করে যাওয়া এই আলেম বড় কোনো প্রচার বা প্রদর্শনের পরিবর্তে নিজের দায়িত্ব, মাদরাসা ও ছাত্রদের নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।
হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহর ইন্তেকালে সিলেট ও সুনামগঞ্জের দ্বীনি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে একদিকে যেমন একজন প্রবীণ আলেম ও মাদরাসা-ব্যক্তিত্বকে হারাল দ্বীনি অঙ্গন, অন্যদিকে শায়খে কাতিয়া (র.)-এর ইলমি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ উত্তরসূরিকেও হারাল কাতিয়া মাদরাসা।
আইও/