শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ ।। ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৯ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা হজের মিকাত আল-জুহফায় মিলল ১৭০০-এর বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ‘বিদ্যুৎখাতে নীতি দুর্বলতার বোঝা জনগণের ওপর চাপানো যাবে না’ স্মৃতির ফ্রেমে আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. ‘লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ব্যতীত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’ বর্তমান সমাজে বিয়েকে ক্রমেই কঠিন করে তোলা হচ্ছে কালভার্ট নির্মাণকালে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু আগস্টের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ শুরু করবে সরকার: ববি হাজ্জাজ আগামী ৭ জুন রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু

রোহিঙ্গা শিবিরে ‘মুখোশধারী’ আতঙ্ক, কয়েক সপ্তাহে ৩ জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম : বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এখন মুখোশধারী আতঙ্ক।গত কয়েক সপ্তাহে পাওয়া গেছে তিন জন রোহিঙ্গার মৃতদেহ৷ নিহতদের পরিবার বলছে, প্রত্যেককেই গভীর রাতে মুখোশধারী কিছু লোক এসে ধরে নিয়ে যায় এবং কয়েকদিন পরই পড়ে থাকে গলাকাটা লাশ৷

অস্থায়ী শিবিরে আশ্রিতদের অনেকের দাবি, প্রায় রাতেই রাস্তায় রহস্যজনকভাবে ঘুরতে দেখা যায় মুখোশধারীদের৷

গত কিছুদিনে যে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে, তাঁদের একজনের নাম মোহাম্মদ আইয়ুব৷ গত ১৪ জুন রাতে ২০-২৫ জন মুখোশধারী এসে তুলে নিয়ে যায় তাঁকে৷ ২৫ জুন অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরের কাছেই পাওয়া যায় ৩০ বছর বয়সি আইয়ুবের লাশ৷ তাঁর গলা কাটা ছিল, হাত ছিল বাঁধা৷

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আইয়ুবের স্ত্রী নূর আনকিস বলেছেন, ‘ওরা আমাকে আর আমার বোনকে পিটিয়ে ওকে (আইয়ুব) বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়৷’ আইয়ুব-আনকিসের দুই শিশু সন্তান তখন ঘুমাচ্ছিল৷

রাতের আঁধারে মুখোশধারীরা তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আইয়ুবের আর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না৷ অবশেষে বাংলাদেশের সব মুসলমান যখন রোজা শেষে ঈদের আনন্দের অপেক্ষা করছেন, তখন স্বামীর লাশ পান আনকিস৷

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার আহবান জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার

আইয়ুবের স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামী কুতুপালং আশ্রয় শিবিরের মাদকসেবীদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছিলেন৷

আইয়ুবের অপহরণ এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ তবে হত্যাকারী, হত্যার কারণ এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি৷

তাই কুতুপালং অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে সবার রাত কাটছে আতঙ্কে৷ এক তরুণ প্রতি রাতের আতঙ্ক সম্পর্কে জানালেন এভাবে, ‘এক রাতে আমি যখন দুই সন্তান আর স্ত্রী-র সঙ্গে ঘুমাচ্ছি, ওরা এসে আমার নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করল৷’

অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলার কথা জানিয়ে আতঙ্কিত তরুণ আরো বলেন, ‘যেই এক ঘণ্টা ওরা আমার ঘরের বাইরে অপেক্ষা করেছিল সেটা আমার জীবনের দীর্ঘতম এক ঘণ্টা৷’

সূত্র : ডয়েচে ভেলে


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ